
অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম দেশের বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন। তিনি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টাও। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজির পরিচালক ছিলেন। তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পিএইচডি করেছেন। সম্প্রতি জ্বালানিসংকটের কারণ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
সরকারের পক্ষ থেকে এ সংকটের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনাল হঠাৎ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সাপ্লাই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সেই দুর্ঘটনা না ঘটলে ৫০০ এমএমসিএফডি (প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস) গ্যাস সরবরাহ হতো। অথচ অতীতের ইতিহাস বলে, ১০০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করার ক্ষমতা আমাদের ছিল। কিন্তু আমরা সেটা না করে আগে থেকে বিদেশ থেকে আমদানি করা শুরু করেছি। যথাসময়ে এলএনজিও সাপ্লাই দিতে পারিনি; কখনো ৫০০, কখনো ৬০০, কখনো ৭০০ এমএমসিএফডি আমদানি করতে পেরেছি। তাই সব ক্যাপাসিটি থাকলেই যে আমরা এলএনজি পাই, তা নয়। তা ছাড়া এলএনজি ব্যয়বহুল, যেখানে প্রতি কিউবিক মিটার ৭৫-৭৮ টাকা, সেখানে আমাদের উৎপাদন ব্যয় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির (আইওসি) মাধ্যমে তিন টাকার নিচে, বাপেক্সের চার টাকার ওপরে আর বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের আরও অনেক কম। এত দাম দিয়ে এলএনজি চাহিদামাফিক সরবরাহ করার আর্থিক সক্ষমতা আমাদের নেই। ডলার জোগানের সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতি ডলার-সংকটের মধ্যে আছে। এ অবস্থায় ডলার সাশ্রয় করে বা জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে সরকার সংকট মোকাবিলা করতে চাচ্ছে। পাশাপাশি ভর্তুকিও নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং গ্যাস-সংকট অনিবার্যভাবে ঘটছে।
জ্বালানি খাত ব্যবস্থাপনায় সরকার একটি প্রতিষ্ঠান। কোনো সময় একটি দল ক্ষমতায় থাকে। কোনো সময় দল নিরপেক্ষ সরকার আসে। দুই বছর নিরপেক্ষ সরকার দায়িত্বে ছিল। তার আগে দলীয় সরকার ছিল। তবু সরকার নামক প্রতিষ্ঠানটার চরিত্রে কিছু ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে জ্বালানি খাতের যে সংস্কার শুরু হয়েছে, তার আওতায় এটি সেবা খাত থেকে বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্যিক খাতে পরিণত করতে হলে এটাকে লাভজনক করতে হবে। সেজন্য সরকার এই খাতকে ভেঙে টুকরো টুকরো করেছে। জ্বালানি সঞ্চালন, বিতরণের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। আবার বিতরণ বিভাগকে ভেঙে উৎপাদন ও উত্তোলনের জন্য আলাদা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তারপরেও এ খাতের কোনো উন্নতি ঘটেনি।
সরকারের মালিকানাধীন পিডিবির আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো খুবই কম। বাকি সব জায়গায় সরকারি কোম্পানি ব্যবসা করছে। আর এই ব্যবসায় সরকার জনগণের কাছে মুনাফাখোর হিসেবে অভিযুক্ত। অথচ সরকার তো মুনাফা নিতে পারে না, কস্ট প্রাইসে সেবা দেবে—এই দর্শনের জায়গা থেকেই একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কিন্তু সরকার এই খাতকে বাণিজ্যিক করে মুনাফামুখী হওয়ার দর্শনে দীক্ষিত হয়ে সেই অনুযায়ী নীতিনির্ধারণ করেছে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটাই চলে আসছে। প্রতিটি সরকার এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে। এই বাণিজ্যিকীকরণের প্রশ্নে কোনো সরকারের মধ্যে আমি ভিন্নতা দেখি না।
একসময় বলা হতো, গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের বিনিয়োগ নেই। তাই আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিকে (আইওসি) নিয়োগ করেছে, যারা অধিক ব্যয়ে গ্যাস উত্তোলন করে। ফলে তাদের কাছ থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হয়। সেই বিনিয়োগ ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ২০০৮ সালে বিধিবদ্ধ আদেশে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হয়। তখন থেকে প্রতিবছর দেড় হাজার কোটি টাকা করে জনগণ গ্যাস বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই তহবিল গড়ে তুলেছে। ২০২২ সালের দিকে দেখা যায়, এই তহবিলের ৬৫ শতাংশ টাকা খরচই করা হয়নি। মাত্র ৩৫ শতাংশ খরচ করা হয়েছে বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে গ্যাস উত্তোলনের বিল মেটাতে। অর্থাৎ বাপেক্স, সিলেট গ্যাস ফিল্ড বা বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড—এই তিনটি দেশীয় কোম্পানির বিনিয়োগ ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে এই টাকা খরচ করা হয়নি। এভাবে টাকা খরচ না করে যদি বলা হয় তারা সক্ষম নয়, তাহলে বলব এই স্ববিরোধিতার শিকার জাতীয় কোম্পানি বাপেক্স—এটাই মূল কথা।
আইওসির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে যারা আগ্রহী, তারাই দেশীয় কোম্পানিকে পঙ্গু করে রেখেছে, এটা প্রমাণিত। বাপেক্সকে কোনো প্রসপেক্টিভ ব্লক অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, বরং বলা হয় তারা পারবে না। স্থলভাগের গ্যাস তারা অনুসন্ধান করতে পারবে না, এটা কেউ প্রমাণ করে বলতে পারে না; বরং দায়িত্ব দিয়েই প্রমাণ করাতে হবে তাদের সক্ষমতা আছে কি না।
ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নাইকোর সঙ্গে কেন যৌথ উদ্যোগে গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছিল? বাপেক্সকে কেন একক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি? হাইকোর্টে নাইকোর সঙ্গে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার যৌথ উদ্যোগ চুক্তি (জেভিএ) বাতিল হওয়ার পর আমরা কেন বাপেক্সকে দায়িত্ব দিয়ে সেই অনুসন্ধান করিনি? যেখানে এখনো এক টিসিএফ (১ লাখ কোটি ঘনফুট) গ্যাস মজুদ রয়েছে, যা দুই টাকারও কম দামে তোলা যেত! আজ সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে এলে পাঁচ বছরের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যেত। এভাবে জাতিকে গ্যাস-সংকটে ফেলে জ্বালানিনিরাপত্তা বিপন্ন করে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, সেটা কি মানবাধিকারবিরোধী কাজ নয়?
খাদ্য-সংকট তৈরি করে কোনো জাতিকে দুর্ভিক্ষে ফেলা যদি মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ হয়, তাহলে আজকের জ্বালানি-সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ীদের কেন একইভাবে অপরাধী গণ্য করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না—এই প্রশ্নটা সর্বজনীন হতে হবে বলে আমি মনে করি।
একটা বাধা আগে থেকেই আছে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ঠিক হয়েছিল, ভোলার গ্যাস বিদেশি কোম্পানি উত্তোলন করে সেখানেই বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করে আইপিপির (বেসরকারি খাতে স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক) আওতায় ব্যবহার করবে, আর সরকার সেই বিদ্যুৎ কিনবে। এতে গ্যাস উৎপাদন ব্যয় দেশীয় কোম্পানির চেয়ে বেড়ে যায়। আবার বিদেশি আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কিনলে আরেক দফা ব্যয় বাড়ে—এই দ্বৈত ব্যয় বৃদ্ধির কবলে আমাদের ফেলা হয়েছে। সরকার এই নীতিতে এগোনোর পেছনে নেপথ্যে কোনো শক্তি সক্রিয় ছিল কি না, সে প্রশ্ন থেকে যায়। রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা সরকারের হাতে। কিন্তু সেই সরকারের মধ্যেই কিছু ক্রিয়াশীল অলিগার্ক গোষ্ঠী তৈরি হয়, যারা এতটাই শক্তিশালী যে জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে অসাধু ব্যবসা, কমিশন, ঘুষ-দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি করতে রাষ্ট্র ও সরকারকে প্রভাবিত করে। ফলে (যতদূর আমি জানি), সিএনজি করে গ্যাস কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় কোনো এক বিএনপি বা আওয়ামী লীগ এমপির ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য। বর্তমান সরকারের আমলেও সেটা বাতিল করা হয়নি।
বছরের পর বছর ধরে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে এভাবে বিশিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যবসা বানিয়ে দেওয়া কি জ্বালানি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না? এই প্রশ্ন তুলেই আমি সিলেটের গ্যাসের উদাহরণটা দিতে চাই। সিলেটের গ্যাস এলএনজি করে আনতে হলে ২০ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। এই বাড়তি খরচ করে গ্যাসের সরবরাহ ব্যয় বা মূল্য বাড়ানোর কোনো দরকার ছিল কি? এলএনজি এনে আন্তর্জাতিক দামে বিক্রি করে একশ্রেণির মানুষের ব্যবসা বানিয়ে দেওয়া, তাদের মুনাফা গ্যাসের মূল্য ও ভর্তুকি বাড়িয়ে তাদের বাণিজ্য সমৃদ্ধ করা—এই প্রক্রিয়ায় যেভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদনক্ষমতা তৈরি করে করা হয়েছে, একইভাবে গ্যাস খাতেও এই গোষ্ঠীগত সুবিধা, অলিগার্ক শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে রাষ্ট্র তার ক্ষমতা ব্যবহার করেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এই উদ্যোগ ছিল, এখনো এই কথাবার্তা চলছে। কানাডার কোম্পানি নাইকো ২০০৩ সালের দিকে ছাতক ও ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নের কাজ পায় এবং ২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। পরবর্তী সরকারগুলোর আমলেও গ্যাস নিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রবর্তন করা হয়েছে। এসব যতক্ষণ চলবে, ততক্ষণ এই গ্যাস জনস্বার্থে নয়, বরং জনস্বার্থ খর্ব করে অসাধু ব্যবসা প্রমোট করার কাজে ব্যবহার হবে।
রাষ্ট্রকে যদি গণবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে আমি পিডিবির একটা প্রস্তাবের কথা বলব। পিডিবি বলেছে, তাদের ওই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দেওয়া হোক; তাহলে ঢাকায় যে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, সেই উৎপাদন বন্ধ করে সেই গ্যাস কারখানা বা শিল্পে দেওয়া যাবে। তাহলে ১০ বিলিয়ন ডলার খরচেরও দরকার পড়বে না, বিদ্যুৎও কম দামে উৎপাদন করা যাবে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও ঘাটতি কমবে, আর এলএনজি, কয়লা বা তেল আমদানির দরকার হবে না। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমে যাবে।
প্রথমত, দুটো কাজ এখনই করা জরুরি। অপরাধ যে হয়েছে তা আইনগতভাবে প্রমাণ করার জন্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সরবরাহ আইন যে রিপিল অর্ডিন্যান্স দ্বারা বাতিল হয়েছে, তার মধ্যেই ‘ক’ ও ‘খ’ এই দুই ধারায় দায়মুক্তি রাখা হয়েছে। যে আইনের মাধ্যমে অতীতে যা কিছু করা হয়েছে তা বহাল থাকবে আর আইনানুগভাবে করা হয়েছে বলে গণ্য হবে—এই দুটো ধারা বাতিল করতে হবে। এই ধারা বাতিল হলে ওই আইন কালো আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ক্যাবের একটা মামলা ইতিমধ্যে হাইকোর্টে রয়েছে। সেটা ঠিকঠাক নিষ্পত্তি হলে জ্বালানি অপরাধীদের বিচারের আইনি বাধা দূর হবে।
দ্বিতীয়ত, জ্বালানিনিরাপত্তা বিঘ্নিত করা মানে খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেয়েও বেশি কিছু। কারণ, জীবনযাত্রার সব পর্যায়ে জ্বালানির ব্যবহার এখন অপরিহার্য। এভাবে একটা জাতিকে আইনি কাঠামো তৈরি করে জ্বালানি থেকে বঞ্চিত করা, মুনাফাখোরি করা ও এই খাত লুণ্ঠন করাকে আমি মনে করি, মানবতাবিরোধী অপরাধ। এটা প্রমাণিত করে দায়ীদের বিচারের কাঠগড়ায় আনার জন্য ব্যাপক গণ-আন্দোলন সংগঠিত করা দরকার। সেই আন্দোলন তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি করতে পারত। কারণ, তাদের সামাজিক ভিত্তি ছিল। এই আন্দোলন না হলে কোনো সরকারের পক্ষেই এই বিচার সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না।
আমি মনে করি, স্থলভাগে কোনো অবস্থাতেই আইওসিকে ডাকার দরকার নেই। আমাদের দেশের কোম্পানি ৪০-৪২ বছর ধরে কাজ করছে। আমরা তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিচ্ছি। তারা সক্ষম না অক্ষম—এই বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। তাদেরকেই দেশের গ্যাস তুলতে দিতে হবে, নইলে তাদের বিদায় করে দিতে হবে। তারা পারে কি পারে না, সেটা প্রমাণের সুযোগ দিতে হবে। তারা তো কোনো গ্যাসফিল্ড পুড়িয়ে ফেলেনি বা বিস্ফোরণ ঘটায়নি। তাদের সাফল্যের রেকর্ড খারাপ না। তাহলে বড় বড় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য কেন আইওসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে? এতে আমার ঘোরতর আপত্তি আছে।
বাপেক্সের বাইরে স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধান কোনো বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার পক্ষে আমি নই। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ভাড়া করা যেতে পারে, বেতনভুক্ত প্রফেশনাল নিয়োগ করা যেতে পারে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদেশি প্রফেশনালরা কাজ করছেন। কিন্তু গ্যাসের মালিকানা দিয়ে আইওসিকে ডাকা মানেই জাতিকে পঙ্গু করা, যা চলে আসছে। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করুক, এটা আমি কখনোই প্রত্যাশা করি না। এটা জাতীয় সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভয়ংকর রকমের বড় বাধা।
সাগরের গ্যাস অনুসন্ধানে যে পিএসসি মডেল প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে অভিযোগ রয়েছে যে আমাদের কর্তৃপক্ষীয় ব্যক্তিবর্গের নেগোসিয়েশনে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের সক্ষমতা নেই। এই অভিযোগ থেকে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে পিএসসির মাধ্যমে দর-কষাকষি করে সাগরের গ্যাস উত্তোলনে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা সক্ষম, এটা পেট্রোবাংলাকেই প্রমাণ করতে হবে।

‘কবিতা’ পত্রিকা প্রকাশের পরে সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুকে লেখা এক চিঠিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘তোমাদের কবিতা পত্রিকাটি পড়ে বিশেষ আনন্দ পেয়েছি। এর প্রায় প্রত্যেকটি রচনার মধ্যেই বৈশিষ্ট্য আছে। সাহিত্য-বারোয়ারির দল-বাঁধা লেখার মতো হয়নি।’
১০ ঘণ্টা আগে
বরগুনার মানুষ আনন্দে হাসবে নাকি দুঃখে কাঁদবে, তা ঠিক করার ভার তাদেরই দেওয়া উচিত। অথবা হাসি-কান্না বাদ দিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে থাকাটা নিরাপদ কি না, সেটাও তারা ভেবে দেখতে পারে। আচ্ছা, ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ শব্দটি কি এখনো বাংলা ভাষায় আছে?
১১ ঘণ্টা আগে
ঢাকার অভিজাত এলাকার এক আধুনিক বাড়িতে একটি হারিকেন দেখতে পাই। হারিকেনটি দেখতে বেশ সুন্দর ছিল। হারিকেন তো দুটি কাজে লাগে। একটি হচ্ছে লোডশেডিংয়ের সময় আলো দেয়, আরেকটি হচ্ছে মশা থেকে রক্ষা করে। দুটি জলজ্যান্ত সমস্যা এ সময়ের। একটি বিদ্যুৎ, অন্যটি মশা। দুটি সমস্যারই একটা উপসংহার হয়ে গেছে।
১ দিন আগে
আমাদের দেশে গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু প্রতিবছর গরম এলেই যদি মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়, তাহলে প্রশ্ন হলো, সমস্যাটি কি শুধু বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া, নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি?
১ দিন আগে