Ajker Patrika

নাগরিক শোকসভা: বেগম খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছিলেন দেশের নেত্রী

  • রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনদের শোক প্রকাশ।
  • খালেদা জিয়ার মানবিক গুণেরও প্রশংসা বক্তাদের।
  • চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করলেন প্রধান ব্যক্তিগত চিকিৎসক।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় সপরিবারে দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় সপরিবারে দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কোনো একক দলের নয়, শেষ পর্যন্ত দেশ ও জনগণের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন সম্প্রতি প্রয়াত বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় এটিই ছিল বক্তাদের কথার অন্যতম মূল সুর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শোকসভার আয়োজন করা হয়। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শোকসভায় সপরিবারে অংশ নেন বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বেলা ৩টার পরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক শোকসভা শুরু হয়। নাগরিক সমাজের পক্ষে শোকবার্তা পাঠের পর একে একে বক্তব্য দেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘খালেদা জিয়া স্বাধীন সাংবাদিকতায় শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর এই গুণ আমার মন জয় করেছে, আমার মনে তাঁর জন্য গভীর শ্রদ্ধার জায়গা করে দিয়েছে। ...তিনি খুব সহজে বলতে পারতেন, আমি প্রতিশোধ চাই না... আমার বিরুদ্ধে যা করা হয়েছে। এই যে উদারতা, এই যে ভবিষ্যতের দিকে তাকানো, আমি মনে করি এটি অসাধারণ একটি গুণ।’

নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দলমত-নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।’

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের প্রকট ঘাটতির মধ্যে মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল বলেও উল্লেখ করেন নূরুল কবীর।

পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় মন্তব্য করে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ড. ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময়।’

রাজনীতির মাঠে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজন বিতাড়িত ভূমিতে।’

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০০ বছরের ইতিহাসে মাত্র দুই নেতা এবং নেত্রী যাঁরা জনপ্রিয়তার শীর্ষে সারা জীবন অবস্থান করেছেন।’

খালেদা জিয়াকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর তিনটি উক্তি মনে রাখার তাগিদ দেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া তিন উক্তি বা অমর বাণী ধারণ না করতে পারলে দেশ ও তাঁর দল রক্ষা পাবে না। এক. দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। দুই. আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, ওদের হাতে বন্দীর শৃঙ্খল। তিন. দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, দেশই আমার শেষ ঠিকানা।’

আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবসা এবং অর্থনীতির উন্নতির জন্য খালেদা জিয়ার অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার বাজারমুখী নীতির ফলে বেসরকারি খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আসে।’

লেখক ও চিন্তক ফাহাম আবদুস সালাম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জীবন পুরোটাই ত্যাগের। জেলে থাকা অবস্থায় অসহনীয় অত্যাচারের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গুরুতর ও ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর ব্যক্তিগত প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিক। তিনি বলেন, এটি নিছক গাফিলতি নয়; বরং ইচ্ছাকৃত অবহেলা, যা অমার্জনীয় অপরাধ।’

শোকসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান ছাড়াও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। সভায় আরও যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, ডিপিআইয়ের সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, সাবেক কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন, লেখক ও গবেষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত