Ajker Patrika

ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূলপর্বে ফর্টিস

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ০৯
ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূলপর্বে ফর্টিস
ইব্রাহিমের গোলে ফর্টিসের ইতিহাস। ছবি: বাফুফে

জয়ের পথে কতটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে ফর্টিস এফসিকে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ম্যাচের শেষ বাঁশি। সব প্রতিকূলতা সামলে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে কিরগিজ ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফর্টিস। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে বাংলাদেশের ক্লাবটি এখন প্রথম সুযোগেই পা রাখল টুর্নামেন্টের মূলপর্বে।

শীতপ্রধান দেশ কিরগিজস্তান। তাদের ক্লাবকে কাবু করতে গরমকেই অস্ত্র বানায় ফর্টিস। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ছন্দই খুঁজে পায়নি মুরাস। ম্যাচের শুরুতে ফর্টিসই বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। ১২ মিনিটে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের থ্রু পাস পেয়েছিলেন স্টিফেন চুকউড। কিন্তু ডান দিকে ফাঁকা জায়গা পেয়েও বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।

২২ মিনিটে আরও বড় সুযোগ। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হন পা ওমর বাবু। গোলরক্ষক দ্রুত এগিয়ে এসে কাছের পোস্ট আগলে দাঁড়ানোয় শট নেওয়ার জায়গা কমে যায়। তবু ওমরের শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করেছিল, কিন্তু পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল।

৩০ মিনিটে আবারও সুযোগ পান ওমর। এবার তাঁর শট চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধে মুরাসও ফর্টিসের রক্ষণে তেমন চাপ তৈরি করতে পারেনি। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর ম্যাচে গতি বাড়ে। মুরাস আক্রমণে ওঠে, ফর্টিসও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজতে থাকে। এর মধ্যেই ৫২ মিনিটে গোল পেয়ে যায় বাংলাদেশের দলটি।

মাঝমাঠের ওপর থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান ওমর। একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইব্রাহিমকে বাড়ান থ্রু পাস। প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ে শট নেন ইব্রাহিম। মুরাস গোলরক্ষকের শরীরের নিচ দিয়ে বল চলে যায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফর্টিস।

৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ফর্টিস। পা ওমর বাবুর নেওয়া কর্নার সরাসরি গোলের দিকে বাঁক নিতে নিতে পোস্টের দিকে যাচ্ছিল। বল জালে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে গোললাইন থেকে তা ফিরিয়ে দেন মুরাস গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিক। এরপর ফিরতি বল অনন্ত তামাং কাটব্যাক করেন এরিক বিসতাকে। তাঁর বাঁকানো শটও দুর্দান্তভাবে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন মুরাস গোলরক্ষক।

৭৪ মিনিটে সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পায় মুরাস। বক্সের ভেতর এরিক বিসতার হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় তারা। স্পটকিক থেকে আতাবায়েভ এরবোলের নেওয়া শট সুজনকে ফাঁকি দিলেও বল সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এরপর শেষ বাঁশি পর্যন্ত ফর্টিসের রক্ষণে চাপ ধরে রাখে গত আসরে সেমিফাইনাল খেলা মুরাস। কিন্তু আর গোলের দেখা পায়নি তারা। এক গোলের লিড ধরে রেখে ম্যাচ শেষ করে ফর্টিস।

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে অভিষেকেই জয়, আর সেই জয়ে মূল পর্বের টিকিট—ফর্টিসের জন্য দিনটি তাই হয়ে থাকল স্মরণীয়।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত