Ajker Patrika

আমি একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা: সংসদে তাহের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৩৭
আমি একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা: সংসদে তাহের
সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শরণার্থীদের সহায়তা করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় ভারতে যাওয়া শরণার্থীরা সেখানে আশ্রয় নিতেন। তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করা এবং নিরাপদে সীমান্ত পার হতে সহযোগিতা করতেন তিনি।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, অনেক দল আছে, তাদের নাকি ব্যাংকও আছে। বিএনপির ব্যাংক নেই।

বিষয়টির জবাব দিতে গিয়ে তাহের বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর এ রকম কোনো ব্যাংক নেই। আমাদের যারা এমপি আছি, ইসলামী ব্যাংকে তাদের কেউ পরিচালক নেই, আমরা কোনো ঋণ পুনঃ তফসিলও করিনি। ইসলামী ব্যাংক ছিল একদল সৎ ও উদ্যোগী মানুষের প্রচেষ্টার ফসল...যদি বলেন, ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় আমাদের ভূমিকা আছে, তবে আমরা তা স্বীকার করি।’

রাজাকার-আলবদর প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের অনেক বেশি করে রাজাকার, আলবদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যারা এখানে বসে আছি, আমরা কেউ রাজাকার বা আলবদর ছিলাম না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতৃত্ব। যদি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলেন, তবে আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা।’

তাহের বলেন, ‘আমার বাড়ি ছিল সীমান্তের কাছে। যারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে যেত, তারা আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিত, আমরা তাদের নাশতা খাওয়াতাম এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কি না, তা পাহারা দিতাম। সেনাবাহিনী দূরে থাকলে আমরা তাদের পথ দেখিয়ে দিতাম, যাতে তারা নিরাপদে ভারতে পার হতে পারে। সুতরাং এ ধরনের দাবি করার অধিকার কারও নেই।’

এ সময় জামায়াতের এই নেতা আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় ‘রাজাকার’ মাওলানা নুরুল ইসলাম এবং জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় শাহ আজিজুর রহমানের মতো ব্যক্তিদের রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়ে ১৯৯৬ সালে জামায়াত আলাদা নির্বাচন করে। সেটার জন্য ওই সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষকে দায়ী করেন তাহের। তিনি বলেন, ‘এবারও সে রকম কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। আমরা চাই, এই সংসদ ও এই সরকার সুস্থ ধারায় চলুক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব গন্ডগোল হচ্ছে, সেদিকে আপনারা নজর দিন। যারাই বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গঠিত অতীতের সরকারের পরিণতি সম্পর্কে বিএনপিকে সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। অতীত উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, শেখ সাহেব (শেখ মুজিবুর রহমান) নিহত হয়েছিলেন...শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ের ঘটনাগুলো আমাদের আতঙ্কিত করে।’

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘উপমহাদেশে ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর সময়ে, বাংলাদেশে শেখ সাহেবের সময়ে, তারপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এবং খালেদা জিয়ার সময়ে আমরা অবস্থা দেখেছি এবং এর একটা ভয়ংকর পরিণতি আমরা দেখি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা চাই, এ ধরনের কোনো অঘটন বাংলাদেশে আর কখনো না ঘটুক।’

বক্তব্যের শুরুতেই আবদুল্লাহ তাহের সংসদের বর্তমান অবস্থাকে অতীতের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘আজকে যারা সরকারি দলের আসনে আছেন, তাঁরা বোধ হয় আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন। আর আমরা যারা এদিকে আছি, তাঁরা বোধ হয় জামায়াত-বিএনপির সংসদ সদস্য। কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল এবং আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আওয়ামী লীগ যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে, যে চেতনায় এবং যেমন বিষয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বলত এবং আচরণ করত, ঠিক আজকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আমরা একই ধরনের আচরণ লক্ষ্য করছি।’

আন্দোলনের সময়কার ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তাহের বলেন, ‘আমরা সকলে তখন বলেছি যে আমরা এই সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এই পতনের পর যে রাজনীতি হবে...আমরা সকলে মিলে একটা সুশাসনের জন্য কাজ করব। এ পর্যন্ত কিন্তু আমরা পুরোপুরি ঐকমত্যে ছিলাম।’ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সরকার গঠনের পরে আমরা আবার একটা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাচ্ছি, যেটা এই জাতিকে হতাশ করবে।’

সংসদে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাহের বলেন, ‘গতকাল আমি শুনেছি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাকি “তুই রাজাকার” বলেছেন। সংসদের ভেতরে আমার মনে হয় এটি খুবই অরুচিকর ও অসংগত একটি শব্দ।’

পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তাহের বলেন, ‘শুধু দু-একটি শব্দ দিয়ে যদি আমরা একে অপরকে আক্রমণ করতে চাই, তবে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দেবে।’

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘৩১টি রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে (জুলাই জাতীয় সনদ) তৈরি করেছিলাম...কিন্তু পরবর্তী সময়ে কতগুলো জিনিস (যোগ করা হয়), যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা তাদের মতো করবে—এটা কিন্তু আমাদের আলোচনার অংশ ছিল না। সেটা ছিল জুলাই সনদের সঙ্গে একধরনের প্রতারণা।’

গণভোট ইস্যুতেও দ্বিমত তুলে ধরে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন আলাদাভাবে হবে...কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে খুব জোরালোভাবে বলা হয়েছিল যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একসাথে হতে হবে...আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের নারাজি সত্ত্বেও গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসাথে হয়েছে।’ তিনি সতর্ক করেন, ‘দেশের জন্য যেটা কল্যাণকর, তা বাদ দিয়ে যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যা ইচ্ছা তা-ই করতে থাকেন, তবে এ দেশ আবার পিছিয়ে যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এক দশক পর নির্মাণে ফিরছেন ওয়াহিদ আনাম

ফের ইরানে হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: ট্রাম্পকে পুতিনের হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন: থালাপতি বিজয়ের দলের চমকের পূর্বাভাস

ইরান এমন অস্ত্র বের করবে, যা দেখে ‘শত্রু হার্ট অ্যাটাক’ করতে পারে

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত