
‘এই বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এমন একটা পরিবেশ দেখতে চাইনি’—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন কথার জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব অবচেতন মনে সত্য কথা বলেছেন। কারণ, উনি আর ওনার বাবা বাংলাদেশটাই চাননি। ওনার বাবা ছিলেন পাকিস্তানপন্থী। ফখরুল সাহেব কদিন আগে বলেছিলেন—পাকিস্তানই ভালো ছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশটাই উনি চাননি। আর উনি তো কোনোভাবেই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। দেশ স্বাধীনের পর তিনি অনেক দিন আত্মগোপনে ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বর্তমান সরকারই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র যেভাবে পালন করে, আমাদের দেশেও সংবিধান অনুযায়ী ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। বিএনপি যত ধরনের রূপরেখাই দিক না কেন, সংবিধানের একচুলও ব্যত্যয় হবে না।’
ঈদের পর বিএনপির এক দফা আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এক দফার আন্দোলন বিএনপি ২০১৩ সাল থেকেই শুরু করেছে। সেই আন্দোলনের নামে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে দেশের মানুষ তাঁদের নৈরাজ্য দেখেছে। মানুষকে পুড়িয়ে মারার মহোৎসব আমরা দেখেছি। সেই পরিস্থিতি আমরা সামাল দিয়েছি। এখন বিএনপি কতটুকু কী করতে পারে, সেটা নিয়ে আমাদের ধারণা আছে।’
তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া এখন ‘খাঁচায় বন্দী বাঘ’ আর তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশান্তরি পলাতক আসামি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবসহ তাঁদের অন্যান্য নেতৃত্ব কতটুকু কী করতে পারে, সে ক্ষেত্রে কী করতে হবে—সেটা আমাদের জানা আছে। তাঁদের শক্তি-সামর্থ্য সম্পর্কে আমরা জানি। তাঁদের এসব কথা বাগাড়ম্বর ছাড়া অন্য কিছু নয়।’
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি ও কয়েকজন অর্থনীতিবিদের কিছু মন্তব্যের সূত্র ধরে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘তাঁরা যেসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁরা কোনো দিন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো দেখেনি। কিন্তু তাঁদের এই ভালো না দেখার মধ্যেও আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ৬০০ ডলার থেকে ২ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১ থেকে ১৮ শতাংশে নেমেছে। দেশ স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, এখন জিডিপিতে বিশ্বের ৩৫তম ও পিপিপিতে ৩১তম, খুব সহসাই ২৭তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে। বিএনপি এগুলো কোনো দিন দেখেনি। তাঁদের চোখে ছানি পড়েছে কিংবা না দেখার দৈন্যের জন্য তাঁরা চিকিৎসক দেখাতে পারেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের কষ্ট হয় যে বিএনপি নেতারা দেখেও দেখতে পান না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে। করোনা মহামারিতে বিশ্বে মাত্র ২০টি দেশে জিডিপি বেড়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এগুলো যদি তাঁরা না দেখেন, তাহলে বলার কিছু নেই।’
হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অর্থনীতি নানাভাবে চাপে ছিল। আমাদের অর্থনীতি সেটিও কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। যেমন রিজার্ভ কমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সেটি এখন বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এত কিছুর মধ্যেও গত বছর আমাদের রপ্তানি আয় ছিল ৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সুতরাং আমাদের অর্থনীতি অনেক ভালো আছে। কিন্তু মির্জা ফখরুল সাহেবরা কামনা করেন অর্থনীতিটা খারাপ হোক। সে জন্যই তাঁরা এসব কথা বলেন।’

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান স্থানীয় মুরব্বি ও এলাকাবাসীর দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজনীতি করি। ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড প্রবর্তন করব।’
৪ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এই প্রথমবার ঢাকার বাইরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসেছেন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি সিলেটে। বিএনপির নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিকতারও শুরু এই সফরের মধ্য দিয়েই।
৫ ঘণ্টা আগে
জাতীয় রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে প্রার্থী। কিন্তু এরপরও সাতটি আসনে প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন জামায়াতসহ জোটের...
১১ ঘণ্টা আগে
মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি গলি। শীতের দুপুরের হালকা রোদ। গলির এক পাশে ডাব বিক্রির একটি ভ্যান। ক্রেতা খুব একটা নেই। নরম রোদে শীত পোহাচ্ছিলেন ডাবওয়ালা ও তাঁর বন্ধু। এই প্রতিবেদক এগিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে প্রথমে তাঁরা খুব একটা ইচ্ছুক ছিলেন না। খানিক কুশল বিনিময়ে বরফ গলে।
১১ ঘণ্টা আগে