Ajker Patrika

তবু স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
তবু স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ
মালেয়েশিয়াকে হারাতে চায় ডুলির দল। ছবি: বাফুফে

চার বছর আগে কুয়ালালামপুরে যখন মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, বাংলাদেশ শুধু অসহায়ই আত্মসমর্পণ করেছে। ৪-১ গোলের সেই হারে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ব্যবধান শুধু স্কোরলাইনে ছিল না, মাঠেও ছিল স্পষ্ট। এবার স্থান জাকার্তা, উপলক্ষও ভিন্ন। প্রথমবারের মতো ফিফার মোড়কে মাঠে গড়িয়েছে আসিয়ান। সেখানে বাংলাদেশ একটি আমন্ত্রিত দল। তবে প্রশ্নটা আরও বড়—চার বছরে সেই ব্যবধান কি এত দিনে কিছুটা কমেছে?

উত্তর খুঁজতে গেলোরা বুং কার্নোতে আসিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আজ বেলা ৩টায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিং অবশ্য এখনো পুরোনো ছবিটাই তুলে ধরছে—মালয়েশিয়া ১৩৬, বাংলাদেশ ১৮১। ৪৫ ধাপের এই ব্যবধানের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও কিছু বাস্তবতা। মালয়েশিয়ার ২৩ জনের দলে একসঙ্গে আছেন ঘরোয়া ফুটবলের পরিচিত মুখ, বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় ও ন্যাচারালাইজড ফুটবলার।

বাংলাদেশের প্রত্যাশার পারদ গত দুই বছরে হামজা চৌধুরীকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে। শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামদের পরে নতুন করে যোগ হয়েছেন চার প্রবাসী ফুটবলার—ফারহান আলী ওয়াহিদ, জিদান ইউসুফ, শমিত সোম, শুকি ইতোফুসা। এতে ডুলির হাতে বিকল্পও বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের গল্পের সবচেয়ে বড় অসম্পূর্ণতা এখানেই। মাঝমাঠে যতটা আলো, আক্রমণে ততটাই প্রশ্ন। স্বীকৃত ‘নম্বর নাইন’ নেই। মালয়েশিয়ার চাপ ভেঙে সুযোগ তৈরি করলেও সেটি গোলে পরিণত করার দায়িত্ব পড়বে এমন খেলোয়াড়দের ওপর, যাঁদের বড় মঞ্চে প্রমাণ দেওয়ার সুযোগই বেশি আসেনি।

ডুলির কথায় আত্মবিশ্বাসের চেয়ে বাস্তবতা বেশি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আপনি যখন মাঠে নামবেন, তখন নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। জানি, বাংলাদেশে আমাদের অনেক সমর্থক রয়েছেন, যাঁরা ভাবেন, আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব। কিন্তু কাজটা অত্যন্ত কঠিন, সব সময়ই বলি, আমাদের বাস্তবসম্মত হতে হবে।’

বাস্তবতার পার্থক্যও তুলে ধরেছেন ডুলি, ‘র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে ৪০-৫০ ধাপ এগিয়ে। এটি অনেক বড় পার্থক্য। সিঙ্গাপুর আমাদের চেয়ে ৩০-৩৫ ধাপ এগিয়ে রয়েছে আর ইন্দোনেশিয়া আরও ওপরে।’

তবে মাঠে নামার আগে পরাজয় মেনে নেওয়ার পাত্র নন ডুলি। বরং মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচকে দেখতে চান বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান বোঝার আয়না হিসেবে। কারণ, নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপই তাঁর বড় লক্ষ্য।

এই জায়গাতেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য। কোচ তান চেং হো এসেছেন ফলের হিসাব নিয়ে। তাঁদের দলে প্রবাসী ফুটবলার তো আছেনই, সঙ্গে আছেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া কয়েকজন খেলোয়াড়ও। অধিনায়ক ডিওন কুলসের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার অভিজ্ঞতাই বলে দেয় দলটির গভীরতা কত। তবু প্রথম ম্যাচের চাপটা অনুভব করছেন মালয়েশিয়ার কোচ। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ সব সময়ই কঠিন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো ফল দিয়ে শুরু করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

মালয়েশিয়ার চাপ সামলে নিজেদের খেলাটা কতটা দাঁড় করাতে পারবে বাংলাদেশ? মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে প্রতিটি ভুলেরই বড় মূল্য দিতে হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা, ম্যাচ শুরুর আগেই ফলের চাপটা ডুলি নিজেই কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ভালো ফল করতে পারি, যেমন ১-০ গোলে হারা বা ড্র করতে পারা—সেটাই হবে আমাদের সাফল্য। জয় পাওয়াটা হবে চমৎকার ব্যাপার, তবে সবারই তো স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে, তাই না?’

স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখতেই পারে। তবে সেটা তারা দেখছে ৪৪ বছর ধরে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে একমাত্র জয়টি এসেছিল ১৯৮২ সালে দিল্লি এশিয়ান গেমসে। জাকার্তায় তাই ইতিহাস বদলানোরও সুযোগ জামাল-হামজাদের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত