
স্কোরকার্ডই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশের জয় কতটা দাপুটে ছিল। ডারউইনে আজ চতুর্থ দিনেই মুমিনুল হক ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশকে এনে দেন ৯ উইকেটের বিশাল এক জয়। তখনো প্রায় দেড় দিনের মতো খেলা বাকি। স্বাগতিকদের এমন বাজে পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেন মার্ক ওয়াহ।
ডারউইনে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়ের পর ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। কায়ো স্পোর্টস নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সেই ভিডিও পোস্ট করেছে। মার্ক ওয়াহর মতে প্যাট কামিন্সের এই অস্ট্রেলিয়া ভীতু ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমাদের অনেক ক্রিকেটারই যেন একটু ভয় নিয়ে ব্যাটিং করেছে। এমন কিছু তরুণ আছে যাদের দ্রুত কিছু রান করা দরকার।’
টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়া করেছে ১৯৮ রান। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া বলার মতো কিছুই ছিল না প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করলেও তা বাংলাদেশকে হারানোর মতো যথেষ্ট ছিল না। মাত্র ৮৬ বলেই ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মার্ক ওয়াহ বলেন, ‘আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে কিছুটা গাফিলতি ছিল। তারা টস জিতে এই সবুজ পিচে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তাদের শট নির্বাচন কিছুটা বাজে ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের শেখা উচিত ছিল। যা তারা আসলে শেখেনি।’
সবশেষ ২০২৫-২৬ অ্যাশেজেই ৬২৯ রান করেছিলেন ট্রাভিস হেড। তিন ফিফটির তিনটিকেই সেঞ্চুরিতে পরিণত করেছিলেন তিনি। তবে ডারউইনে এবার দুই ইনিংস মিলে ফিফটিও করতে পারেননি। ২২ ও ১৭ রান করেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার। আরেক ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড প্রথম ইনিংসে ২৩ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আর স্মিথের ব্যাট থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে আসে ৪৪ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সেঞ্চুরির পর ডাগআউট থেকে ভেসে আসতে থাকে করতালি। হাসান মাহমুদের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ১০৪ রান। গ্রিনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে মার্ক ওয়াহ অন্যান্যদের সমালোচনা করেছেন। অজি কিংবদন্তি বলেন, ‘ম্যাচের শেষের দিকে এসে বোলারদের জন্য এই পিচে বাড়তি কোনো সহায়তা ছিল না। আমাদের অনেক খেলোয়াড়কে ভয়ের সঙ্গে ব্যাটিং করতে দেখেছি। যাদের ঝুলিতে রান বড্ড প্রয়োজন। আমি খুশি যে ক্যামেরন গ্রিন কিছু রান পেয়েছে। সে অন্তত ভালো পারফর্ম করেছে। কিন্তু অন্যান্য খেলোয়াড়দের কথা বলব। তারা এখনো অনেক ভয় নিয়ে খেলছে।’
অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবারই যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জিতেছে তা নয়। এর আগেও তিন সংস্করণে জয়ের কীর্তি রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের। তবে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে টেস্টে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উদযাপনটা তাই বাঁধনহারা।
১ ঘণ্টা আগে

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যে অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ ২০০৩ সালে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ, নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ২৩ বছর পর সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে এশিয়ার এই দলটি। ঐতিহাসিক জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বে চলছে বাংলাদেশ বন্দনা।
১ ঘণ্টা আগে
৯ উইকেটের জয় নিশ্চিতের পর ডারউইন হয়ে যায় এক টুকরো বাংলাদেশ। গ্যালারিতে প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকেরা উড়িয়েছেন লাল সবুজ পতাকা। শুধু যে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দর্শকেরাই এটা উপভোগ করেছেন তা নয়। সুদূর বাংলাদেশ থেকেও দর্শকেরা টিভিতে সেটা উপভোগ করেছেন। কিন্তু সেটা বাংলাদেশের কোনো টিভিতে নয়। খেলা
৩ ঘণ্টা আগে