
ম্যাচ শুরুর খানিক আগে দৃশ্যটা দেখা গেল। বন্ধু সার্জিও আগুয়েরো ডাগআউটের কাছে ব্যস্ত ছিলেন টিভি শো নিয়ে। গা গরম শেষে মেসি এগিয়ে এলেন, বন্ধুকে ভালোবাসা জানালেন। এ দৃশ্যে করতালির শব্দ ভেসে এল কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের পরিপূর্ণ গ্যালারি থেকে।
মেসি যা-ই করেন, তাতেই মুগ্ধ হন দর্শকেরা। আর্জেন্টাইন জাদুকর যখন গোলের হ্যাটট্রিক করেন, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসান আর আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জেতে, তাতে পুরো স্টেডিয়ামে উন্মাতাল পরিবেশ সৃষ্টি হয়!
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য নিস্তব্ধতা ভর করেছিল আকাশি-সাদায় পরিপূর্ণ গ্যালারিতে, যখন আলজেরিয়া পেয়ে গেল প্রথম গোল। অফসাইডে সে গোল বাতিল। কিছু পরে অফসাইডে বাতিল আর্জেন্টিনার গোলও। শুরুতে মাঠের কিছুটা নাটকীয়তা দেখা গেলেও এরপরই শুরু ম্যাজিক শো। মেসি-ম্যাজিক।
ম্যাচের ১৬ মিনিটেই শুরু হয় মেসির জাদু। নিখুঁত নিশানায় চার ডিফেন্ডারকে ভেদ করে রদ্রিগো দে পলের বাড়িয়ে দেওয়া পাস থেকে আলজেরিয়ার ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান মেসি। চকিতে দুর্দান্ত মোচড়ে বাঁ পায়ের জাদুকরি শটে বল পাঠান জালে।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর্জেন্টিনার কাছে। আক্রমণ মেসির ওপর ছেড়ে লিওনেল স্কালোনি রক্ষণটা জমাট রাখতে চেয়েছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে সেই ম্যাচের কথা মনে করে সতর্ক স্কালোনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন ৪-৩-৩ ছকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছু নিষ্ফলা আক্রমণে পর ৬০ মিনিটে আবারও মেসি-দ্যুতি। মাক আলিস্তারের নেওয়া জোরালো শট ঠিকমতো সেভ করতে পারেননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। বল ফিরে আসতেই মেসি কি আর হাতছাড়া করেন! চিতার গতিতে বল জড়ান জালে। ভিআইপি বক্সে ছেলের নাস্তানাবুদ হতে দেখে বাবা ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের চিন্তিত চেহারাটা ভেসে ওঠে বড় পর্দায়।
মেসির জোড়া গোল হতেই গ্যালারি তখন কাঁপছে। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক দর্শকদের ভালোবাসার জবাব দেন উড়ন্ত চুমু দিয়ে, থাম্বস আপ দেখিয়ে। কখনো দুই হাতে ইশারা করেন দর্শকদের, বলতে চান, আরও জোরে সমর্থন দিন। আর্জেন্টাইনরা সোৎসাহে ড্রাম বাজাতে থাকেন, গাইতে থাকেন: ‘ওলে, ওলে, ওলা... ভামোস আর্হেন্তিনা!’ এই উৎসবমুখর পরিবেশে ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এক বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে ছুটে যান মেসি। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত এক শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। আর এতে বিশ্বকাপে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান মেসি। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে পেলেন প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা।
হ্যাটট্রিক হয়ে যাওয়ার পর মেসিকে আর মাঠে রাখতে চাননি কোচ স্কালোনি। ৮০ মিনিটে মেসি মাঠ ছাড়লেন নিকোলাস ওতামেন্দির হাতে আর্মব্যান্ড দিয়ে। স্কালোনি তখন রক্ষণ ও আক্রমণে দুটি পরিবর্তন আনেন। মাঠ ছাড়তেই গ্যালারির প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে।
সারা পৃথিবী থেকে সম্মান, ভালোবাসা যেমন পান, মেসিও সেটির প্রতিদান দিতে চান জাদুকরি ফুটবলে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শুরুটা যে দুর্দান্ত হলো, আরও অনেক কিছু দেখার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা।

এক পাশে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ রাঙানোর মিশন, আরেক পাশে ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গোর অস্তিত্বের লড়াই। ডালাসের মাঠে শক্তির বিচারে পর্তুগাল যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও মাঠের ফুটবলে তার ন্যূনতম প্রতিফলন মিলল না। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট বোতলবন্দী করে রাখার
৩ ঘণ্টা আগে
ফুটবল দিনশেষে নিখাদ এক দলগত খেলা। নিঃস্বার্থভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা আর দলীয় বোঝাপড়া ছাড়া সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো অসম্ভব। যেকোনো কোচ তাঁর শিষ্যদের বলে থাকেন, ‘দলের চেয়ে বড় কোনো খেলোয়াড় হতে পারে না।’ কথাটি নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ পাবেন না কেউই।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে ৪ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও ম্যাচের রোমাঞ্চ তোলা ছিল পঞ্চম মিনিটের জন্য। এমবেম্বার কল্যাণে পাওয়া একটি কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু। পর্তুগালের ব্যাক পোস্টে তখন কঙ্গোর খেলোয়াড়দের আধিক্য । মাসুয়াকুর দূরপাল্লার নিখুঁত ক্রসটি খুঁজে নেয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত
৪ ঘণ্টা আগে
চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিল দলের আগমনের পর বুধবার প্রথমবারের মতো দলের সঙ্গে মাঠে দেখা গেছে ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফুটবলারকে। এদিন মাঠের বাইরে কাটানো তাঁর এক মাসও পূর্ণ হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে