Ajker Patrika

ভারতীয় ক্রিকেটারদের পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে ‘ধুয়ে’ দিয়েছেন গাভাস্কার

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০০
ভারতীয় ক্রিকেটারদের পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে ‘ধুয়ে’ দিয়েছেন গাভাস্কার
ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা যেন কখনোই কমার নয়। বছরজুড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিভিন্ন সূচি তো রয়েছেই, এমনকি আইপিএল, ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটসহ রাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলতে হয় ক্রিকেটারদের। সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কারের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত।

একটা পরিসংখ্যান দেখা যাক। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত তিন সংস্করণ মিলে সর্বোচ্চ ১৯১ ম্যাচ খেলেছে ভারত। এ সময় আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তিন চক্র (২০২১-২৩ চক্রের ফাইনাল, ২০২৩-২৫, ২০২৫-২৭), একটা ওয়ানডে বিশ্বকাপ, দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, একটা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—ভারত সবখানেই খেলেছে। খেলার পাশাপাশি ভ্রমণঝক্কিও কম হয়নি ভারতীয় ক্রিকেটারদের।

গাভাস্কারের মতে আগামী চক্রে (২০২৭-৩১) যেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোডের কথা বিবেচনা করে আইসিসি সূচি তৈরি করে। ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি স্পোর্টস্টারে এক কলামে লিখেছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি, ২০২৭ সাল থেকে পরবর্তী চার বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি নিয়ে যখন আইসিসির বৈঠক হবে, তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা যেন বুঝতে পারেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা যন্ত্র না। আবার তারা আখও না যে, অনন্তকাল ধরে প্রতি ফোঁটা রস তাদের থেকে বের করে নেওয়া যাবে।’

আইপিএল তো বটেই, ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো এতটাই শক্তিশালী যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়, সেটা ক্রিকেটাররা দারুণভাবে রপ্ত করে ফেলেন। অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, রবি বিষ্ণুইরা যখনই সুযোগ পান, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে জবাব দেন। অনেক সময় এটাও শোনা যায় যে, ভারত চাইলে একই সময়ে একাধিক দল মাঠে নামাতে পারে। গাভাস্কার এই কথার সঙ্গে অবশ্য পুরোপুরি একমত নন।

স্পোর্টস্টারে লেখা কলামে গাভাস্কার জানিয়েছেন, ভারতের এখন এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি লিখেছেন, ‘ভারতের বেঞ্চের শক্তি এতটাই বেশি যে, তারা তিনটি দল মাঠে নামাতে পারে। বিশ্বের কাছে এমন দাবি করা ভালো শোনায়। কিন্তু সাম্প্রতিক ফলাফলই দেখিয়ে দিয়েছে, বাস্তবে এই মুহূর্তে একটা ভারতীয় দলও খুব বেশি শিরোপা জেতার মতো যথেষ্ট ভালো অবস্থায় নেই। হ্যাঁ, এশিয়ান গেমসে একটি স্বর্ণপদক আবারও দলকে চাঙ্গা করবে এবং সামনে আসন্ন টুর্নামেন্টগুলোতে লড়াই করতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’

গাভাস্কারের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার না দিলে বিশ্বমানের ক্রিকেটার তৈরি করা সম্ভব নয়। আমাদের ছেলে ও মেয়ে—উভয় দলের জন্যই শুভকামনা, তারা যেন স্বর্ণপদক জিততে পারে।’

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ খেলার দিক থেকে দুইয়ে নিউজিল্যান্ড। কিউইরা এ সময় খেলেছে ১৮০ ম্যাচ। এই সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশ, পাকিস্তান উভয়ই ১৮০টি করে ম্যাচ খেলেছে। এদিকে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির টেস্ট ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ব্যস্ততা অনেক কম। কারণ, ভারতের জার্সিতে তাঁরা শুধু ওয়ানডে খেলেন।

নিসশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটের ম্যাচগুলো হবে। ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে জাপান, আফগানিস্তান ও নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে হংকং ও ওমানের সঙ্গে রয়েছে মালয়েশিয়া। তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এরই মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত খেলতে নামবে কোয়ার্টারে। তবে প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে ‘এ’, ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচগুলো শেষে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত