Ajker Patrika

বিশ্বকাপে ‘অভিশাপের’ মুখে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক    
বিশ্বকাপে ‘অভিশাপের’ মুখে আর্জেন্টিনা
শিরোপা ধরে রাখতে পারবেন তো মেসিরা। ছবি: এএফপি

হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামার আগেই যেন এক অনাকাঙ্ক্ষিত উপহার পেয়ে গেল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স আর স্পেনের অপ্রত্যাশিত হোঁচটে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের রাজমুকুট ফিরে পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে। তবে এই শীর্ষস্থান লিওনেল মেসির দলের জন্য যতটা আনন্দের, ঠিক ততটাই উদ্বেগেরও।

ফুটবল ইতিহাসের এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক জুজু বলছে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে র‍্যাংকিংয়ের চূড়ায় ওঠার মানেই হলো এক ‘অভিশাপ’কে সঙ্গী করা, যেখানে বিগত চ্যাম্পিয়নদের কপালে শেষ পর্যন্ত জুটেছে কেবলই ট্র্যাজেডি।

হন্ডুরাস ম্যাচের জন্য ইতিমধ্যেই নিজেদের শুরুর একাদশ সাজাতে শুরু করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে এই ম্যাচের পাশাপাশি আলজেরিয়াকে নিয়েও কিছু কৌশলগত চিন্তাভাবনা রয়েছে কোচিং স্টাফদের মনে। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিল বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। কিন্তু প্রীতি ম্যাচে গতকাল আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খায় ‘লে ব্লুজ’রা। তাদের পয়েন্ট ১৮৭৭.৩২ থেকে কমে দাঁড়ায় ১৮৬৯.৪৩-এ, ফলে তারা নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেন এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারতো, কিন্তু ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে তারাও। দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর এই ব্যর্থতায় কোনো ম্যাচ না খেলেই টেবিলের দুই ধাপ ওপরে ওঠার সুযোগ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

হন্ডুরাসের বিপক্ষে জয় পেলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এক নম্বর স্থান নিশ্চিত হবে। ম্যাচটি জিতলে আর্জেন্টিনা পাবে মাত্র ১.৩ পয়েন্ট। সংখ্যাটি ছোট হলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের পয়েন্ট হারানোর কারণে এটিই তাদের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে যথেষ্ট হবে, যার ফলে আর্জেন্টিনার মোট পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৮৭৬.১১।

বিশ্বকাপের আগে অবশ্য আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ফ্রান্স—তিন দলেরই আরেকটি করে প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা যদি ড্র করে বা হেরে যায় এবং অন্য দলগুলো জেতে, কেবল তখনই শীর্ষস্থান হাতছাড়া হতে পারে স্কালোনির দলের।

তবে ইতিহাস কিন্তু আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা ভয়ের বার্তাই দিচ্ছে। ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাংকিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দলই র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বরে থেকে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ১৯৯৪ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে এক নম্বর দল হিসেবে খেলতে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বুলগেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। এরপর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শীর্ষে থেকে টুর্নার্মেন্ট শুরু করা ব্রাজিল ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়।

এই অভিশাপের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতেও। ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে বিশ্ব ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০০৬ সালে এক নম্বরে থাকা ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করে দেয় জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও শীর্ষে থাকা ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ২০১৪ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও এক নম্বর দল স্পেন এবং ২০১৮ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি—উভয় দলই শীর্ষস্থানে থেকে বিশ্বকাপে এসে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি। সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপেও এক নম্বর দল হিসেবে অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল।

কাতার বিশ্বকাপের সেই টুর্নামেন্টটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত শেষ হয়েছিল আর্জেন্টিনার জয়ের মধ্য দিয়ে, যেখানে লুসাইল স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে তারা ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। ইতিহাস বলছে, এক নম্বরে থাকার আনন্দ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে গিয়ে প্রায়শই বিষাদে রূপ নিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত