Ajker Patrika

এবারের নির্বাচন প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সংসদে পাঠানোর নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
এবারের নির্বাচন প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সংসদে পাঠানোর নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম
রাজধানী রামপুরায় নির্বাচনী প্রচার চালান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

এবারের নির্বাচন প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সংসদে পাঠানোর নির্বাচন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ভাটারার বাঁশতলায় নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আয়োজিত গণমিছিলের আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এবারের নির্বাচন ভূমিদস্যুদের পরাজিত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন লুটেরা, ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিকে, প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সংসদে পাঠানোর নির্বাচন।’

নাহিদ বলেন, ‘আমরা ঢাকা-১১ আসনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু আমরা কেবল ঢাকা-১১ আসনেই দাঁড়িয়ে নেই, আমরা দাঁড়িয়ে আছি সমগ্র বাংলাদেশে। ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বিজয়ী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

এদিন গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন নাহিদকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমানসহ তাঁর দলের কর্মীরা। নাহিদ ইসলাম তাঁদের ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ঢাকা-১১ আসনের যে সকল নেতা-কর্মী উপস্থিত হয়েছেন, আজকের এই গণমিছিলে তাঁদের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।’

আতিকুর রহমানের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘তিনি এই ঢাকা-১১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পক্ষে কাজ করে গিয়েছেন। জনগণের সাথে মিশে গিয়েছেন। আতিকুর রহমান যেই ইনসাফের, যেই দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা-১১ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই একই প্রতিশ্রুতিকে বহাল রেখে আমি ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করছি। আমরা একত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

নাহিদ বলেন, ‘দেশের প্রতিটি আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে যে সকল প্রার্থী রয়েছেন, সকলে মিলে তাঁদের বিজয়ী করে সংসদে পাঠাবেন। ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এবারের নির্বাচনে মাঠে নেমেছে।’

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে ১০ দলীয় ঐক্যকে বিজয়ী করা ছাড়া বিকল্প নেই বলে দাবি করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পরে, ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরে যেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে, এটা নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সফল করতে হলে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বিজয়ী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা গণ-অভ্যুত্থান করেছি হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ভাটারা, রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করেছিল। আমরা গণ-অভ্যুত্থান করেছিলাম কেবল একটা সরকার বদলের জন্য না।’

নাহিদ বলেন, ‘এক হাসিনা চলে যাবে নতুন হাসিনা তৈরি হবে, এর জন্য আমরা কেউ-ই রক্ত দেই নাই, জীবন দেই নাই। এক চাঁদাবাজ চলে যাবে, নতুন চাঁদবাজ তৈরি হবে—এর জন্য আমরা রক্ত দেই নাই। এক লুটেরা গ্রুপ চলে যাবে, অন্য লুটেরা সংসদে যাবে, এর জন্য বাংলাদেশের মানুষ জীবন নেয় নাই। আমরা জীবন দিয়েছিলাম, বাংলাদেশের সংস্কার, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের অধিকার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কায়েম হবে এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা হবে—এই আকাঙ্ক্ষা থেকে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। আমরা সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণ করছি। এবারের নির্বাচন ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের নির্বাচন। দেশ সংস্কারের নির্বাচন।’

জনজোয়ার দেখে একটি দল ভয় পেয়ে গিয়েছে বলে জানান এনসিপি আহ্বায়ক। এই ভয় পেয়ে নানান ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের ছাত্র, জনতা, শ্রমিক, মহিলা আমাদের পক্ষে যেভাবে রাস্তায় নেমেছেন...জনজোয়ারকে ভয় পেয়ে গিয়েছে একটি দল। সেই জনজোয়ারকে ভয় পেয়ে এখন নানান ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে। নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।’

রামপুরা, ভাটারা ও বাড্ডাবাসীর উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘এই এলাকায় আমার জন্মস্থান। এই এলাকায় আমি বড় হয়েছি। এই এলাকা থেকে আমি বেড়ে উঠেছি। এই ঢাকা-১১ বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ঢাকার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এই এলাকায় আসে নাই। এই এলাকায় মানুষ নানান সমস্যায় জর্জরিত। এই এলাকার দীর্ঘ সমস্যা হচ্ছে ট্রাফিক জ্যাম, গ্যাস-সংকট, বিদ্যুৎ-সংকট, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাস। আমরা কথা দিচ্ছি, এলাকার এই সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করব। সমস্যার সমাধান করব। চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করব।’

সমাবেশ শেষে একটি নির্বাচনী পথসভা নিয়ে বাঁশতলা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে যান তাঁরা। এরপর রামপুরায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ফিরে এসেছে শৈত্যপ্রবাহ, কোথায় কত দিন চলবে

কারাগারেই প্রেম দুই ভয়ংকর খুনির, বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত

জঙ্গল সলিমপুর: ‘জনবিস্ফোরণ’-এর হুঁশিয়ারি র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামির

বিশ্বকাপ না খেললে কত কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে বাংলাদেশ

‘পাকিস্তানের উসকানিতেই বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত