Ajker Patrika

বাংলাদেশকে ৯ গোলের বন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ০৪
বাংলাদেশকে ৯ গোলের বন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া
একের পর এক গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে

ফিফা আসিয়ান কাপে শেষটা ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতায় রূপ নিল বাংলাদেশের জন্য। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার তোপের মুখে পড়ে ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছেন জামাল-হামজারা। প্রথমার্ধেই ৬ গোল হজম করার পর শেষ দিকে গিয়ে আরও ৩ গোল হজম করে টমাস ডুলির দল। শেষের নাটকীয়তায় ‘এ’ গ্রুপ থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে গেছে ইন্দোনেশিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ছিল বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ১১ মিনিটে রোমেনি ওলের কাটব্যাক থেকে মিচেল লি বাকেরের গোল দিয়ে শুরু। ২০ মিনিটে আবার লি বাকেরের চমৎকার ব্যাকহিল গোলে ২-০ করে স্বাগতিকেরা। এর আগে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দুটি শট ঠেকালেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ২৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার শমিত সোম, তাঁর জায়গায় নামেন সোহেল রানা। ৩২ মিনিটে রিজকি রিধোর কোনাকুনি শটে ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে।

৩৬ মিনিটে ম্যাচে ফেরার কিছুটা আশা জাগায় বাংলাদেশ। সোহেল রানা সিনিয়রের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ প্রান্ত ধরে আক্রমণে ওঠেন শুকি ইতোফুসা। তাঁর নিখুঁত ভাসানো বলে মাথা ছুঁইয়ে জাল কাঁপান শাহরিয়ার ইমন। টুর্নামেন্টে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম গোল। তবে উদ্‌যাপনের স্থায়িত্ব ছিল ক্ষণিকের। পরের মিনিটেই (৩৭ মি.) নিজের হ্যাটট্রিক ও ৪২ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন লি বাকের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হুবনারের গোলে ৬-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। শুকি ও ইমনকে তুলে ফারহান আলী ওয়াহিদ ও মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে নামানো হয়। তবে চোটের কারণে স্বাধীনও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি, ৭৩ মিনিটে তাঁর বদলি হিসেবে নামেন শাকিল আহাদ তপু। দ্বিতীয়ার্ধে শ্রাবণের বেশ কয়েকটি প্রতিরোধ ও রোমেনি ওলের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ায় ব্যবধান বাড়ছিল না।

কিন্তু ম্যাচের মূল নাটকীয়তা জমিয়ে রাখা ছিল ৯০ মিনিটের পরের সময়ের জন্য। গ্রুপের অপর ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে হারিয়ে মালয়েশিয়া ৭ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালের দিকে এক পা বাড়িয়ে রেখেছিল। ফাইনালে উঠতে হলে ইন্দোনেশিয়ার দরকার ছিল আরও ৩ গোল। ৯০ মিনিটে এক গোল করার পর যোগ করা ৭ মিনিটের মধ্যে আরও দুটি গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে ফাইনালে পৌঁছায় ইন্দোনেশিয়া। এর মাঝেই যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিবের ক্রসে লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশের হয়ে ব্যবধান কমান ফারহান আলী ওয়াহিদ।

ইমন ও ফারহানের এই দুই গোল বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিয়েছে এক চরম লজ্জার হাত থেকে। গোল দুটি না হলে ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও ১৯৮২ সালে ইরানের কাছে ৯-০ গোলে হারের যে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড, সেটিকে ছুঁয়ে ফেলত বাংলাদেশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত