Ajker Patrika

২০০২ সালের শামসুন্নাহার হল নির্যাতনের বিচারহীনতার অবসান চায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ২২: ২১
২০০২ সালের শামসুন্নাহার হল নির্যাতনের বিচারহীনতার অবসান চায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী
ঢাবিতে ‘স্মৃতিতে প্রতিরোধ: শামসুন্নাহার হল নির্যাতন দিবস’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শামসুন্নাহার হলে ২০০২ সালের ২৩ জুলাই সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনার বিচার, দিবসটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও শিক্ষার্থী নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

আজ বৃহস্পতিবার শামসুন্নাহার হলের মূল ফটকে ‘স্মৃতিতে প্রতিরোধ: শামসুন্নাহার হল নির্যাতন দিবস’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীতে বক্তারা এসব দাবি জানান।

সভায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, ২০০২ সালের ২৩ জুলাই ছাত্রদলের হল দখলের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও ছাত্রদলের সমন্বিত হামলার শিকার হন শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থীরা। গভীর রাতে হলে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং অনেককে আটক করা হয়।

রিয়াদ আরও বলেন, ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য ও প্রক্টর পদত্যাগ করলেও শিক্ষার্থী নিপীড়নের সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি; বরং বিভিন্ন সরকারের আমলে তা ভিন্ন ভিন্ন রূপে অব্যাহত থেকেছে। অতীতের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা হল প্রশাসন বর্তমানে দিবসটি পালন করে না। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী ২০০২ সালের এ ঘটনার ইতিহাস সম্পর্কে জানে না।

ইমুর অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলেও বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি।

ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীরা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনের পর তাঁদের অবদান প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। শামসুন্নাহার হলের ঘটনার ইতিহাস সংরক্ষণ ও তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শামসুন্নাহার হল আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও তৎকালীন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আমিরুন নুজহাত মনীষা বলেন, ২০০৪ সাল পর্যন্ত দিবসটি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পালিত হলেও পরে এর ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। তিনি আন্দোলনে সহযোগিতাকারী শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

সংগঠনের সহসভাপতি আনিয়া ফাহমিন বলেন, আন্দোলনের সময় উত্থাপিত নারীবান্ধব ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট নিরসন, সান্ধ্য আইন বাতিলসহ বেশ কয়েকটি মৌলিক দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ বলেন, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর আমলে শিক্ষার্থী নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। শামসুন্নাহার হলের নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

আলোচনা সভা শেষে ২০০২ সালের শামসুন্নাহার হল নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত