গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে নিজের দলীয় আসনে এতিম শিশুদের নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান একটি মূল্যবান কথা বলেছেন। দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন জুলুমের শিকার না হয়—এই ছিল তাঁর মন্তব্য। কথাটি মূল্যবান ঠিকই, কিন্তু তিনি বা তাঁর দল বিষয়টি মানেন কি না, সে প্রশ্ন কি তিনি এড়াতে পারবেন?
গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হচ্ছে সব দল-মতকে অবাধে তাদের কাজ করতে দেওয়া। বিতর্কের সমাধান হবে বিতর্ক দিয়েই। বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বিগত সময়ে ভিন্নমতকে মোটেই সম্মান করা হয়নি। ইউনূস সরকারের আমলে যখন দেশজুড়ে মবের মাধ্যমে নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছিল একশ্রেণির মানুষ, তখন জামায়াত নেতার এই উপলব্ধি হয়নি কেন, সে কথা দেশের জনগণ জানতে চাইতে পারে। তৌহিদি জনতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সমন্বয়কসহ বিভিন্ন নামে মব সৃষ্টি করে যখন নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছিল মানুষ, তখন তিনি সেই জুলুম প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছিলেন কি?
হতে পারে, বিগত ১৮ মাস একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পর নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি এখন তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা মবের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। এখানেও প্রশ্ন উঠবে, পরিস্থিতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কি দলীয় বা ব্যক্তিগত অভিমতও বদলে যায়? সত্য একটাই হয়, কিন্তু তা নানা দিক থেকে দেখা যায়। কিন্তু সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার এই সংগ্রাম চলে সব সময় ধরেই। নিজ দলের স্বার্থই কেবল সত্য রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। জামায়াত আমির নিশ্চয়ই জানেন, তারপরও তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক আচরণই কাম্য। সেটা যখন অগ্রাহ্য করা হয়, তখনই অরাজকতা নেমে আসে। গোটা দেশ সেই তাণ্ডব দেখেছে। দেখেছে, শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে কীভাবে বিরোধী মতকে দমন করা হয়েছে। দলীয় পরিচয়কে মাথায় রেখেই নির্যাতন চালানো হয়েছে।
গণতন্ত্রে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। নেতা বা সরকার জনগণের প্রতিনিধিমাত্র, সে কথা রাজনৈতিক দলগুলো সব সময় মনে রাখে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে, আইনের শাসন না থাকলে সেটা গণতন্ত্র হতে পারে না। সেই সঙ্গে জবাবদিহির অভাব গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে। জামায়াত নেতা দলীয় পরিচয়ে কেউ যেন জুলুমের শিকার না হয়, সে কথা বলেছেন, সেটা যখন অতীতে পালন হয়নি, তেমনি বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান, সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখা, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করার ঐতিহ্য রক্ষায় তৎপর না হলে কোনোভাবেই জুলুমের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসা যাবে না।
রাজনীতিতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো হলো জনগণের সেবক, সে কথা উপলব্ধি না করলে এবং রাজনৈতিক জীবনে তা প্রয়োগ না করলে জুলুমের প্রসঙ্গ বারবার ফিরে আসবে, যা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা রাজনীতিতে থাকলে জুলুম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করার কিছু থাকবে না, এটাই হলো মোদ্দা কথা।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ১৯৯৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক পাস করেন। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের নর্দামবিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স ‘ব্যারিস্টার এট ল’ সম্পন্ন...
৩ ঘণ্টা আগে
শপথের মঞ্চ তখন প্রস্তুত, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সে সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে যায় কয়েক শ প্রকাশকের একটি জরুরি চিঠি। সময় খুব কম, উদ্বেগ অনেক। কারণ একটাই—২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরুর সিদ্ধান্ত, যা পড়ছে রমজানের মধ্যে।
৩ ঘণ্টা আগে
জাপানের সঙ্গে অবিভক্ত বাংলা অঞ্চলের সম্পর্ক শত বর্ষের বেশি। ১৮৭৮ সালে জাপানের মিকাদো তথা মেইজি সম্রাট মুৎসুহিতো এবং কলকাতার পাথুরিয়া ঘাটার ঠাকুর পরিবারের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব সংগীতজ্ঞ, সংগীতের ইতিহাসবিদ রাজা শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুরের মধ্যে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বিনিময়ের ঘটনাই
১৬ ঘণ্টা আগে
ফিরে এসেছে একুশ। বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিজয়ের অন্যতম পথরেখা এঁকে দিয়েছিল এই দিনটি। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে এই দিন প্রাণ দিয়েছিল বাঙালি। তাই একুশের নাম রক্তের আখরে লেখা।
১ দিন আগে