Ajker Patrika

রিশাদের রিশাদ হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন নান্নু

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ২১: ৫৬
ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন রিশাদ হোসেন। ছবি: বিসিবি
ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন রিশাদ হোসেন। ছবি: বিসিবি

মিরপুরের পিচে যতই কালো জাদু থাকুক, সেই পিচে ২০৭ রান করে চোখ বুজে থাকার কোনো উপায় নেই। উপরন্তু সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের উদ্বোধনী জুটিতে যখন ৫১ রান আসে, তখন দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় আপনাআপনি। কিন্তু রিশাদ হোসেন তাঁর লেগস্পিন ভেলকিতে গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে কুপোকাত করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়লেন গতকাল মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই। উইন্ডিজের বিপক্ষে এ ওয়ানডেতে ৯ ওভারে ৩৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছেন রিশাদ। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি আট নম্বরে নেমে ১৩ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ লেগস্পিনার বলেন, ‘এটার অর্থ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ দিয়েছেন।’ ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবির হেড অব প্রোগ্রাম মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। রিশাদকে নিয়ে নান্নু বলেন, ‘আমি আর সুমন মিলে পরিকল্পনা করেছিলাম। হাইপারফরম্যান্সে তাকে (রিশাদ) আমরা ভালোভাবে পরিচর্যা করি। রিশাদকে নিয়ে একটু কষ্ট হচ্ছিল। কারণ, তার জন্য দল পাচ্ছিলাম না। এনসিএলে লেগস্পিনার খেলানোর ব্যবস্থা করেছিলাম, যাতে বাধ্যতামূলক একজন খেলাতে পারে; দীর্ঘ পরিসরের খেলায় বেশি বোলিংয়ের সুযোগ পায়।’

জুবায়ের হোসেন লিখন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব রিশাদের আগে এই দুই লেগস্পিনার খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থিতু হতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে রিশাদ এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিত ক্রিকেটার বনে গেছেন। রিশাদের মতো লেগস্পিনার কীভাবে পেল বাংলাদেশ, সে গল্প বলতে গিয়ে নান্নু বলেন, ‘লেগস্পিন নিয়ে এই দেশে একটা সংস্কৃতি আছে। আমরা তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স চাই। লেগস্পিনারকে সময় দিতে হয়, সেটা আমরা সবাই জানি। ক্লাবে এ ধরনের সাপোর্ট আমরা পাই না। তো প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট, প্রথম ডিভিশন ক্রিকেট, যা-ই বলেন, সব জায়গায় একই চর্চা চলতে থাকে। লেগস্পিনার বের করে আনা অনেক কঠিন কাজ ছিল। প্রথম দিকে লিখনকে দেখেছিলাম, এরপর আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, তারপর রিশাদ। সবকিছু মিলিয়ে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে।’

২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত রিশাদ ১২ ওয়ানডেতে ৫.২৮ ইকোনমিতে নিয়েছেন ১৬ উইকেট। অথচ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই সংস্করণে তাঁর শুরুটা তেমন ভালো হয়নি। ক্যারিয়ারের প্রথম ৭ ওয়ানডেতে ৬.০৫ ইকোনমিতে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। এ ছাড়া দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি তাঁর ক্যামিও ইনিংস ও ফিল্ডিংটাও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ২৩ বছর বয়সী এই লেগস্পিনারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে নান্নু বলেন, রিশাদের ভালো গুণ হলো যথেষ্ট পরিশ্রমী। সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশি চেষ্টা করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত