Ajker Patrika

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন বেশি বড় নয়

১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ । যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল' শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন , সেটি তুলে ধরার প্রয়াস । আজকের পর্বে অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক    
অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন বেশি বড় নয়
অষ্টমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য গ্রুপপর্বের বৈতরণি পেরিয়ে পরের রাউন্ডে উন্নীত হওয়া।

চূড়ান্ত পর্বে ‘ডি’ গ্রুপে দলটির সঙ্গে রয়েছে তুরস্ক, প্যারাগুয়ে ও স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। তারপরও নকআউটে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। কোচ টনি পপোভিচ দলের সব সদস্যদের কাছে নিজেদের লক্ষ্য ও করণীয়টা সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য, আমরা যেন আমাদের দেশকে গর্বিত করতে পারি, প্রথম তিনটি (গ্রুপপর্বের) ম্যাচের প্রতিটিতেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি এবং অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল ও আমাদের ফুটবলাররা কতটা দক্ষ, তা প্রমাণ করতে পারি।’

এরপরই বললেন আসল কথাটা, ‘ভালো সমর্থন পেলে আমরা বিশেষ কিছু অর্জন করতে পারি এবং নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারি। আর আমরা জানি, নকআউটের ম্যাচে যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব এবং আমরা সেই আলোচনার অংশ হতে চাই।’

১৪ জুন তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। দলটির শক্তির জায়গা রক্ষণ। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেন্টার ব্যাক ২০২৪ সালে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জমাটরক্ষণ গড়ে তোলেন। ঘর সামলে আক্রমণে উঠে আসেন এবং তাঁরা এটা করেন খুবই ক্ষিপ্রতার সঙ্গে। এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ৬ ম্যাচের ছয়টিতেই জিতেছে। একটা ম্যাচেও গোল হজম করেনি। বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হতো দলটির। কিন্তু জেদ্দায় হওয়া সেই ম্যাচে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে উঠে যায় তারা। এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। আর টানা ষষ্ঠবার।

‘সি’ গ্রুপে জাপানের পর গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া । অস্ট্রেলিয়ার শক্তি দল হিসেবে খেলে তারা । তাই তাদের তারকানির্ভরতা নেই । বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি ছয় গোল করেছেন কুসেনি ইয়েনগি । অ্যাডিলেডে জন্ম নেওয়া ২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার খেলেন জাপানের শীর্ষ লিগে সেরেজো ওসাকার হয়ে।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস

বিশ্বকাপে মোট অংশগ্রহণ: ৮ বার

প্রথম অংশগ্রহণ: ১৯৭৪ বিশ্বকাপ

সেরা সাফল্য: শেষ ষোলো (২০২২)

ডাক নাম: সকারু

অঞ্চল: এশিয়া

ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ২৭

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স
ম্যাচজয় ড্রহার
২০১২
গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ
তারিখপ্রতিপক্ষভেন্যুসময়
১৩ জুনতুরস্কভ্যানকুভারসকাল ১০ টা
১৯ জুনযুক্তরাষ্ট্রসিয়াটলরাত ১ টা
২৬ জুনপ্যারাগুয়েসান ফ্রান্সিসকোসকাল ৮ টা

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ। ছবি: সংগৃহীত


কোচ টনি পপোভিচ

জাতীয় দলের হয়ে ৫০ টির বেশি ম্যাচ খেলা পপোভিচ ছিলেন দলের রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ । ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি । ২০০৮ সালে অবসর নেওয়ার পরপরই তিনি কোচিং পেশায় আসেন এবং বেশ কিছু ঘরোয়া ক্লাবে সাফল্য পান । ২০২৪ সালের শেষদিকে গ্রাহাম আর্নল্ডের প্রস্থানের পর তাঁকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয় । সে দায়িত্বে সফল সিডনিতে বসবাসকারী টনি পপোভিচ । এবারের বিশ্বকাপ দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এবং জাতীয় দলের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার-কোচদের ক্লাবে নাম লেখাবেন পপোভিচ ।

জর্ডান বোসের দিকে এবার নজর থাকবে অস্ট্রেলিয়ার। ছবি: সংগৃহীত
জর্ডান বোসের দিকে এবার নজর থাকবে অস্ট্রেলিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

তারকা জর্ডান বোস

টনি পপোভিচের ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনায় রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে বাঁ - প্ৰান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ , আর এখানেই জর্ডান বোস একজন অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন । ২৩ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এ পর্যন্ত ২৩ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন , যেখানে তিনি দুটি গোল করেছেন এবং দুটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন । দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনজনের রক্ষণভাগ সাজানো হলে তিনি উইং ব্যাক হিসেবেও দারুণ দক্ষতা দেখান , যা জাতীয় দলকে বাড়তি ট্যাকটিক্যাল সুবিধা দেয় । চাপের মুখেও শান্ত থাকা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দক্ষতার জন্য এরই মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছেন ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডে খেলা এই লেফট ব্যাক ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত