
জঙ্গিবাদ ইস্যুতে সরকারের দুরকম বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারকে সমন্বয় করে বক্তব্য দিতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাহিদ বলেন, ‘দুই মাসে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৩১ জন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি, বিএনপির চাঁদাবাজির খবর এসেছে ৮৩টি। কিন্তু সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শাহবাগ খানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্যকে বেধড়ক মারধর করেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মী। এটার এখনো কোনো মামলা নেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি জানান, এই মামলাটা কেন নেওয়া হচ্ছে না। থানার ভেতর প্রবেশ করে ওসির রুমে ডাকসুর দুজন নির্বাচিত প্রতিনিধির ওপর হামলা করা হয়েছে।’
নাহিদ বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নিয়ে নতুন করে কথা আসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন জঙ্গিবাদ নেই, আবার প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলছেন জঙ্গিবাদ আছে। সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা একটু সমন্বয় করে বক্তব্য দিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের সিকিউরিটির প্রশ্ন এবং এটা সরকার এককভাবে ডিল করতে পারবে না। এতে জাতীয় ঐক্য লাগবে এবং সরকারকে আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করব। তবে বিগত আমলের মতো জঙ্গিবাদকে “ওয়ার অন টেরর প্রজেক্ট” হিসেবে যাতে না দেখা হয়।’
জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সেটাকে কলুষিত করে ফেলা হয়েছে।
বল প্রয়োগ করে ঐকমত্য কমিশনকে চাপ দিয়ে জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট লেখানো হয়েছে বলে দাবি করে নাহিদ বলেন, তিনি মনে করেন এ বিষয়ে এখন ঐকমত্য কমিশনের বলার সময় এসেছে।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সবার সম্মতির ভিত্তিতেই সবাই মিলে গণভোটে অংশগ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সংস্কারের পক্ষে, গণভোটে “হ্যাঁ”-এর পক্ষে প্রচারণা করেছেন।’ কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপি ভিন্ন অবস্থান নেয়। এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে পরিষ্কার করা প্রয়োজন ছিল যে গণভোট আপনারা মানেন না। এই গণভোটে হ্যাঁ বা না জিতুক এটার সাথে আপনাদের কোনো সম্পর্ক নাই। উনারা কিন্তু সেটা করেননি।’
নাহিদ বলেন, ‘...আরেকটি বিষয় বারবার এসেছে, সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই।’
এটা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা কেউ বলি নাই যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের থেকে বড় বা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নব্বইয়ের থেকে বড় বা নব্বইয়ের থেকে ছোট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এক বিশেষ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে। মুক্তিযুদ্ধ এক বিশেষ ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার ব্যাপারে আমরা আনকম্প্রোমাইজ, এটা নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নাই। তবে এই কথাটা উনারাই বারবার বলে মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে ছোট করছেন।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত কখনো অস্বীকার করি নাই। এখন যদি বলা হয় যে অমুকের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, আমাদের লোকেরা এই গণ-অভ্যুত্থান করেছে। এটা গণ-অভ্যুত্থানের সাথে যারা সাধারণ মানুষ নেমেছিল, যারা শহীদ হয়েছে, তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সকলের অংশগ্রহণ ছিল। গণ-অভ্যুত্থান আমরা একসাথেই করেছিলাম। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমাদের রাস্তা রাজনৈতিকভাবে আলাদা হয়ে গেছে।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা ভারত এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এই সরকার আসার পরে একটা জিনিস বারবার আসছে, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি আগের সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি যে বিবৃতি দিয়েছেন সে বিবৃতি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা কোন ভিত্তিতে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছি।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘ভারতের সাথে সম্পর্ক আমরা উন্নয়ন করতে চাই। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। কিন্তু এই সম্পর্ক উন্নয়ন হতে হবে মর্যাদার ভিত্তিতে, সাম্যের ভিত্তিতে। ভারত শুধু আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এই দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, সেই দিনকে কবর দিতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘...যেভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, যেভাবে গণভোটকে অস্বীকার করেছে, তাতে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। আশা করি, আমাদের এই হতাশা দ্রুতই শেষ হবে এবং আমরা যেই কমিটমেন্ট জনগণের কাছে করেছি, সেই সকল প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ে এ কর্মসূচি পালন করবেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
২ ঘণ্টা আগে
আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সোমবার দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, খুন, হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে সমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এ ছাড়াও আগামী ৪ জুলাই দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে তারা।
৬ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীবকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। খায়রুল ইসলাম সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক...
১ দিন আগে