Ajker Patrika

৪০০ রানের আশা দিয়ে ৩০০-এর আগেই শেষ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ৫৬
৪০০ রানের আশা দিয়ে ৩০০-এর আগেই শেষ বাংলাদেশ
৩০০ রানও করতে পারল না বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম আজ দ্বিতীয় দিনেই তুলে নেন সেঞ্চুরি। কিন্তু তিনি তিন অঙ্ক ছুঁলেও লিটন দাস ছাড়া আর কোনো সতীর্থ কি পর্যাপ্ত ‘সাপোর্ট’ দিতে পেরেছেন? হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ৩০০-এর আগেই। ৫১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকেরা।

মিরপুরে গতকাল শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান করে বাংলাদেশ যে একেবারে চালকের আসনে ছিল, ব্যাপারটা ঠিক সেরকম নয়। তবু ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন ৪০০ রানের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর শিষ্যরা আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। ৫১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ।

আজ দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান। ইনিংসের ৭৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জশুয়া বিশপকে মিড অনে ঠেলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন সাদমান। টেস্টে এটা তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে তৃতীয়বার তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার হেলমেট খুললেন। পিচে সিজদা দিয়েছেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরির পর আজ মিরপুরে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেছেন সাদমান।

সেঞ্চুরির পর ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সাদমান। ৭৭তম ওভারের পঞ্চম বলে বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটারকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন জশুয়া বিশপ। যাওয়ার আগে একটা রিভিউও নষ্ট করে গেলেন সাদমান। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটারকে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম উইকেট পেলেন বিশপ। মিরপুর টেস্ট দিয়েই বিশপের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে।

২৩৪ বলে ১১ চারে ১০৫ রান করেন সাদমান। তাঁর উইকেট পড়ার পরই বাংলাদেশের ইনিংসে ভাঙনের শুরু। গতকাল ৪২ রান করে মাঠ ছাড়ার পর হৃদয় আজ ফিরে একটা রানও যোগ করতে পারেননি। বিশপের বল ব্যাকফুটে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান হৃদয়। ৮৬ বলে ৩ চারে করেন ৪২ রান।

দুই মিডল অর্ডার ব্যাটার লিটন দাস-মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিংয়ে ভক্ত-সমর্থকেরা বড় স্কোরের আশা করছিলেন। কিন্তু তাঁরা ষষ্ঠ উইকেটে ৭১ বল খেলে ৩২ রানের জুটি গড়তে পেরেছেন। জোমেল ওয়ারিকানের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন মিরাজ (১৫)।

কনুইয়ের চোট, পায়ের ক্র্যাম্প সামলে এক প্রান্তে একাই খেলে যান লিটন। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে কেউ তাঁকে পর্যাপ্ত সাপোর্ট দিতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডারদের ক্যাচিং অনুশীলন করানোর পাশাপাশি রং লাইনে খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন স্বাগতিক দলের টেলএন্ডার ব্যাটাররা। যেখানে ৯৮তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ বলে তাইজুল ইসলাম, শরীফুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন ওয়ারিকান।

৯৭.৪ ওভারে ২৭২ রানে বাংলাদেশ গুটিয়ে যেতেই দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ ঘোষণা করা হয়। ওয়ারিকান ২৩.৪ ওভারে ৫৩ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। টেস্টে এই নিয়ে চারবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার। বাকি পাঁচ উইকেট পেসাররা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন বিশপ ও শামার জোসেফ। আরেক পেসার সিলস নিয়েছেন ১ উইকেট। লিটন ৬ নম্বরে নেমে ৮৮ বলে ৪ চারে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত