Ajker Patrika

বিশ্বকাপে দেখা যাবে ‘১৮ বছরের’ নেইমারকে

ক্রীড়া ডেস্ক    
বিশ্বকাপে দেখা যাবে ‘১৮ বছরের’ নেইমারকে
বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছেন নেইমার। ছবি: সিবিএফ

বয়সের খাতায় ৩৪ ছুঁই ছুঁই। খেলছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্ব আসর। অথচ নেইমার জুনিয়রের মনে হচ্ছে, তিনি যেন ফিরে গেছেন তাঁর কৈশোরে! চোটের ধাক্কা আর মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক ছাপিয়ে ফুটবলটাই যে তাঁর আসল আনন্দ, যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেই তা আবার মনে করিয়ে দিলেন ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়।

বিদায়ের মহোৎসবে দাঁড়িয়েও তাঁর মনের ভেতর খেলা করছে এক নবাগত তরুণের নিখাদ শিহরণ। চোটের কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে থাকলেও দলের অনুশীলনের অন্তরালে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নেইমার জানিয়েছেন, তিনি এখন ১৮ বছরের টগবগে যুবকের মতোই উদ্দীপনা অনুভব করছেন।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম টিভি গ্লোবোতে আগামীকাল মুক্তি পেতে যাওয়া ‘গো, ব্রাজিল’ নামক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে ব্রাজিলের অন্দরমহলের গত ১২ মাসের প্রস্তুতির নানা অজানা গল্প উঠে এসেছে। সেখানেই এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নেইমার নিজের ভেতরের রোমাঞ্চ প্রকাশ করেন। ৩৪ বছর বয়সী তারকা স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘যদিও এটি আমার চতুর্থ বিশ্বকাপ, তবুও এর সঙ্গে জড়িত সবকিছুর কারণে এবারের অনুভূতিটা একেবারেই আলাদা। স্বাভাবিকভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। তবে এখানে এসে আমার নিজেকে ১৮ বছরের এক কিশোরের মতো মনে হচ্ছে, যে কি না নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে।’

অতীতের সব হতাশা আর সমালোচনা পেছনে ফেলে নেইমার এখন শুধুই উপভোগ করতে চান ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চকে। তিনবার বিশ্বকাপ খেলে এখনো ব্রাজিলকে শিরোপার স্বাদ এনে দিতে পারেননি। তবে এবার বিশেষ কিছু হবে বলে ভাবছেন তিনি, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং এখানে দলের সঙ্গে থাকতে পেরে ভীষণ আনন্দিত। এই আসরের প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করব। আশা করি, এবারের বিশ্বকাপ বিশেষ কিছু হবে।’

বিশ্বকাপের এই আকাশছোঁয়া রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেলেও মাঠের বাস্তব চিত্র অবশ্য কিছুটা ভিন্ন এই ব্রাজিলীয় তারকার জন্য। ডান পায়ের পেশির দ্বিতীয় স্তরের চোটের কারণে বর্তমানে তিনি নিবিড় চিকিৎসায় আছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে চেনা ছন্দে মাঠে ফিরতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লেগে যায়। নেইমারের চোটের সর্বশেষ অবস্থা এবং সুস্থতার অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে এই সোমবারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক এলে তবেই তিনি মাঠে ফেরার প্রাথমিক অনুশীলন শুরু করতে পারবেন। তবে শুরুতেই তাঁর ওপর খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করা যাবে না; হালকা শরীরচর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে মানিয়ে নিতে হবে। এই প্রাথমিক কসরতে যদি কোনো ধরনের অস্বস্তি বা ব্যথা না থাকে, তবেই চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত সাপেক্ষে বল পায়ে মূল অনুশীলনের অনুমতি পাবেন। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রাজিল দলের মেডিকেল স্টাফের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নেইমার পুনর্বাসন ও ফিটনেস কর্মসূচি অনুসরণ করে যাবেন।

দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের অভিযানে থাকা ব্রাজিলের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে নেইমারের ফেরার ওপর। ১৪ জুন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হবে তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত