Ajker Patrika

উচ্ছেদ নয়, হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জামায়াত আমিরের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
উচ্ছেদ নয়, হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জামায়াত আমিরের
মিরপুর ১০-এ ক্ষতিগ্রস্ত ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আজ বুধবার বিকেল ৫টায় ক্ষতিগ্রস্ত ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত পথচারী ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখা অত্যন্ত জরুরি হলেও কেবল বলপ্রয়োগ বা হুট করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁদের জন্য অবিলম্বে উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে পুনর্বাসন ও ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাস্তা মূলত যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটার জন্য। কিন্তু আমাদের সার্বিক সামাজিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের অভাবে ফুটপাত ও প্রধান সড়কে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনাও ঘটছে।

গ্রাম থেকে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে আসা প্রান্তিক মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, গ্রাম থেকে পেটের দায়ে রাজধানীতে এসে বহু মানুষ ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিবার চালাচ্ছেন। অথচ তাঁদের ব্যবসা করতে গিয়ে নানা স্তরে চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে তাঁদের ব্যবসার আইনি ও সামাজিক সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম, ফুটপাত ও হকার সমস্যার একটি টেকসই ও সমন্বিত সমাধান বের করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দিতে হবে, যেখানে তাঁরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবেন, সিটি করপোরেশন নিয়ম অনুযায়ী যৌক্তিক ট্যাক্স বা রাজস্ব পাবে; কিন্তু কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা সিন্ডিকেটবাজি চলবে না।

এ সময় তিনি রাজধানীর ফুটপাত ঘিরে দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সঙ্গে যারা বা যেসব প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিদর্শনকালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং মো. রেজাউল করিমসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও পথচারী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাজধানীর মিরপুরের হোপ মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে অবহিত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে উচ্ছেদ অভিযান আমাকে বিস্মিত করেছে।’ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

ঢাকা-১৫-কে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘জনগণ তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত