Ajker Patrika

তামিম স্থাপনা তৈরি করছেন, খেলোয়াড় কতটা তৈরি করছেন—আফতাবের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৭: ০৯
তামিম স্থাপনা তৈরি করছেন, খেলোয়াড় কতটা তৈরি করছেন—আফতাবের প্রশ্ন
তামিম ইকবাল ও আফতাব আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর যেন জিততেই ভুলে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এশিয়ান গেমস ক্রিকেট, জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে দল। হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি সিরিজের মিরপুর টেস্টেও। ব্যর্থতার এই ধারাবাহিকতায় দেশের ক্রিকেটের কোন হিতাকাঙ্ক্ষীরই না মন খারাপ হয়! মন খারাপ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদেরও।

তামিম ইকবাল বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক কিছুতেই দৃশ্যমান উন্নতি। ড্রেসিংরুম সংস্কার করেছেন। সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য তৈরি করছেন টাইগার্স ডেন। দলের ক্রিকেটারদের জন্য সুইমিং পুল তৈরি হচ্ছে, সংস্কার হচ্ছে জিমনেসিয়াম। বিসিবি একাডেমিতে বসছে টার্ফ। দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসে প্রশংসনীয় অনেক কিছুই করছেন তামিম ইকবাল। কিন্তু ক্রিকেটার তৈরির কাজ কতটুকু করছেন তিনি—ঠিক এই প্রশ্নটাকে এবার নিয়ে এলেন আফতাব আহমেদ।নিজের অফিশিয়ল ফেসবুক পেজে আফতাব গতকাল এক ভিডিও বার্তায় সামনে নিয়ে এসেছেন এই প্রশ্ন। বিসিবি সভাপতির প্রশংসা দিয়েই শুরু করেন আফতাব, ‘আমাদের এখন বর্তমানে যিনি প্রেসিডেন্ট আছেন, আমি প্রশংসা করি যে তিনি সুন্দর ড্রেসিংরুম বানিয়েছেন। অ্যাথলেটিক ট্র্যাক বানাচ্ছেন। আরও অনেক কিছু বানাচ্ছেন। প্রশংসা করার মতোই। এটা তো আসলে আমাদের জন্য খুবই দরকার। সুযোগ-সুবিধা যত বাড়বে, আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য তত ভালো কিছু হবে।’

এরপরই অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রিকেটার তৈরির কাজেও তামিমের মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আফতাব। জাতীয় দলের জার্সিতে ১১২ ম্যাচ খেলা আফতাব ওই ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি সভাপতিকে একটা কথা বলতে চাই, আপনি আসল জায়গা বাদ দিয়ে, আমার মতে বিভিন্ন জায়গায় যেগুলো করছেন, সে সব কেন করছেন, সেটা হয়তোবা আপনিই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের আসলে যেখানে ফোকাস করা উচিত, ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কী কী করতে হবে, সেটা আপনি আমার চেয়ে অনেক ভালো জানেন। অনেক বেশি ভালো জানেন। কারণ, আপনি অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছেন। ভালো জায়গায় ছিলেন। অবশ্যই আপনার সেই ব্যাপারে ধারণা আছে। আশা করি, সেই সব আপনি করবেন।’

তামিম, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ—বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ‘পঞ্চ পাণ্ডব’ যখন খেলেছেন রোমন্থনের অনেক স্মৃতিই তৈরি হয়েছে দেশের ক্রিকেটে। কিন্তু একে একে তাঁরা বিদায় নিয়েছেন। নতুন নতুন ক্রিকেটার তৈরির জায়গায় যথেষ্ট কাজ করা হয়নি বলেই তাঁদের মতো ক্রিকেটার সেভাবে উঠে আসেনি। জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার আফতাব বললেন, ‘পঞ্চপাণ্ডব যখন চলে যাবে, তখন কিন্তু বলা হয়েছে, যারা আসবে, তাদের আগে থেকে প্রস্তুত করেন। তা না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিকল্প (দাঁড় করানো) কঠিন হয়ে যাবে। কারণ, তাদের সঙ্গে বর্তমানের ক্রিকেটারদের পার্থক্য ১৯-২০ নয়, ১৫-২০। এটা কিন্তু অনেক বড় এক পার্থক্য। এত পার্থক্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে খেলে টিকে থাকা কিন্তু সহজ নয়। যা আমরা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেই সাংবাদিকদের বলে এসেছি। এটা নতুন করে কোনো কিছু বলার নাই।’

কিন্তু এ নিয়ে কারও মাথা ব্যথা নেই। আফতাবের আক্ষেপটা এখানেই—‘ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বে যারাই আসে, তারাই কীভাবে নিজেদের আরও শো করা যায়, কীভাবে নিজেদের বেনিফিট নেওয়া যায়, সে চিন্তাই করে।’

নতুন নতুন ক্রিকেটার উঠে আসার পথ ত্বরান্বিত করতে কী কী করা যায় তারও একটা রূপরেখা ভিডিও বার্তায় দিয়েছেন আফতাব। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি যত দিন পর্যন্ত না অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৫.... এই সব পর্যায়ে হাত না দেবেন, ক্রিকেটকে ঢাকা কেন্দ্রিক করে রাখবেন, দেশের আনাচে-কানাচে থাকা খেলোয়াড়দের তুলে আনার জায়গায় হাত না দেবেন, ততক্ষণ খেলোয়াড় তুলে আনা এবং খেলোয়াড়দের উন্নয়ন করা কঠিন হয়ে যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত