
বিশ্বকাপজয়ী কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির স্মৃতিতে বড় ম্যাচের অভাব নেই। আছে কোপা আমেরিকার ফাইনাল, আছে বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই বিশ্বকাপেও রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে একের পর এক ম্যাচ। কিন্তু ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর স্কালোনির কাছে সবার ওপরে উঠে এসেছে এই সেমিফাইনালই।
আর্জেন্টিনা কোচের মতে, প্রতিপক্ষের নামের কারণে নয়, ম্যাচের নাটকীয়তা, লড়াই আর শেষ পর্যন্ত হাল না ছাড়ার মানসিকতার কারণেই এই জয় সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর দেখা সেরা ম্যাচ। এমনকি শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও ঘুরে দাঁড়ানো জয়কে পাত্তাই দিলেন না তিনি।
ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে আমি খুব ছোট ছিলাম। তাই আজকের ম্যাচের সঙ্গে সেই ম্যাচের তুলনা করব না। তবে এত দিন আমরা মনে করতাম, মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটাই ছিল সেরা। আজকের ম্যাচ সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, এটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। যেভাবে ম্যাচটা হয়েছে, এমনটা আগে কখনো হয়েছে কি না, জানি না। দিয়েগো ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোল ইতিহাসের অংশ। কিন্তু পুরো ম্যাচের বিচারে আজকের লড়াই ছিল অবিশ্বাস্য।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। শেষ সাত মিনিটে এনসো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা। স্কালোনির বিশ্বাস, এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে ছিল তাঁর দলের অদম্য মানসিকতা। তিনি বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের কাছে কৃতজ্ঞ। এই দল না থাকলে কিছুই সম্ভব হতো না। যারা আজ খেলেনি, তারাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর বেঞ্চ থেকে নেমে যারা খেলেছে, তারা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। ফুটবল, জীবনের মতোই, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার নাম।’
ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনা যেভাবে ইংল্যান্ডকে চেপে ধরেছিল, সেটিকেও দলের পরিচয় হিসেবে দেখছেন স্কালোনি, ‘প্রতিপক্ষ যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, আমরা সেটা বুঝতে পারি এবং সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করি। ওরা গোল করার পর পেছনে নেমে যায়। কিন্তু সেই সময় আমাদের খেলোয়াড়রা যে ফুটবল খেলেছে, সেটাই আমরা দেখতে চাই। ওই সময়টুকুতেই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য ছিল। পরে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আবার লড়াই করতে হয়েছে, সেটাও আমরা করেছি। ফুটবল ছোটবেলা থেকেই আপনাকে এই শিক্ষা দেয়।’
আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে সুবিধা পাচ্ছে—এমন আলোচনা নিয়েও কথা বলেছেন স্কালোনি। তাঁর মতে, ভিএআরের যুগে এমন অভিযোগের ভিত্তি খুবই দুর্বল। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে, আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখন ভিএআর আছে। এই সময়ে কাউকে সাহায্য করা খুব কঠিন। আমরা জানতাম, আমাদের জন্য কোনো সাহায্য থাকবে না।’
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল।

এবার আর্জেন্টিনার সামনে আর মাত্র একটি বাধা। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনকে হারাতে পারলেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি নিজেদের ইতিহাসে চতুর্থ শিরোপাও ঘরে তুলবে মেসির দল।
২ ঘণ্টা আগে
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৫ মিনিটে গোল হজম করার পরও ভেঙে পড়েনি আর্জেন্টিনা। বরং শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণে ইংলিশদের রক্ষণ চেপে ধরে। ৮৫ মিনিটে এনসো ফের্নান্দেস সমতা ফেরান, আর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের হেডে নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট। দুটো গোলেরই জোগানদাতা মেসি, ‘ম্যাচ কঠিন হয়ে যাওয়ার পরও আমরা
২ ঘণ্টা আগে
মেসি আরও বলেন, ‘মানুষের জন্য আমরা যা অর্জন করেছি, যা দিতে পেরেছি, তাতে আমরা গর্বিত। তারা যেভাবে এটা উপভোগ করছে, সেটাই আমাদের আনন্দ দেয়। মনুমেন্তো, ওবেলিস্ক—সব জায়গায় মানুষ উদ্যাপন করছে। এটা সাধারণ কোনো ম্যাচ ছিল না। সব আর্জেন্টাইনদের জন্য এটা ছিল খুবই বিশেষ একটি ম্যাচ। এমন একটি ম্যাচ, যেটা আমরা
২ ঘণ্টা আগে
তবে মাঠের উদ্যাপনের বাইরেও আর্জেন্টিনার মূল অর্জন ছিল ফুটবলেই। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে এনসো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
২ ঘণ্টা আগে