Ajker Patrika

বিশ্বকাপে ৯৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় মেক্সিকোর বিস্ময়বালক

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১৮: ১২
বিশ্বকাপে ৯৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় মেক্সিকোর বিস্ময়বালক
মেক্সিকোর বিস্ময়বালক হিলবের্তো মোরা। ছবি: এক্স

বিশ্বকাপ মানেই রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা। তবে কিছু রেকর্ড কালের খেয়ায় চড়ে টিকে থাকে যুগের পর যুগ। মেক্সিকান ফুটবলেও তেমন এক রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন এক কিশোর।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মেক্সিকোর চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হিলবের্তো মোরা। গত রোববার মেক্সিকোর প্রধান কোচ হাভিয়ের আগুইরে যখন বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেন, তখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ আটকে যায় মোরার নামের ওপর। ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সী এই তরুণ যদি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামেন, তবেই মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হবে। তিনিই হবেন দেশটির ইতিহাসে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়।

মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে খেলার বর্তমান রেকর্ডটি যার দখলে, তিনি হলেন ম্যানুয়েল রোসাস। ফুটবল মহলে তিনি ‘এল চাকিতাস’ নামেও বেশ পরিচিত ছিলেন। আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী আগে, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে যখন তিনি মাঠে নামেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৮৮ দিন। বিগত ৯৬ বছরে মেক্সিকোর অনেক প্রথিতযশা ফুটবলার এসেছেন, কিন্তু কেউ রোসাসের এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। দেশটির কিংবদন্তি আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, হুগো রদ্রিগেজ, রাউল আরেয়ানো কিংবা আন্তোনিও মোতাদের মতো তারকারাও বিশ্বকাপে প্রথম পা রেখেছিলেন ১৯ বছর বয়সে। এবার সেই প্রায় শতবর্ষী রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ মোরার সামনে। এমনিতে এবারের বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার তিনি।

মেক্সিকোর জাতীয় দলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৭টি ম্যাচ খেলেছেন মোরা। তবে এই স্বল্প সময়েই তাঁর ফুটবলীয় পরিপক্বতা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ঘরোয়া ফুটবলে মেক্সিকান ক্লাব ‘শলোসের’ হয়ে খেলা মোরা প্রথম নিজের প্রতিভার জানান দেন ২০২৫ সালের গোল্ড কাপে। সেই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ না পেলেও নিজের একাগ্রতা দিয়ে কোচিং স্টাফদের আস্থা অর্জন করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে হন্ডুরাসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাঁর চোখধাঁধানো অ্যাসিস্ট থেকেই ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি আসে, যা মেক্সিকোকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একটি চোটের কারণে সাময়িকভাবে মোরার ছন্দপতন ঘটেছিল। মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল বেশ কয়েক সপ্তাহ। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে চোট কাটিয়ে দারুণভাবে মাঠে ফিরেছেন এই বিস্ময়-বালক। ঘানার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩০ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে নিজের দুর্দান্ত ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। এখন বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর প্রথম ম্যাচেই কোচ আগুইরে তাঁকে মাঠে নামান কি না, সেটাই দেখার বিষয়। ফুটবল অনুরাগীরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ৯৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার মুহূর্তটির জন্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত