Ajker Patrika

মনিরা-মিতু-নুসরাতের নেতৃত্বে নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৩: ৫৩
মনিরা-মিতু-নুসরাতের নেতৃত্বে নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ করেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম জানান, নারীশক্তির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। আর সদস্যসচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।

এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও জাতীয় নারীশক্তি নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন ইস্যুতে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে নারীদের অধিকারের প্রতিটি অর্জন এসেছে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের প্রশ্নে নারীদের বারবার লড়াই করতে হয়েছে। একইভাবে জাতীয় বিভিন্ন আন্দোলনেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আন্দোলনেই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তবে এসব আন্দোলনে নারীরাই অনেক সময় সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। কারণ কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রভাগে অনেক নারী শিক্ষার্থী ছিলেন। সে কারণেই তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিপুল সংখ্যক নারী রাজপথে থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এর পেছনে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং অনলাইন সাইবার বুলিং বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। অনেক নারী কর্মী এসব কারণে রাজনীতি ছেড়ে দিতেও বাধ্য হয়েছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, যেখানে নারীরা নিজেদের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারবেন এবং সংগঠিত হতে পারবেন। সেই চিন্তা থেকেই জাতীয় নারীশক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নারীরা বড় স্টেকহোল্ডার। তাদের কণ্ঠস্বর রাজনীতিতে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। জাতীয় নারীশক্তি সেই হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠগুলোকে আবার সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে।’

নাহিদ ইসলাম নারীদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধে সরকারের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা জানান, অচিরেই জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সারাদেশে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তার করা হবে।

নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার’ শীর্ষক আলোচনা সভাও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাহমুদা মিতু উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত