
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামরিক কর্মকর্তা থেকে জননন্দিত রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর এবং দেশে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিমূল গঠনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জননেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, তখন প্রায় সব রাজনৈতিক ধারাই একধরনের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মুখে পড়েছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির সঙ্গে শেরেবাংলার কৃষক প্রজা পার্টি যেমন কার্যকারিতা হারায়, তেমনি স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দল পবিত্র ইসলাম ও কোরআনের নামে যে সংগঠিত দর্শন এবং ইসলামের সংমিশ্রণ তৈরি করেছিল, স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের যুদ্ধবিরোধী ও দেশবিরোধী ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে তারা দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকতে বাধ্য ছিল। সেই সময় জাসদের প্রতিক্রিয়াধর্মী উত্থান কিংবা মস্কোপন্থী-চীনপন্থী রাজনীতি যখন দিশেহারা, ঠিক সেই সময়ে সমসাময়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথরেখা তৈরি করার একক দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন কেবল যাদু মিয়া।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ। সামরিক বাহিনীর মনোজগৎ থেকে একজন সেনা কর্মকর্তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্বটি যাদু মিয়াই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা, তাঁর চিন্তা, দর্শন এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে যাদু মিয়ার অনন্য প্রজ্ঞা কাজ করেছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, যাদু মিয়ার সেই সময়কার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাক্রম রচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিন সামরিক কর্মকর্তা থেকে জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তরের সূচনা করেছিলেন বলেই পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার পথ পেয়েছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।
বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ক্যাপ্টেন এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ দিদার বখত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান এবং মোস্তফা কামাল মজুমদার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিটা রহমান।
বক্তারা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে কর্নেল তাহের যে রাষ্ট্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেছিলেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্রের চরিত্রের রূপান্তর। ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার বহনকারী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি গণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার...
২ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে সংসদে ছয়জন এমপি নিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আগামী দিনে সেই সংখ্যা ১৬০-এ
৩ ঘণ্টা আগে
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আজ অনেকে একাত্তরের সাথে অনেক কিছুকে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু একাত্তর না হলে আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন-এই বাংলাদেশ আমরা পেতাম না...
৫ ঘণ্টা আগে
বিএনপির মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো (যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দল) বিপ্লবের সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার
৭ ঘণ্টা আগে