Ajker Patrika

‘প্রতিপক্ষই ছিল না, বিসিবি নির্বাচনে তাহলে অনিয়ম কীভাবে হবে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২১: ৪৯
‘প্রতিপক্ষই ছিল না, বিসিবি নির্বাচনে তাহলে অনিয়ম কীভাবে হবে’
বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের কোনো সুযোগই ছিল না বলে মনে করেন ফারুক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত বছরের নির্বাচনের পর থেকেই বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ দাবি করছেন তামিম ইকবাল ও তাঁর সমমনা সংগঠকেরা। এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এরই মধ্যে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তবে বিসিবি সহসভাপতি ফারুক আহমেদের দাবি নির্বাচনে অনিয়মের কোনো সুযোগই ছিল না।

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচনের আগেই অনেকে বর্জন করেছিল। এই নির্বাচন থেকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ফারুক হয়েছেন সহসভাপতি। বিসিবির এই ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন ইস্যুতে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছে ফারুককে। আজ সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে তো কোনো প্রতিপক্ষই ছিল না। এখানে অনিয়মের সম্ভাবনা কীভাবে দেখছেন আপনি? এখানে ভোটার ছিল মনে করেন ৭৬ জনের মতো। তার মধ্যে ৪২ টা ভোট কাস্ট হয়েছে, যেখানে আমি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলাম। এখানে ৩৪ টা ভোট এরই মধ্যে নেই। যেহেতু প্রতিপক্ষই নেই, এখানে অনিয়মের সম্ভাবনা খুব কম। নাই বলা চলে। আমার মনে হয় যেটা ভোটাভুটি হয়েছে, ঠিকই হয়েছে।’

দেড় মাস পর অস্ট্রেলিয়া থেকে আজ দেশে ফিরেছেন বুলবুল। দেশে ফিরেই চলে গেছেন মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে। তবে তদন্ত কমিটির ব্যাপারে বুলবুলের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফারুক। বিসিবি সহসভাপতি বলেন, ‘আমি এসেই এখানে শুনলাম যে তিনি অফিস করছেন। অবশ্যই আমি তাকে কল দেব। আমার সঙ্গে কথা হবে।’

বিসিবির গত বছরের নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বাধীন তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গত ১১ মার্চ গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই ঘটনার পর বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন পদত্যাগ করেছেন। কেউ নাকি দাবিও করেন, নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হতে পারত।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে যদি কিছু বলারই থাকত, তাহলে সেটা পদত্যাগের আগে বলা দরকার ছিল বলে মনে করেন ফারুক। আজ সংবাদমাধ্যমকে বিসিবি সহসভাপতি বলেন, ‘আপনি দুইটা প্রশ্ন করেছেন। দুইজন পরিচালক পদত্যাগের পর বলেছেন যে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হতে পারত। এটা পদত্যাগের আগে বলতে পারলে ভালো হতো। আর হাত খুলে, মন খুলে কাজ করতে পারছেন না। এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি একই প্রশ্ন দুই পরিচালককে করলে এক রকম উত্তর আসবে না। এটা একটা দেখারও ব্যাপার থাকবে। শাহনিয়ানের মতো তরুণের কাজ করার আগ্রহ বেশি। সে চায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভালো কিছু করতে। এই নির্বাচনের পরে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। পুরো ব্যাপারটা স্মুথ ছিল না। আরেকটু ধৈর্য থাকা উচিত। আপনার হাতে চার বছর থাকলে উন্নতির অনেক সুযোগ থাকবে।’

তদন্ত কমিটির সঙ্গে কী কথাবার্তা হয়েছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু গণমাধ্যমকে বলেননি ফারুক। তবে তাঁর দাবি যে বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো কিছু তিনি গোপন করেননি। বিসিবি সহসভাপতি বলেন, ‘আমার কাছে খুবই ফ্রেন্ডলি মনে হয়েছে। তাদের সবারই দেখলাম ক্রিকেট নিয়ে অনেক আগ্রহ আছে। আমাদের একজন মাননীয় বিচারক ছিলেন। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী ও একজন সাংবাদিক ছিলেন, যিনি দীর্ঘদিন খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। ক্রিকেট সংক্রান্ত আমার তো প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা। তারা জানতে চেয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ব্যাপারে। আমার মনে হয় যে কাগজগুলো তাদের কাছে এসেছে, সেই কাগজগুলো নিয়েই কথা বলেছে আমার সঙ্গে। আমি যা জানি, যা সত্যি সবই বলেছি আমি।’

বিসিবিতে এসে আজ প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সঙ্গে ক্রিকেটারদের অনুশীলন দেখেছেন। টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পাশাপাশি জাকের আলী অনিক, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, হাসান মুরাদরা অনুশীলন করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত