‘বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আজেবাজে খবর ছড়ানো হয়েছে’

টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেই গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু নিউজার্সিতে গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন না হতে পারা আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেন। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে আকাশী-নীলদের আত্মনিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
স্কোরকার্ডে ১-০ গোলে স্পেনের জয় দেখালেও নিউজার্সির ফাইনালের প্রেক্ষাপট ছিল আলাদা। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পার করলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে অনেক ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে। মুহুর্মুহু আক্রমণ করতে থাকা স্পেন অতিরিক্ত সময়ে পায় গোলের দেখা। ফেরান তোরেসের গোলে নিশ্চিত হয় স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
আর্জেন্টিনার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে নেটিজেনদের দাবি, লিওনেল স্কালোনির দল ম্যাচটা ছেড়ে দিয়েছে। নিউজার্সির ফাইনালের তিন মাস পর এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস্তিয়ানো রোমেরো বলেন, ‘ফাইনালে আসলে কিছুই ঘটেনি। সামাজিক মাধ্যমের কারণে এমন হয় যে কেউ আজেবাজে কিছু পোস্ট করলেই সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। স্পেন ভালো খেলেছে আর আমরা কোনোমতে টিকে ছিলাম। এটাকে আমি অলৌকিক কিছু বলব কি না জানি না।’
১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনাল খেলতে স্কালোনির দলকে যেতে হয়েছিল নিউজার্সিতে। যা সেমির ভেন্যু আটলান্টা থেকে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার দূরে। মাঝে তিন দিন সময় থাকলেও দীর্ঘ যাত্রার ধকল তো ছিলই। এমনকি বৈরি আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেস, লাওতারো মার্তিনেস, রোমেরোরা। ফাইনাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউজার্সির সময় অনুসারে তা ছিল বেলা ৩টা।
তিন মাস আগে বিশ্বকাপের সময় কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা গিয়েছিল, সেই ব্যাপারে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত জানিয়েছেন রোমেরো। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বলেন, ‘সব পরিস্থিতিই আমাদের বিপক্ষে ছিল। বিশ্রামের জন্য এক দিন কম পেয়েছিলাম। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দুপুর দুইটায় খেলতে হয়েছিল। তবে এটা স্পষ্ট যে দুই দলের জন্যই পরিস্থিতি একই ছিল। স্পেন দারুণ খেলেছে। তারাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য ছিল। এখন আমাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ভবিষ্যতেও একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করব।’
সামাজিক মাধ্যমে কে কী বলছেন, তা নিয়ে অতটা চিন্তিত নন রোমেরো। আর্জেন্টিনার বর্তমান অধিনায়ক বলেন,
‘মানুষ কী বলছেন কিংবা পরিচিত কেউ যদি কনটেন্ট তৈরি করার জন্য খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলতে শুরু করেন। এসব অর্থহীন বিষয় নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। গত ৬-৭ বছর ধরে এই জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার যে সৌভাগ্য আমার হয়েছে, সেই পুরো সময়জুড়েই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে হারের পর ক্যামেরার লেন্স যখন মেসির দিকে তাক করা হয়েছিল, তখন তাঁর চোখ বেয়ে অঝোরে ঝরছিল পানি। ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে অবসরের ঘোষণা দিলেও ৭ অক্টোবর বেনিন ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ২০৮ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। দলটির জার্সিতে সর্বোচ্চ ১২৬ গোলও তাঁর। অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৯ গোলে।










