Ajker Patrika

বাংলাদেশের জন্য কেমন উইকেট বানাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক    
বাংলাদেশের জন্য কেমন উইকেট বানাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
টানা চার টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ছবি: ক্রিকইনফো

বাংলাদেশের ২৩ বছরের অপেক্ষা ফুরোতে আর বেশি সময় বাকি নেই। ডারউইনের মারারা ওভালে পরশু মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট। উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। প্রধান কিউরেটর সরাসরি কিছু না বললেও প্রথম টেস্টের উইকেট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ এবার খেলছে দুই অচেনা ভেন্যুতে। ডারউইন, ম্যাকেতে হবে সিরিজের দুই টেস্ট। যার মধ্যে মারারা ওভালের প্রধান কিউরেটরের দায়িত্বে থাকছেন জ্যাক পাভলিচ। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে যেমন পেসাররা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন, বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টেস্টের পিচও তেমন থাকবে বলে মনে করেন তিনি। আজ সংবাদ সম্মেলনে ডারউইনের প্রধান কিউরেটর বলেন, ‘প্রথাগত অস্ট্রেলিয়ান পিচ বলতে যা বোঝায়, আসলে দেশের সব পিচ তেমনই আচরণ করে। এখানেও তাই ব্যতিক্রম হবে না। আমি আশা করছি ধারাবাহিক ব্যাটিং উইকেট হবে। বোলাররা পরিশ্রমের সুফল পাবে।’

ডারউইনে সর্বসাকল্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হয়েছে ৮ ম্যাচ। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া দুই টেস্ট। ২০০৩ থেকে শুরু হওয়া এই মাঠে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ হওয়াটাই বলে দিচ্ছে, ডারউইনের স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কতটা অপরিচিত।ডারউইনের কন্ডিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু নিয়ে গর্বিত। ছেলেরা এখানে আছে কয়েকদিন হলো। ভেনুটারও ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। এখানে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ভালো সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আমাদের জন্য অনেক গৌরবের ব্যাপার।’

২০০৩ সালে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দুই টেস্টের কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। সেবার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছিল তিন দিনে। কেয়ার্নসে অপর টেস্টের ফল এসেছিল চার দিনেই। দুটিতেই বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংসে। এবার বাংলাদেশের যে দলটা অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে চাচ্ছে, কোনো ক্রিকেটারেরই ২৩ বছর আগে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়নি। কদিন আগে ডারউইনে তিন দিনে শেষ হওয়া প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ও ৩৮ রানে। এই ম্যাচেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৯২ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৫৪ রানে গুটিয়ে গেছে।

অনভিজ্ঞ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের সঙ্গেই যেখানে পেরে উঠল না বাংলাদেশ, তাতে করে মূল টেস্টে সফরকারীদের ভরাডুবির আশঙ্কা দেখছেন অনেকেই। পাভলিচ সরাসরি না বললেও তাঁর কথায় তেমন কিছুরই ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এমন কিছু হোক, সেটা চান না তিনিও। আজ সংবাদ সম্মেলনে ডারউইনের কিউরেটর বলেন, ‘দুই দিনে টেস্ট শেষ হোক, সেটা আমরা কখনোই চাইব না। তবে সত্যি বলতে এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণেও নেই। যা নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে তো চাপ অনুভব করে লাভ নেই। সম্ভাব্য সেরা পিচই আমরা বানিয়েছি।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন হবে বলে ধারণা পাভলিচের। কন্ডিশনের সঙ্গে তাই ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। আজ সংবাদ সম্মেলনে মারারা ওভালের কিউরেটর বলেন, ‘চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে উইকেট চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতেই পারে। তবে আমরা ধারাবাহিক পিচ তৈরির চেষ্টাই করেছি। তাই পিচে গিয়ে মানিয়ে নেওয়াটা জরুরি।’

অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বাংলাদেশ খেলেছে ২০০৮ সালে। সেবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় যুগ পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ সফর করলেও টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সম্প্রতি দুর্দান্ত খেলছে। নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট এবং এ বছর পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই—টানা চার টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে এই সময়েই। সবগুলো ম্যাচ জিতেছে ঘরের মাঠেই। বাংলাদেশের জন্য অ্যাওয়ে সিরিজ হলেও শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজরা দারুণ খেলবে বলে ধারণা পাভলিচের। আজ ডারউইনের প্রধান কিউরেটর বলেন, ‘প্রতিপক্ষ বাংলাদেশও বেশ অভিজ্ঞ দল। তাই আমরা ধারাবাহিক পিচ চাই, যেটা খেলার জন্য ভালো হবে।’

ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত