কানাডার স্বপ্নটা তখনও বেঁচে ছিল। প্রথমার্ধে তারা দাপট দেখিয়েছে, মরক্কোকে একের পর এক ভুল করতে বাধ্য করেছে, এমনকি গোলের সুবাসও পেয়েছে। হিউস্টনের গ্যালারিতে লাল জার্সিধারী সমর্থকেরাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় হয়তো লেখা হতে চলেছে। কিন্তু বড় দল আর বড় মঞ্চের পার্থক্যটা শেষ পর্যন্ত গড়ে দিলেন একজন—আজেদিন ওউনাহি। তাঁর জোড়া গোলে কানাডাকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে মরক্কো।
ম্যাচের শুরুটা ছিল কানাডার। পঞ্চম মিনিটেই জনাথন ডেভিডের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বুনু। ছয় মিনিট পর আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন মরক্কোর গোলরক্ষক। তানি ওলুওয়াসেইয়ের কাছ থেকে আসা নিচু শট পা বাড়িয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। বলের দখল মরক্কোর কাছে থাকলেও আক্রমণের ধার ছিল না। বরং কানাডাই বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করছিল।
এর মধ্যে ২২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মরক্কোর ফর্মে থাকা ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি। আক্রমণের গতি আরও কমে যায়। প্রথম ২৫ মিনিটে একটিও শট নিতে পারেনি আটলাস লায়নরা। প্রথমার্ধ তাই শেষ হয় গোলশূন্য। তবে গোলের চেয়ে আলোচনায় ছিল রেফারির পকেট থেকে বের হওয়া হলুদ কার্ড। বিরতির আগে দুই দল মিলিয়ে ছয়টি হলুদ কার্ড দেখে ম্যাচটি হয়ে ওঠে বেশ উত্তপ্ত।
বিরতির যেন একেবারে নতুন রূপে ফিরে আসে মরক্কো। ৫০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি নিচু পাস বাড়িয়ে দেন ওউনাহির দিকে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে প্রথম স্পর্শেই নিখুঁত শটে ওউনাহি বল পাঠিয়ে দেন জালের নিচের কোণে। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
গোল হজমের পর কানাডা মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। তাজন বুকানানের গতি, স্টিফেন ইউস্তাকিওর সেট-পিস আর জনাথন ডেভিডের দৌড়ে মরক্কোর রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। ৭৯ মিনিটে বুকানানের ৩০ গজ দূরের জোরাল শটও অসাধারণ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন বুনু। সেটিই ছিল কানাডার শেষ বড় সুযোগ।
সুযোগ নষ্টের মাশুল দিতে হয় তিন মিনিট পরই। কানাডার রক্ষণ ওপরে উঠে এলে পাল্টা আক্রমণে ব্রাহিম দিয়াজ বল নিয়ে ছুটে যান। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ছোট্ট এক পাস বাড়ান ওউনাহির উদ্দেশে। কোনো ভুল করেননি মরক্কোর মিডফিল্ডার। প্রথম স্পর্শেই জোরাল শটে বল জড়ান জালে। নিজের দ্বিতীয় গোলের সঙ্গে মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনালও নিশ্চিত করেন তিনি। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান ৩–০ করেন সুফিয়ান রাহিমি।দিয়াজের বাড়ানো পাসে বাঁ পায়ের শটে গোলের দেখা পান তিনি।
প্রথমার্ধে যারা ছিল ছন্নছাড়া, দ্বিতীয়ার্ধে তারাই হয়ে ওঠে নির্মম। আর কানাডা? সাহসী ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও সুযোগ কাজে লাগানোর পার্থক্যেই থেমে গেল তাদের স্বপ্নের দৌড়। মরক্কো অবশ্য আরেকবার জানিয়ে দিল, ২০২২ সালের সেমিফাইনাল কোনো অঘটন ছিল না; বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তারা এখনও সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষগুলোর একটি।

ব্রাজিল কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি। ব্রাজিলকে হারাতে পারলে সেটিকে কি এই বিশ্বকাপের বড় অঘটন বলা হবে? কোনো রাখঢাক না রেখেই উত্তর দিয়েছেন নরওয়ের কোচ, ‘হ্যাঁ, আমারও মনে হয়, সেটি একটি চমকই হবে।’
২৫ মিনিট আগে
প্রতি ম্যাচের আগেই স্টেডিয়ামে ফিফার উপস্থাপকেরা একটা মজার খেলা খেলেন দর্শকদের সঙ্গে। দুই দলের দর্শকদের আলাদা আহ্বান করেন, যতটা জোরে পারা যায় চিৎকার করতে। সেই কান ফাটানো চিৎকারের খেলায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দর্শকদের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন।
৩ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপের সেরা বত্রিশে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ম্যাচ-পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বক্তব্য দিতে গিয়ে একটি বাক্য শুরু করলেও মাঝপথে তা সংশোধন করেন তিনি। আর সেটি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনাকল্পনা।
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামবে ফ্রান্স। ম্যাচ শুরুর আগেই দুঃসংবাদ পেল ফরাসিরা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন দলটির অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়ামেনি।
৪ ঘণ্টা আগে