
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শও করছেন। বিএনপি নেতা রাশেদ খান ও ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জিসানের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজকের পত্রিকাকে বুধবার (৩ জুন) রাতে এসব কথা জানান হান্নান মাসউদ।
নোয়াখালীর হাতিয়ার এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘রাশেদ খান আর আবদুল গাফফার ভাই দুজনের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতেছি। আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতেছি।’
এর আগে, বুধবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকের অনেকগুলো রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।’
রাশেদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতা হয় ওই বৈঠকগুলোতে। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন—ওই ব্যক্তি নগদ ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন হান্নান।
পোস্টে রাশেদ খান বলেন, ‘হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান।’ তিনি জানান, ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আব্দুল গাফফার জিসানের সঙ্গে হান্নানের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গাফফার বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে গাফফার হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।
রাশেদ খানের এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর হান্নান মাসউদ ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জিসানের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের একটি অডিও ফেসবুকে শেয়ার করেন। অডিওতে গাফফারকে হান্নান মাসউদের কাছে ক্ষমা চাইতে শোনা যায়। ওই কথোপকথনে গাফফার অভিযোগ করেন—তাঁকে একটি বক্তব্য শেয়ার দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, হান্নানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়।
তবে এর কিছুক্ষণ পরই ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে ভিডিও বার্তা দেন গাফফার। সেখানে তিনি দাবি করেন, হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে রাশেদ খান যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি ‘শতভাগ সত্য’।
গাফফারের ভাষ্য অনুযায়ী—৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সাবেক এক সংসদ সদস্যকে দেশত্যাগে সহায়তার বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই বৈঠকে হান্নান মাসউদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি নিজে ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।
ভিডিও বার্তায় গাফফার আরও জানান, হান্নান মাসউদের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ছিল ব্যক্তিগত এবং তিনি তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই ব্যক্তিগত কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে পরে প্রকাশ করা হয়েছে।
এ সব অভিযোগের বিষয়ে হান্নান মাসউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই। ওনার (গাফফার) পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক আছে। উনি ছাত্রদল করেন। তবে যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে রাশেদ খান এবং গাফফার দুজনের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন নেব। তাদের কাছে যদি কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটা সামনে আনুক।’

মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এ বিষয়ে তাঁকে চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শকেরা। তাই তিনি চুপ থাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে বুধবার (৩ জুন) রাতে সামাজিক মাধ্যমে পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন সদ্য পদত্যাগ করার কথা...
২ ঘণ্টা আগে
সরকার ইসলামী ব্যাংককে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ইসলামী ব্যাংক উদ্ধারের জন্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানি করার সুযোগ...
৩ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আজ বুধবার রাত ১০টা ৮ মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারত থেকে কথিত পুশ ইনের ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থান দেখতে চান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
১০ ঘণ্টা আগে