Ajker Patrika

পুলিশি প্রটোকলে ঢাকায় আনা হচ্ছে তামিমকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৫, ১৯: ৫০
তামিম ইকবালকে কেপিজে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে। আজকের পত্রিকা ফাইল ছবি
তামিম ইকবালকে কেপিজে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে। আজকের পত্রিকা ফাইল ছবি

ইফতারের পরপর সাভারের কেপিজে হাসপাতালের চতুর্থ তলার পূর্বকোণে কাচঘেরা দরজা দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তামিমের স্ত্রীসহ বাকি স্বজনেরা। আজ বিকেলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়—তামিম ইকবালকে দ্রুত ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। সন্ধ্যার কিছু পর তামিমকে হুইলচেয়ারে করে বের করে আনা হয় হাসপাতাল থেকে।

সাভার থেকে ঢাকায় আনার পথে তামিমের অ্যাম্বুলেন্সের গতি যেন কোনোভাবেই রোধ না হয়, পুলিশের বিশেষ একটা দল নিয়োজিত ছিল। পুলিশের গাড়ি অ্যাম্বুলেন্সের রাস্তা পরিষ্কার করে দিচ্ছিল, যাতে দ্রুত ও স্বচ্ছন্দে তামিমের অ্যাম্বুলেন্স রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে।

সকাল থেকেই তামিম নিজেই চাচ্ছিলেন ঢাকায় চলে আসতে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দুপুর গড়িয়ে বিকেলে শেষ পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে এভারকেয়ারের বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায়। বিকেএসপির নিকটবর্তী কেপিজে হাসপাতাল ছাড়পত্র পাওয়ার পর তামিমের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী আয়েশা, বড় ভাই নাফিস ইকবালসহ আরও কয়েকজন আত্মীয়। হুইলচেয়ারে করে ধীরে ধীরে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় তাঁকে।

দুপুর ১২টায় কেপিজে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে তামিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু জাফর। তিনি বলেন, ‘তামিম ইকবাল বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। তবে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কমপক্ষে তিন মাস সময় দিতে হবে। বাসায় গিয়ে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারবেন, তবে বিশ্রামে থাকতে হবে।’ তিন মাস পর মাঠে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিন মাস ধরে তামিমকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তাঁর শারীরিক উন্নতি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দেখে মেডিকেল বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তিনি কবে থেকে মাঠে ফিরতে পারবেন।’

তামিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকেরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সব সময় পুরো সমস্যার প্রতিফলন ঘটে না। যেমন, প্রথমবার ইসিজি করা হলেও তাতে বড় কোনো পরিবর্তন ধরা পড়েনি। তবে আজ সকালে করা ইকোকার্ডিওগ্রামে সবকিছু স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তারপরও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ শারীরিক অবস্থা হঠাৎই পরিবর্তন হতে পারে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তামিমের পরিবারের সঙ্গে সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন সিদ্ধান্ত তাদের হাতে। আমরা কারও ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না, তবে তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছি।’

বর্তমানে তামিমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিশ্রাম ও পুনর্বাসন। চিকিৎসকেরা তাঁকে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে তিনি কীভাবে ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরতে পারবেন। আপাতত তাঁর সুস্থতাই সবার অগ্রাধিকার।

তামিম ইকবালকে দেখতে রাত ১০টায় এভারকেয়ারে যাবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

রাজধানীর বসুন্ধরায় আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা

এনইআইআর চালু করায় বিটিআরসি ভবনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা-ভাঙচুর

‘আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে আসেন, দায়দায়িত্ব আমাদের’

তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের খ্রিষ্টীয় নববর্ষের বাণী প্রত্যাহার করেছে বিএনপি

কাজী নজরুলের ‘বিদায় বেলায়’ কবিতায় দাদিকে স্মরণ জাইমা রহমানের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত