
বোস্টনের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সুদূর রিও ডি জেনিরোতেও। তাতে হয়তো অনেকেই ধন্ধে পড়ে যেতে পারেন এই ভেবে যে জার্মানিকে হারিয়ে ব্রাজিল শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। টাইব্রেকারে জার্মানদের হারিয়ে প্যাারাগুয়ে পেরিয়েছে শেষ বত্রিশের বাধা। বোস্টনের অঘটনের পর রিও ডি জেনিরোতে যা হয়েছে, তাতে অনেকে চাইলে ব্রাজিলের বুকে একখণ্ড প্যারাগুয়ে বলতেই পারেন।
রিও ডি জেনিরো শহরের এস্তাসিও এলাকা কেন গত রাতে ‘দ্বিতীয় প্যারাগুয়ে’ মনে হয়েছে, সেটার পেছনে ছোট্ট এক গল্প রয়েছে। বোস্টনে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের হোসে কানালে শটের পরই জার্মানির বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর এস্তাসিওর ‘দেপোসিতো দু বারবা’ নামক বারে বিয়ার নিয়ে শুরু হয় উদযাপন। জেবিএল স্পিকারের গানে এমন উৎসবের আয়োজন করেন ৪০ প্যারাগুয়ান। এই দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী সার্জিও এস্কোবার। ১ বছর ৮ মাস বারের ঠিক বিপরীতেই থাকছেন তিনি। সহকর্মীদের মতো নির্মাণকাজ করতে ব্রাজিলে এসেছেন।
এস্কোবারের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি রিও ডি জেনিরোর সিউদাদে নোভা এলাকায় মার্কিন দূতাবাসের নতুন ভবন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত। গত রাতে জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচটি রিওর এস্তাসিও এলাকার বারে বসে প্রজেক্টরে দেখছিলেন এস্কোবার ও তাঁর সহকর্মীরা। প্যারাগুয়ের জার্সি পরে খেলা দেখার সময় সুদূর বোস্টনে থাকা খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। জার্মানির বিদায় নিশ্চিতের পর রিওর প্যারাগুয়ান সমর্থকেরা জার্সি উড়িয়ে উদযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর প্যারাগুয়ের সমর্থকেরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। এস্কোবার বলেন, ‘ম্যাচটা খুবই কঠিন ছিল। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণভাগও সামলানো হচ্ছিল দারুণভাবে। এমন কঠিন লড়াইয়ের কথাই ভেবেছিলাম। ১–০ ব্যবধানে জিতব—ভালোভাবে রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে। কিন্তু যেভাবে জিতেছি, সেটা আরও অসাধারণ।’
বোস্টনে গত রাতে প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে প্রথম গোলের দেখা মেলে। ৪২ মিনিটে গোল করেন প্যারাগুয়ে ফরোয়ার্ড হুলিও এনসিসো। তাঁকে গোল করতে সহায়তা করেছেন মাতিয়াস গালার্সা। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে শেষ হলেও জার্মানির সমতায় ফিরতে বেশি সময় লাগেনি। ৫৪ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন কাই হ্যাভার্টজ। এই গোলের পরও জার্মানি-প্যারাগুয়ে লড়েছে আরও ৬৬ মিনিট।
টাইব্রেকারে গড়ালে প্যারাগুয়ে ৪-৩ গোলে হারিয়ে দেয় জার্মানিকে। স্নায়ুর পরীক্ষায় শুরুতেই হাভার্টজের ডান দিকে নেওয়া শট মাথার ওপর হাত তুলে দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে প্যারাগুয়েকে আত্মবিশ্বাস এনে দেন হিল। এরপর প্যারাগুয়ের মাউরিসিও এবং জার্মানির অধিনায়ক ইয়োশুয়া কিমিখ গোল করেন। প্যারাগুয়ের অধিনায়ক গোমেস ও জার্মানির জামাল মুসিয়ালাও নিজেদের শটে লক্ষ্যভেদ করেন। গালারসা গোল করে প্যারাগুয়েকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পর জার্মানির নিকলাস ভল্টেম্যাডের দুর্বল শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন অরলান্দো গিল। প্যারাগুয়ের সামনে সুযোগ আসে ম্যাচ শেষ করার, কিন্তু সানাব্রিয়া লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে হতাশ করেন।
নাদিম আমিরি গোল করে জার্মানিকে ৩-৩ সমতায় ফেরালে রোমাঞ্চ আরও বাড়ে। ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে বদলি নামা প্যারাগুয়ের বালবুয়েনার শট ম্যানুয়েল নয়্যার আটকে দিলে জার্মানি ম্যাচে ফেরার দারুণ সুযোগ পায়। কিন্তু সাডেন ডেথে দুর্ভাগ্যজনকভাবে জোনাথন তাহ নিজের শটটি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে জার্মানরা চরম হতাশায় ডোবে। শেষ পর্যন্ত হোসে কানালে প্যারাগুয়ের হয়ে শটটি জালে জড়ালে নিশ্চিত হয় জার্মানির বিদায়।
রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ ঠিক হবে আজ রাতে। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউজার্সিতে শেষ বত্রিশের ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-সুইডেন। যেখানে ফ্রান্স অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে শেষ ষোলোতে যাওয়ার দৌড়ে। প্যারাগুয়ে সমর্থক এস্কোবারের আশা, তাঁর দল এবারের বিশ্বকাপে সামনে অনেক দূর যাবে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এস্কোবার বলেন, ‘কিলিয়ান এমবাপ্পে, তুমি চলে এস। আমাদের আছে হুলিও এনসিসো। সেই আমাদের তারকা। আমরা সেমিফাইনালে উঠব।’
প্যারাগুয়ের জয়ের আগেই অবশ্য ব্রাজিলে শুরু হয় বাঁধভাঙা উদযাপন। হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে ব্রাজিল উঠেছে শেষ ষোলোতে। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া ব্রাজিলের গোল দুটি করেন কাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লির গোলের পর হিউস্টন থেকে বাংলাদেশ, ব্রাজিলসহ বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে থাকা সেলেসাও সমর্থকেরা উদযাপন শুরু করেন। তারপর জার্মানদের বিদায়ের পর ব্রাজিলে উপস্থিত প্যারাগুয়ের সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের গল্প তো বলাই হয়েছে। তাতে অনেকে যেন ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে ব্রাজিলের ক্ষতে প্রলেপ লাগানোর উপলক্ষও পেয়ে গেলেন।

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও জার্মানির ম্যাচ একই দিনে হওয়া এক রকম নিয়মে পরিণত হয়েছিল। কখনোবা ব্রাজিল খেলেছিল আগে, কখনোবা জার্মানি আগে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট—সব জায়গাতেই ঘটেছিল এক ঘটনা। দুই দলের মধ্যে গোলের প্রতিযোগিতা দারুণ জমে উঠেছিল। কিন্তু আপাতত এই প্রতিযোগিতা থেমে গেল শেষ বত্রিশেই। ব্রাজি
১৮ মিনিট আগে
থ্রিলার মুভির গল্পও যেন হার মানতে বাধ্য মরক্কো-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের কাছে। কী ছিল না এই ম্যাচে! ক্লাইম্যাক্স, অ্যান্টিক্লাইম্যাক্স, অ্যাডভেঞ্চার—কোনো কিছুতেই অবিশ্বাস্য এই ম্যাচকে বর্ণনা করা যাবে না। আজ সকালে মন্তেরেই স্টেডিয়ামে উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে মরক্কোই। ডাচদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে
২ ঘণ্টা আগে
একসময় বিশ্ব ফুটবলে স্ট্রাইকার মানেই ছিল রোনালদো নাজারিওর ঝড়। গতি, ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষকে ছিটকে ফেলে গোল করার সহজাত ক্ষমতা—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন ‘দ্য ফেনোমেনন’। সেই একই রোমাঞ্চ যেন আবার ফিরে এসেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের পায়ে। অন্তত ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর চোখে তাই-ই।
৩ ঘণ্টা আগে
অঘটন তো এভাবেই হয়। শেষ বত্রিশ পর্বে জার্মানি যখন প্যারাগুয়েকে পেয়েছিল, তখন জার্মান সমর্থকদের অনেকেই হয়তো খুশি হয়েছিলেন তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়ে। কিন্তু বোস্টনে তিন ঘণ্টার লড়াই শেষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে। লাতিন আমেরিকার দলটি যেখানে উদযাপনে ব্যস্ত, তখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে জার্মান কোচ হুলিয়
৩ ঘণ্টা আগে