Ajker Patrika

ভারত ইস্যুতে দেশের ক্রিকেটে ‘গৃহবিবাদ’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৩১
ভারত ইস্যুতে দেশের ক্রিকেটে ‘গৃহবিবাদ’
বাংলাদেশ দলের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

ঘনিয়ে আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এক মাসেরও কম সময় বাকি। এ সময়ে দল নিয়ে কোথায় বিশ্লেষণ হবে, সেখানে উদ্বেগ, চিন্তা, আলোচনা বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা নিয়ে।

ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে পরশু আইসিসিকে দ্বিতীয় দফায় চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে আরও বিস্তারিতভাবে। এই চিঠির পর গতকাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বসেছে। এমনও গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তাড়াহুড়ো করে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা বিসিসিআই সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়ার পদত্যাগের মাধ্যমে বিসিবিকে রাজি করানো হতে পারে। যদিও এ গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে একাধিক সূত্র। আইসিসি সভাপতি জয় শাহের খুবই আস্থাভাজন দেবাজিৎকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এত সহজ নয়! বরং জয় শাহ, দেবাজিৎ, আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত ভারতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই দেখবেন বলে ধারণা করে বিসিবি।

গতকাল সন্ধ্যায় দেবাজিৎ এক্সে অবশ্য নিজেদের বৈঠকের একটি ছবিও পোস্ট করেছেন। সেখানে অবশ্য উল্লেখ করেছেন তাঁরা ভারতীয় ক্রিকেটিং পাইপলাইন সমৃদ্ধবিষয়ক বৈঠক করেছেন। ক্যাপশনে যেটাই লিখুন, রাজীব শুক্লার উপস্থিতি হওয়া সভার যে ভালো অংশজুড়েই বাংলাদেশ থাকবে, তা অনুমান করা যায়। বিসিসিআইয়ের বেশির ভাগ কর্মকর্তাই উপলব্ধি করছেন, বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে মোস্তাফিজকে কেন্দ্র করে এমন বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত হয়নি। এর জেরেই তো নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও এশিয়া কাপ খেলতে পাকিস্তান না যাওয়ার পেছনে বিসিসিআইয়ে সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেয় ভারতীয় সরকারের ওপর। বিসিবিও ঠিক একই কাজ করেছে।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সরাসরি বলেছেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ অনড়। সে সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল পরামর্শ দিয়েছেন বিসিবিকে। এ নিয়ে দেশের ক্রিকেটে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি।

তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিসিবির রাজস্বের ৯০-৯৫ শতাংশ টাকা আইসিসি থেকে আসে। স্বয়ং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, এটি বছরে ৫৫-৬০ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে বিসিবির অভ্যন্তরীণ আয় কিছুটা কমলেও আইসিসি থেকে আয় কোনোভাবেই ৯০-৯৫ শতাংশ নয় (যেটা তামিম বলেছেন)।

তামিমের মন্তব্যের বিরোধিতা করে সরাসরি তাঁকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যা দিয়ে আগুনে ঘি ঢেলেছেন বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।

পরে সিলেটের এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘ক্রিকেটকে নিরাপদ করার দায়িত্ব আমাদের। দুজন সাবেক অধিনায়ক সভাপতি এবং সহসভাপতি পদে আছেন, তারপরও সেই ক্রিকেট বোর্ড থেকে এ ধরনের কথা যখন বলে... একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন জাগে।’

বিশ্বকাপ ইস্যুতে নিজের দ্বিতীয় পোস্টে এম নজরুল লেখেন, ‘...এমন একটি জাতীয় উদ্বেগের সময়ে, দেশের সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান করা আমাদের একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার যেভাবে ভারতের পক্ষ অবলম্বন করে কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তামিমের ইস্যুতে যেভাবে সরব কোয়াব, মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর কেন নীরব ছিলেন তাঁরা? এর ব্যাখ্যায় মিঠুন বলেছেন, ‘আমরা ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনসের (ফিকা) সঙ্গে মিটিং করেছি মোস্তাফিজকে নিয়ে। মোস্তাফিজকে নিয়ে কী কী করতে পারি, কোন কোন পদক্ষেপ নিতে পারি। ফিকা আমাদের নিশ্চিত করেছিল, যদি মোস্তাফিজ চায় ওকে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার দেবে। পরে মোস্তাফিজ বলেছে, এখন আপাতত থাক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত