Ajker Patrika

সিঙ্গাপুরের কাছে হেরেও কেন খুশি বাংলাদেশ কোচ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সিঙ্গাপুরের কাছে হেরেও কেন খুশি বাংলাদেশ কোচ
বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। ছবি: বাফুফে

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হার। ফিফা আসিয়ান কাপে দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রাপ্তি শূন্য। তবে দুই ম্যাচের পার্থক্যটা চোখে পড়েছে বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলির। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে হতাশ হলেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের লড়াইয়ে খুশি তিনি। কিন্তু সেই খুশির মধ্যেও ডুলির চোখে বড় সমস্যাটা স্পষ্ট—বাংলাদেশের গোল করার মতো ‘নিখুঁত স্ট্রাইকার’ নেই।

সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ‘আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে আমরা খেলতে পারি এবং সিঙ্গাপুরকে হারানোর মতো সামর্থ্যও রাখি। কিন্তু আমাদের বড় সমস্যা হলো গোল করা। দলে এমন কোনো নিখুঁত স্ট্রাইকার নেই যে বল জালে জড়াতে পারে।’

গত মার্চে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পর এবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলশূন্য থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। যদিও ডুলির চোখে এবার দলের চেহারা ছিল আলাদা। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা গত ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি দল দেখেছি। তাই আমি খুবই আনন্দিত যে খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। আপনারা দলের খেলার ধরন দেখতে পেয়েছেন, আমরা ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি এবং আপনারা দেখতে পেয়েছেন খেলোয়াড়রা মাঠে কী করার চেষ্টা করেছে।’

শেষ ২০ মিনিটে বাংলাদেশের গোলের সুযোগ এসেছিল বলেও মনে করেন ডুলি। শমিত সোমের হেডের সুযোগটির কথাও আলাদা করে বলেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা ফুটবল খেলতে পেরেছি এবং শেষ ২০ মিনিটে যদি আমাদের গোল করার সুযোগ কাজে লাগত।তবে হয়তো ফলাফল আমাদের পক্ষে আরও ইতিবাচক হতে পারত। শমিতের চমৎকার একটি সুযোগ ছিল। সে হেড মিস করেছে। তবে খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা খুব ভালো ছিল।’

মালয়েশিয়া ম্যাচে দলের লড়াই নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন ডুলি। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেই জায়গাতেই উন্নতি দেখেছেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় শিক্ষা ছিল। আর আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে আমরা খেলতে পারি এবং সিঙ্গাপুরকে হারানোর মতো সামর্থ্যও রাখি।’

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সীমাবদ্ধতাকেও দলের উন্নতির পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ডুলি। নিয়মিত শক্ত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলার ঘাটতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘লিগ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কারণ সেখানে প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলে ভুল থেকে শেখার সুযোগ পায়। এই ঘাটতিটাই আমাদের রয়েছে। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায়।’

সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তাই আসিয়ান কাপে পাওয়া শিক্ষাগুলো সেখানেই কাজে লাগাতে চান ডুলি। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ থেকেও ইতিবাচক কিছু নেওয়ার আশা তাঁর, ‘আশা করি ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ থেকেও আমরা ইতিবাচক কিছু শিখতে পারব, যা আমাদের সাফে কাজে দেবে এবং ২৩ বছর পর আবারও সাফ শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত