
ফেনী-২ (সদর) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই আসনটি ‘আমার বাংলাদেশ’ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর জন্য ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল রোববার রাতে জামায়াত ও শরিক দলগুলোর আসন সমঝোতার ঘোষণার পর জেলাজুড়ে জামায়াতের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আসনটিতে জামায়াতের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য লিয়াকত আলী ভূঁইয়া এবারের নির্বাচনে লড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন। লিয়াকত আলী ভূঁইয়া এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফেনীতে জামায়াতের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়।
আসন সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফেনী জেলা জামায়াত ও শিবিরের বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার অনুসারীরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছেন। অনেক কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন—কেন এক সময়ের বহিষ্কৃত নেতা (মজিবুর রহমান মঞ্জু) ও নতুন দল ‘এবি পার্টি’র জন্য জামায়াতের নিজস্ব ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে বলি দেওয়া হলো?
অনেকেই দাবি করছেন, ফেনী-২ আসনে জামায়াতের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি এবি পার্টির চেয়ে বহুগুণ বেশি। এমন অবস্থায় আসনটি ছেড়ে দেওয়াকে রাজনৈতিকভাবে ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
তৃণমূলের এই ক্ষোভের বিষয়ে ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আব্দুল হান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ফেনীর এই জনপদে একজন পরিচ্ছন্ন ও দরদী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের যেকোনো বিপদ-আপদ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন সবার আগে। তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কর্মীদের মনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আমরা একটি সুশৃঙ্খল দল। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইকে সংহত করতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া আমাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব।’
এদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রথাগত জোটবদ্ধ নির্বাচন নয়, বরং একটি ‘কৌশলগত সমঝোতা’। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০০ আসনেই প্রার্থী নিশ্চিত করেছি। যেখানে আমাদের শরিক বা মিত্রদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি কিংবা বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনে ছাড় দেওয়া দরকার, সেখানেই আমরা নমনীয় হয়েছি। তবে প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়েই লড়বেন।’
আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় আরও একটি রাজনৈতিক দল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে একটি ‘শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ছাত্রজীবনে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য থাকাকালীন সংস্কার ইস্যুতে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। নিজ জেলা ফেনীতে তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ থাকলেও জামায়াতের সমর্থন ছাড়া এখানে জয় পাওয়া তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। জামায়াতের এই প্রকাশ্য সমর্থনের পর তিনি এখন জয়নাল আবদীনের (বিএনপি) মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন কিনা দেখার বিষয়।

জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালা সম্পন্ন করেছে দলটি। গতকাল ও আজ শনিবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
১ ঘণ্টা আগে
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য এনসিপি নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান। এনসিপি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্কের অব্যাহত কূটনৈতিক সমর্থন ও সম্পৃক্ততার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে; যা এ পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনগুলোতে দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য। এ সাফল্যের পেছনে দলের মহিলা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মহিলা বিভাগের কর্মীরা উঠান বৈঠক, বাড়ি বাড়ি যাওয়াসহ বিভিন্নভাবে প্রচার চালিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়...
১ দিন আগে