Ajker Patrika

বিজেপি নেতার ছেলের সমর্থনে দেশের ক্রিকেট দুর্বল করার চেষ্টা চলছে: সারোয়ার তুষার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১৯: ২২
বিজেপি নেতার ছেলের সমর্থনে দেশের ক্রিকেট দুর্বল করার চেষ্টা চলছে: সারোয়ার তুষার
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেছেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা অমিত শাহর ছেলে জয় শাহর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং ভারতের প্রভাবশালী একটি মহল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচন সম্পর্কে দলের সামগ্রিক পর্যালোচনা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সারোয়ার তুষার বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে ক্রিকেটকে ধ্বংস করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেন, এই নির্বাচন ২০১৪ সালের আওয়ামী লীগের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনের কাঠামোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, বিসিবিকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা কাজ করছে, যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং ভারতের প্রভাবশালী মহল জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির নেতা অমিত শাহর ছেলে জয় শাহর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সারোয়ার তুষার বলেন, সম্প্রতি আইসিসির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নয়, বরং বিকল্প ক্রিকেট প্রশাসনের উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করতে এসেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির বৈঠকে কেন বর্তমান বোর্ড নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, ক্ষমতায় এসে সরকার যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, সেই কমিটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল বিসিবির গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচন বিধিমালা সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন। কিন্তু এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে সরকার একতরফা নির্বাচনের পথ বেছে নিয়েছে।

সারোয়ার তুষার বলেন, ক্রিকেট বোর্ডকে পরিবারতন্ত্র ও দলীয়করণের কেন্দ্রে পরিণত করার জবাব সরকারকে দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেভাবে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, বিসিবিও সেই একই ধারার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণের আবেগের জায়গা। সেই ক্রিকেটকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য যে রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, তার জবাব একদিন দিতে হবে।’

সারোয়ার তুষার দাবি করেন, বিসিবির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকা এবং বিভিন্ন পদে নির্ধারিত প্রার্থীদের আগাম নিশ্চিত করে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবালের সমালোচনা করে বলেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের সময় তিনি গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং এখন বিএনপির সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

তুষার অভিযোগ করেন, সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণের বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কাউন্সিলর ও পরিচালক পদেও দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি বলেন, এমনকি বিএনপির পদধারী ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, সবই বিএনপি সরকার করেছে বলে উল্লেখ করেন সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক বছরে যেটুকু দখলদারত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল, বিএনপি সরকার মাত্র তিন মাসের মধ্যে তার চেয়েও দ্রুতগতিতে ক্রিকেটকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, বিসিবিতে ব্যাপকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘দলীয় কার্ড’ ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক, সাংস্কৃতিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মতো ক্রিকেট বোর্ডও এখন দলীয়করণের শিকার।

সারোয়ার তুষার বলেন, বিসিবি নির্বাচন দেশের ক্রিকেটে একটি নতুন কলঙ্ক হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি অবিলম্বে বিসিবি সংস্কারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি নির্বাচনের প্রার্থী এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলরসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ৭৫ জনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও স্পোর্টস সেল সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত