Ajker Patrika

ঋণখেলাপি বগলে রেখে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া অসম্ভব: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামকুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিসীতাকুণ্ড প্রতিনিধিকক্সবাজার প্রতিনিধি
ঋণখেলাপি বগলে রেখে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া অসম্ভব: শফিকুর রহমান
কক্সবাজারে গতকাল নির্বাচনী জনসভা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে এ জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণ একটি নতুন বাংলাদেশ পাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ এবার নির্বাচনে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে। রাজার ছেলে রাজা হবে, এই রাজনীতি আমরা চাই না। মেধাবীদের এগিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া হবে।’

কক্সবাজারের মহেশখালী ও কক্সবাজার শহরে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের আমির। এ দিন তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন।

বগলে ঋণখেলাপি রেখে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া অসম্ভব মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে চাই। এই বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবক হয়ে উঠবেন।’

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্বাচন উল্লেখ করে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ডাকসু থেকে জাকসু পর্যন্ত তরুণসমাজ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তারা আর বস্তাপচা ও পুরোনো রাজনীতির সঙ্গে নেই।

শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের কোনো ছাড় নেই জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, তবে কারোর ওপর জুলুম করা হবে না। কেউ যদি অনুতপ্ত হয়ে মূলধারায় ফিরে আসতে চায়, তাদের সুযোগ দেওয়া হবে।

মহেশখালীকে স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, পিছিয়ে থাকা মহেশখালীর জন্য যা করা দরকার, আল্লাহর সাহায্য নিয়ে তা করা হবে। কোনো যুবক-যুবতী বেকার থাকবে না। এ জন্য তিনি দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে জয় করার আহ্বান জানান।

সকালে বড় মহেশখালী নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্যপ্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদকে পাশে দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি মন্ত্রী চান, তাহলে আযাদ সাহেবকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।’

যুবকদের হাতে কাজ দিয়ে শক্তিশালী ও নতুন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ব্যাংক ডাকাতদের কারণেই কক্সবাজার পিছিয়ে পড়েছে। পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারকে একটি উন্নত পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে। এখানে একটি আধুনিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান, জাগপার নেতা রাশেদ প্রধান, এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু, ডাকসু নেতা এস এম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. সিবাগাতুল্লাহ সিফাতসহ জামায়াতের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার রায়ে পথ খুঁজে পাবে বাংলাদেশ, মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘চব্বিশ না হলে ছাব্বিশ পাওয়া যেত না। যারা এটাকে অস্বীকার করে, তাদের এই ছাব্বিশে লাল কার্ড দেখাতে হবে। আজ বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় আজাদি জেগে উঠেছে। জনতার মাঝে জেগে উঠেছে গণজোয়ার।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘কেউ যদি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে আসে, তাদের আইনের হাতে তুলে দেবেন। আগে একটা স্লোগান ছিল—আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। এবার তা হবে না, যে দুটি ভোট দিতে আসবে, তার হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিবেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ। আর তা গড়ে তুলতে জেগে উঠেছে তরুণ সমাজ, যার প্রতিফলন হয়েছে ডাকসু ও জকসুর ভোটে।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে জনসমাবেশে বিশেষ দলের কেন্দ্রীয় চট্টগ্রামের নেতাসহ বিভিন্ন আসনে দল ও জোটের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

রাতে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। শুরুতে যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা দেশের যুবসমাজের আন্দোলনকে ন্যায্য দাবির অংশ হিসেবে দেখেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। যারা ন্যায্যতা দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের দেশের মাটিতে আর স্থান নেই।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করা হবে না, বরং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকে দেশের নির্মাণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে যুবকদের ক্যাপ্টেন হিসেবে বসাতে চাই।

নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘মা-বোনদের ঘরে, পথে ও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মায়ের মর্যাদা দিতে না পারলে জান দিতে প্রস্তুত আছি।’

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বন্দরকে আর কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। আগামীতে এই বন্দর জনগণের হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘আমাকে বিয়ে করো’, এপস্টেইনকে বলেছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী, টাকাও ধার চেয়েছিলেন

কুখ্যাত এপস্টেইনের বাড়িতে চার দিন ছিলেন নরওয়ের হবু রানি

বান্দরবানে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর নিহতের তিন বছর, সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধা

যেভাবে প্রথম শিকারটি ধরেছিলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তাঁর প্রেমিকা গিলেইন

৯ বছরের প্রেম, বিয়ের দুই মাস পরই স্বামীকে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত