
‘রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে অপরাধী, তাঁর বক্তব্য আমরা এই মহান সংসদে শুনতে পারি না’—এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বাইরে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সংসদ জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে এই সংসদে যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিল, যারা খুনের সহযোগী ছিল, তারা কেউ যেন এখানে কোনো বক্তব্য রাখতে না পারে। এই রাষ্ট্রপতি তিন কারণে অপরাধী, তাঁর বক্তব্য এই মহান সংসদে আমরা শুনতে পারি না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রথম কারণ হচ্ছে—তিনি সমস্ত খুনের সহযোগী ছিলেন। তাঁর আমলের যে খুনগুলো হয়েছে, একটার বিরুদ্ধেও তিনি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন নাই; তিনি কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন নাই। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের অভিভাবক, আর অভিভাবক হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি এই জঘন্য অপরাধ করেছেন।’
দ্বিতীয় কারণ উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। পরবর্তীতে দুটি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি তা অস্বীকার করেছেন এবং নতুন গল্প সামনে নিয়ে এসেছেন।’
রাষ্ট্রপতি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। দেশের প্রেসিডেন্ট মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকা তাঁর আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘তৃতীয় অপরাধ—তিনি নিজের হাতে অরডিনান্স সাইন করেছেন। এই জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের পরে যারা নির্বাচিত হবেন তারা দুইটা ক্যাপাসিটিতে নির্বাচিত হবেন; তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এবং একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই শপথ দুটো আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি।’
রাষ্ট্রপতির প্রথম দায়িত্ব ছিল গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের ভেতরে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা—এমন মন্তব্য করে শফিকু রহমান বলেন, ‘কিন্তু তিনি সেই অধিবেশন ডাকেন নাই। গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে ৭০ ভাগ মানুষ, অথচ তিনি ৭০ ভাগ জনগণকে তথা দেশবাসীকে অপমান করেছেন। এখানেও তিনি অপরাধ করেছেন’।
এই তিন ‘অপরাধের’ কারণে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চান না বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি জানান, তাঁরা সরকারি দলকেও অনুরোধ জানিয়েছেন, তাঁকে যেন ভাষণ দিতে দেওয়া না হয়, কিন্তু সরকারি দল তাঁদের কথা গ্রাহ্য করেনি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। আমরা ভবিষ্যতে এই সংসদে কোনো অন্যায়কে বরদাশত করব না এবং মেনে নেব না। আমরা জনগণের স্বার্থের ও অধিকারের পক্ষে লড়াই করে যাব।’

এ সময় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিন শব্দের একটি পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘Get out Chuppu.’
১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনসহ তিন দাবিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন তাঁরা।
৭ ঘণ্টা আগে
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে পুরোনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন শুরু করতে হবে। তা না হলে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১৭ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেবেন তাঁরা।
১৮ ঘণ্টা আগে