Ajker Patrika

অহেতুক কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত হইচই মানুষ ভালোভাবে নেয় না: রিজভী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৩৯
অহেতুক কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত হইচই মানুষ ভালোভাবে নেয় না: রিজভী
‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, সংসদে ও সংসদের বাইরে কথা বলবে এবং কর্মসূচিও দিতে পারবে। তবে অহেতুক কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত হইচই করা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয় না। বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন বিষয় নিয়েই বিরোধী দলের কথা বলা উচিত।

আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রিজভী এসব কথা বলেন।

দেশের গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মাত্র ছয় মাসের সরকার এসব সংকটের জন্য দায়ী নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রিজভী বলেন, মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ রয়েছে। সেটি ঠিক করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগিরই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।

রিজভী বলেন, একটার পর একটা কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে? মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটা কি কোনো ঘটনা, কোনো রহস্য, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না সেটিও ভাবতে হবে।

রিজভী বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় তাদের পাওনাও দেওয়া হচ্ছে। এরপরও কেন একের পর এক সমস্যা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন মানুষের মনে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

রিজভী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যাও ৬১ লাখ থেকে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার পর তীব্র খাদ্যসংকট মোকাবিলায় জিয়াউর রহমান গণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। খাল খননের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি ও পানির ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

ফারাক্কার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এর ফলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে। মাটির উর্বরতা কমেছে, ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের ঝুঁকি বেড়েছে এবং মাছ, গাছ, পানি ও জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আবারও ব্যাপকভাবে খাল খননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের রক্তের ওপর দিয়ে কোনোভাবেই আবার সহিংস রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া যাবে না। ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে ‘রক্তপিপাসু আচরণ’ হয়েছে, তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দলটি হঠাৎ করে উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এত মানুষ কীভাবে জড়ো হলো, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসন তা জানে কি না এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ ও অধিকারসংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এতে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের মূল কাঠামো পরিবর্তন করা হয়নি। বরং বৃদ্ধ বাবা-মা যেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত শান্তিতে থাকতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাবা-মাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা উল্লেখ করে তিনি আইনটিকে ‘যুগান্তকারী’ বলে মন্তব্য করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত