
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেছেন এক বছরের বেশি সময় হলো। ক্ষমতায় বসেই আভাস দিয়েছিলেন, তিনি বিশ্বটাকে ওলটপালট করে দিতে চান। ফলে প্রচলিত যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে দিতে তিনি কোনো কার্পণ্য করবেন না।
সে কারণে তিনি এক বছরের মধ্যে অনেক কিছু ওলটপালটও করেছেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়ে সবাইকে একধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন তিনি। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে ধরে এনে নিজের দেশের জেলে পুরেছেন ট্রাম্প। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরানে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। প্রতিদিনই প্রাণহানি বাড়ছে, ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। এই সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে এরই মধ্যে তার প্রভাব পড়েছে। প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও।
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প যা করেছেন, তা কেবল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি সংগীতের একটি চরণ দিয়েই তুলনা করা যায়—‘খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে’।
ট্রাম্প আনমনে খেলছেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য সংশয় রয়েছে। আপাতদৃশ্যে সবকিছু এলোমেলো মনে হতে পারে। এ যেন আজ তিনি দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে ধরে আনছেন তো কাল মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের শীর্ষ নেতাকে হত্যা করছেন। কিন্তু আসলেই কি সব এলোমেলো? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, ইরানের পর ট্রাম্প কোন দিকে মনোযোগ দিতে পারেন?
একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই বোঝা যায়, এখন পর্যন্ত ট্রাম্প তাদের বিরুদ্ধেই শুল্ক কিংবা সামরিক আঘাত হেনেছেন, যারা চীনের মিত্র কিংবা বাণিজ্যিক অংশীদার। প্রশ্ন উঠতে পারে, শুল্ক তো সব দেশের ওপরই চাপানো হয়েছে, তাহলে এখানে বাছবিচার কেন? একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন বেছে বেছে চীন, রাশিয়া ও ইরানের মিত্রদের ওপর অন্যদের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ করেছে। এর বড় উদাহরণ ভারত। ভারতের চীনের সঙ্গে বৈরিতা থাকলেও দেশটি ইরান ও রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে তেল কিনছিল।
ট্রাম্প যে এলোমেলো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তার আরেকটি উদাহরণ হলো উত্তর কোরিয়া। সবার সঙ্গে তিনি লাগতে গেলেও কিম জং-উনকে তিনি চটাননি এখন পর্যন্ত। আগের দফায়ও উত্তর কোরিয়ার শাসকের সঙ্গে তিনি একাধিকবার দেখাও করেছেন।
সব দেখেশুনে এখন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে, ট্রাম্প আসলে বহুদিনের মার্কিন নীতির বাস্তব ও সরাসরি প্রয়োগের কৌশল নিয়েছেন। বহু বছর ধরে বিশ্বের মোড়লগিরি ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে যে কাজগুলো করে আসছিল, ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেগুলো সরাসরি করছেন। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে বড় হুমকি বিবেচনা করে। কাজেই এই বড় হুমকিকে মোকাবিলা করার আগে তার বলয় ভাঙার চেষ্টা চলছে বলেই মনে হচ্ছে। এ কারণেই ভেনেজুয়েলার একনায়ক এখন জেলে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পরপারে।
দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে বলা যায়, ইরানের পর ট্রাম্প কোন দিকে মনোযোগ দেবেন? এই প্রশ্নের প্রচ্ছন্ন জবাব প্রথম প্রশ্নের জবাবেই লুকিয়ে আছে। ট্রাম্প পরবর্তী সময়ে সেটাই করবেন, যা চীনের প্রভাব আরেকটু কমাতে সহায়ক হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি হয়তো আবারও চীনের কোনো মিত্র কিংবা বাণিজ্যিক অংশীদারের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন, অথবা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন কোনো জটিলতার জন্ম দিতে পারেন।
এ ছাড়া ট্রাম্পের ঝুলিতে জটিলতা বাড়ানোর আরও কিছু অ্যাজেন্ডা রয়েছে। যেমন গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, কানাডা-মেক্সিকোকে একটু শায়েস্তা করা, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে শায়েস্তা করা, তাইওয়ানকে সমরাস্ত্রে আরেকটু সমৃদ্ধ করা ইত্যাদি।
তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টিকে আরও প্রভাবশালী, দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়াতে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন বড় সুযোগ। সে ক্ষেত্রে ইরান নিয়ে ‘মাথাব্যথা’ ঝেড়ে ফেলার পর ট্রাম্প হয়তো এমন কোনো জাতীয় ইস্যুতে মনোযোগ দেবেন কিছু সময়ের জন্য, যার জোরে রিপাবলিকান পার্টির ভোট বাড়ে। এ ক্ষেত্রে তাঁর জন্য সবচেয়ে সহজ কৌশল হলো জাতীয়তাবাদকে উসকে দিতে পারে—এমন কিছু করা। সেই কাজটা হতে পারে মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে আরও কড়াকড়ি আরোপ কিংবা নিজ দেশের ভেতরে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, নিউইয়র্কের নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয় ট্রাম্পের জন্য বড় একটি পরাজয়। এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পকে ইঙ্গিত দিয়েছে, তিনি মার্কিন ভোটারদের মন জুগিয়ে চলতে পারছেন না। কাজেই এই ভোটারদের নিজের দিকে ভেড়াতে তিনি নিশ্চিতভাবেই জাতীয় কোনো ইস্যুকে বড় করে তুলবেন, সেটা ব্যবহার করে ভোট টানতে চাইবেন।
এরপর হয়তো আমরা আবারও আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যুতে ট্রাম্পকে মাথা ঘামাতে দেখব। আবার উল্টোটাও হতে পারে। মার্কিন সংবিধান ও প্রথা অনুযায়ী, ট্রাম্প এবার দ্বিতীয় ও শেষ দফায় ক্ষমতার মসনদে বসেছেন। কাজেই তিনি যদি ভাবেন, এরপর রিপাবলিকান পার্টির কী হলো না হলো, তাতে তাঁর কিছু যায়-আসে না, তাহলে ট্রাম্প হয়তো বিশ্বব্যবস্থায় আঘাত হানা অব্যাহত রাখবেন।
ট্রাম্প গত এক বছরে যা যা করেছেন, তার অনেক কিছুই হয়তো তাঁর আগের অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে মনে চেয়েছেন, কিন্তু নানা কারণে করতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে হয়তো অনেকেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ইরাক যুদ্ধ কিংবা তাঁর বাবা আরেক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রের উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের তুলনা চলে না। দুই বুশ কিংবা তাঁদের আগে-পরের মার্কিন প্রেসিডেন্টরা বিশ্বরাজনীতিতে যা যা করেছেন, সেগুলো ছিল চুলচেরা বিশ্লেষণের পর কৌশলগত পদক্ষেপ। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড দেখে এখন পর্যন্ত মনে হয় না তিনি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সবকিছু করছেন।
আবার এমনও হতে পারে, ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরিদের নির্ধারণ করে যাওয়া কৌশলগুলো প্রয়োগ করছেন। কারণ, আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট বদলালেও, ক্ষমতাসীন দল বদলালেও কৌশল খুব একটা বদলায় না। বিশেষ করে তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসে কমই। কাজেই ইরান ইস্যুর পর ট্রাম্প কোন ইস্যুতে মনোযোগ দেবেন, তা অনুমান করা কিছুটা কঠিন।

রাজনীতির ময়দানটাকে কি হত্যার মাঠে পরিণত করার বাসনা মনে পুষছেন কেউ কেউ? এই তো রংপুরের এক যুবদল নেতা যখন কেব্ল প্রতিষ্ঠানের একজন জিএমকে ফোন করে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে আসার হুমকি দেন, তখন বুঝতে হয় এই রাজনৈতিক ধারা থেকে নৈতিকতাই উধাও হয়ে গেছে। ইউনূস সরকারের শাসনের সময় মবতন্ত্র-আতঙ্ক জাগাত...
১ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে এক উন্মুক্ত সংঘাত শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এটিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ বলে ঘোষণা করেছেন। এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার...
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। বিশেষ করে ইরান গত সোমবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা...
৮ ঘণ্টা আগে
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে এবং বিভিন্ন বেড়িবাঁধে বন বিভাগের আওতায় রোপণ করা সামাজিক বনায়নের হাজার হাজার গাছ কেটে প্রভাবশালীরা ঘর, দোকানঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। আর এসব দখলদারি করতে পারছে পাউবোর পিয়ন মামুনের মাধ্যমে।
১ দিন আগে