Ajker Patrika

খেলা শেষে জাপানিরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন

ক্রীড়া ডেস্ক    
খেলা শেষে জাপানিরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন
আবর্জনা পরিষ্কার করছেন জাপানিরা। ছবি: এক্স

তখনো ডালাস স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি। মাঠের লড়াইটা ছিল দেখার মতো। রোববার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ম্যাচটা ড্র করেছে জাপান। দাইচি কামাদার শেষ মুহূর্তের গোল জাপানি ভক্তদের নিরাশ হওয়ার শঙ্কা দূর করে দেয় ।

কিন্তু সেই উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই গ্যালারিতে দেখা গেল অন্য এক দৃশ্য। যে দৃশ্যটা এখন আর ফুটবল দুনিয়ায় নতুন কিছু নয়, প্রতিবারই তা দেখা যায়। আর সেটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

খেলা শেষের বাঁশি বাজার মিনিট দশেকের মধ্যেই জাপানি সমর্থকেরা তাঁদের উদযাপনের গতি থামিয়ে দিলেন। ব্যাগ থেকে বেরোল নীল আর সাদা রঙের বড় বড় প্লাস্টিকের প্যাকেট। এরপর শুরু হলো এক অদ্ভুত নীরবতা। হাজার হাজার মানুষের ফেলে যাওয়া চিপসের ঠোঙা, ওয়ানটাইম খাবারের ট্রে, কোমল পানীয়ের খালি কাপ—সব একটা একটা করে কুড়িয়ে ব্যাগে ভরতে লাগলেন তাঁরা। চোখের পলকে ডালাস স্টেডিয়ামের সেই নির্দিষ্ট অংশটা একদম ঝকঝকে হয়ে উঠল।

বিশ্বকাপের গ্যালারিতে যেখানে খেলা শেষে আবর্জনার স্তূপ মাড়িয়ে বের হওয়াটাই অলিখিত নিয়ম, সেখানে জাপানিরা যেন বরাবরই এক ভিন গ্রহের বাসিন্দা। ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ—তাঁদের এই অভ্যাস একটুও বদলায়নি। দল জিতুক কিংবা হারুক, এমনকি নিজেদের খেলা না থাকলেও গ্যালারির ময়লা পরিষ্কার করাটা তাঁদের কাছে কর্তব্যের মতো।

এই গভীর জীবনবোধ তাঁরা পান কোথায়? জাপানি সংস্কৃতিতে একটি চমৎকার প্রবাদ আছে—‘তাতসু তোরি এতো ও নিগোসাজু’। অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘পাখি যখন উড়ে যায়, সে তার পেছনের জল ঘোলা করে দিয়ে যায় না।’

পশ্চিমা দেশগুলো ও উপমহাদেশে একটা সাধারণ ধারণা থাকে— টাকা দিয়ে টিকিট কেটে খেলা দেখতে এসেছি, মাঠ পরিষ্কার করার জন্য তো লোক আছেই! কিন্তু জাপানিদের ভাবনার জগৎটা আলাদা। সেখানে শিশুদের একদম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শেখানো হয়, নিজের কাজ নিজে করতে হবে। জাপানের স্কুলে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকে না, শিক্ষকেরা ক্লাসরুম বা করিডোর পরিষ্কার করার কাজটা শিশুদের দিয়েই করান। সেই শৈশবের অভ্যাস বড় হয়ে তাঁদের রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। অন্য কাউকে একটুও সমস্যায় না ফেলা বা কারও বিরক্তির কারণ না হওয়াটাই জাপানি সমাজের মূল শিক্ষা।

সেই শিক্ষা দিয়ে টেক্সাসের মাটিতে আরও একবার ফুটবল বিশ্বের হৃদয় জয় করে নিল। জাপানিরা প্রতি বিশ্বকাপে এসে মনে করিয়ে দিয়ে যান—ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়, ফুটবল আসলে একটা সংস্কৃতির দর্পণও।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত