Ajker Patrika

ম্যারাডোনার ‘আসল বিপদ’ বুঝতেই পারেননি চিকিৎসকেরা

ক্রীড়া ডেস্ক    
ম্যারাডোনার ‘আসল বিপদ’ বুঝতেই পারেননি  চিকিৎসকেরা
২০২০ সালে না ফেরার দেশে চলে যান দিয়েগো ম্যারাডোনা। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার কিডনির অবনতিশীল অবস্থা চিকিৎসকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা ছিল। কিন্তু তাঁরা সেটি যথাযথভাবে আমলে নেননি বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক কিডনি রোগবিশেষজ্ঞ।

বুয়েনস এইরেসের এক আদালতে চলা মামলায় মঙ্গলবার নেফ্রোলজিস্ট হার্নান ত্রিমার্চি বলেন, ‘‘ম্যারাডোনা ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজে’ ভুগছিলেন’’। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ও ফুসফুসে তরল জমে মারা যান ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি।

মস্তিষ্কে রক্ত জমাটের অস্ত্রোপচারের পর বুয়েনস এইরেসের তিগ্রে এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন ম্যারাডোনা। তাঁর চিকিৎসক, মনোরোগবিশেষজ্ঞ ও নার্সসহ সাত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগে মামলা চলছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবর্তে তাঁকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আদালত।

ত্রিমার্চি জানান, ম্যারাডোনার কিডনি অস্বাভাবিকভাবে ভারী ছিল এবং সেখানে স্থূলতা, কোকেন সেবন ও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষত পাওয়া যায়। তাঁর মতে, অন্তত প্রতিদিন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, নার্সিং সেবা, রক্ত পরীক্ষা এবং শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর প্রায় দুই সপ্তাহের সুস্থ হওয়ার সময়ে ম্যারাডোনার কোনো রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল—এমন রেকর্ড নেই বলে আদালতকে জানান তিনি। তাঁর বাড়তে থাকা ওজন ও উচ্চ রক্তচাপও চিকিৎসকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয় ছিল বলে উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

এর আগে এপ্রিলে আদালতে ম্যারাডোনার মৃত্যুশয্যার ছবি দেখানো হয়, যেখানে শরীরে পানি জমে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছিল। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে তিনি তীব্র কষ্টে ছিলেন।

ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত উপেক্ষা করার কথা আদালতে জানান তৃতীয় বিশেষজ্ঞ ত্রিমার্চি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য দায় অস্বীকার করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত