চিররঞ্জন সরকার

৪ সেপ্টেম্বর এলজিইডি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের ধর্মে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ঘুষ খেলে নামাজ হবে না, হারাম খেলে নামাজ হবে না। শুধু তা-ই নয়, হারাম টাকায় কেনা কোনো পোশাক যদি অন্য পোশাক স্পর্শ করে, তবে নাপাক হয়ে যাবে। প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়ান। সারা দিন কী কাজ করলেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন।’
সচিব হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘সরকার আমাদের বেতন অনেক বাড়িয়েছে। তার পরও কেউ চুরি করে ধরা পড়লে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকস্মিক কেন ঘুষের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় নেতা’র স্টাইলে বয়ান দিলেন, তা বোধগম্য নয়। মাছ জল খাবে, সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ খাবে, গরু ঘাস-বিচালি খাবে, ছাগল কাঁঠালপাতা খাবে, মাতাল মদ খাবে—এতে বাগড়া দেওয়ার কী আছে? যার যেটা ভালো লাগে, যে যেটা খেয়ে অভ্যস্ত, যা খেয়ে আরেকজন উপকার পায়, সে সেটা খাবেই। বাধা দিলে বরং বিপত্তি দেখা দেবে।
সচিব মহোদয় বলেছেন, ‘হারাম খেলে নামাজ হয় না।’ কিন্তু ‘হারাম’ না খেলে যাঁদের ঘুম হয় না, ফুটানি হয় না, পরিবারের সদস্যদের আরাম-আয়েশ, বিলাস-ব্যসন হয় না, ছটফটানি বাড়ে, তাদের কষ্টটা বুঝতে চাইলেন না?
খামোখা ‘হারাম’ খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কিছু মানুষের হৃদয়ে আঘাত করার কোনো মানে আছে বলে মনে হয় না। সচিব মহোদয় কি জানেন না যে কারও হৃদয়ে আঘাত করা, মন ভাঙা অনেক বড়
গর্হিত কাজ?
আর ঘুষখোরদের অ্যাকশনের ভয় দেখিয়ে কী লাভ? যাঁরা ঘুষ খান, তাঁরা জেনে-বুঝে, নিয়ম মেনেই খান। সাক্ষী-প্রমাণ রেখে ঘুষ খান নবিশরা। যিনি যত পাকা, তিনি ততই কুশলী। তাঁরা রাখঢাক করেই খান। ঘুষ খাওয়া কিছু মানুষের কাছে এক আশ্চর্য আর্টে পরিণত হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত ঘুষ খাচ্ছেন, অথচ ব্যাংকে কোনো টাকা পাবেন না। নিয়মিত ধর্মকর্ম করছেন। যেখানে যতটুকু নীতিনৈতিকতার কথা বলা দরকার, তা ঝেড়ে দিচ্ছেন। এমন নিখুঁত ‘অভিনেতা’দের কে সামলাবেন, কীভাবে সামলাবেন?
তা ছাড়া, ঘুষ এখন সিস্টেমের মধ্যেই ঢুকে গেছে। যত বড় কর্মকর্তা, তাঁর জন্য পারসেন্টেজ তত বেশি। এমনভাবে প্রকল্প তৈরি করা হয়, সেটা এমনভাবে অনুমোদন হয়, এমন কায়দায় বাস্তবায়িত হয়, কোনো একজন ঝানু গোয়েন্দার পক্ষেও সেটাতে কোনো অনিয়ম খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। অথচ শিকড় থেকে ডালপালা পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতির উপাদান নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকে।
এ কথা ঠিক যে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন এখন অনেক বাড়ানো হয়েছে। এই বেতনে ‘নিয়মের মধ্যে থেকে’ও জীবনযাপন সম্ভব। কিন্তু তা দিয়ে কতটা ‘উন্নত’ জীবনযাপন করা সম্ভব, সে প্রশ্ন থাকেই। তা ছাড়া, মানুষের চাহিদার কি কোনো শেষ আছে? ব্রিটিশ বিলিয়নিয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন ও আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস যখন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মহাশূন্যে বেড়াতে যান, তখন কি আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা আটার রুটি আর আলুভাজি চিবোতে চিবোতে সেই খবর পত্রিকায় পড়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারেন? তাঁদেরও কি ইচ্ছে করে না কোটিপতি হওয়ার? মহাশূন্যে না হোক, ইউরোপ-আমেরিকা ঘুরে বেড়ানোর? সীমিত আয়, সীমাবদ্ধ জীবন কি কারও আরাধ্য হতে পারে?
যত কথাই বলি না কেন, ঘুষ-দুর্নীতি আসলে আমাদের সমাজে অপরিহার্য একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর অনেক উপকারিতাও আছে। উপকারিতা আছে বলেই আমাদের সমাজে ওই জিনিস বীরবিক্রমে টিকে আছে। ভয় দেখিয়ে, দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে, বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেও ঘুষ-দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না। বরং এর সামাজিক উপযোগিতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। দুর্নীতি নিয়ে মানুষের অসীম উৎসাহ। কে খেলো, কত খেলো, কীভাবে খেলো—এসব জানতে মানুষের মন আঁকুপাঁকু করে। ঘুষ-দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে মানুষ রসিয়ে রসিয়ে পড়ে। অনেকে গোপনে দীর্ঘশ্বাসও ফেলে। ইশ, এমন একটা সুযোগ আমি কেন পেলাম না! সরকারি কোনো প্রকল্পের কেনাকাটায় দুর্নীতির খবর যখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, মানুষের মধ্যে তখন বিপুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। এই যেমন রূপপুর প্রকল্পে বালিশ কেনা, মেডিকেল কলেজের বই কেনা, পর্দা কেনা, সরঞ্জাম কেনা। এসব নিয়ে লোকজন ক্ষোভও প্রকাশ করেন। কারণ যে পেরেছে আর যে পারেনি, দুইয়ের একটা দ্বন্দ্ব-ক্ষোভ থাকবেই!
যা হোক, ঘুষকে আমরা ‘খাদ্য’ বানিয়ে ফেলেছি। এ দেশে এখন মানুষ আমিষ-নিরামিষ, ভাত-নাশতা-পানীয়র পাশাপাশি ঘুষও ‘খায়’। এ যুগে ঘুষ নিয়ে ঘুষাঘুষি করে কোনো লাভ আছে বলে মনে হয় না। কান পাতলে এখন বরং এমন কথা শোনা যায়— পাত্র কী করে?
: সরকারি চাকুরে।
: তা উপরি কত?
: এ আবার কেমন কথা! সবাই কি ঘুষ খায়?
: কেন খাবে না? আরে ভাই,
যা দিনকাল পড়ছে। সংসারটা তো
চালাতে হবে। মাসের বেতনের টাকা তো মোবাইল বিল দিতেই চলে যায়। তারপর বাসাভাড়া, ছেলেমেয়ের পড়ার খরচ, বউয়ের বায়না—এসবও তো মেটাতে হবে, নাকি?
এবার পাত্রপক্ষ ভাবতে বসে, কিন্তু মুখ খোলে না। কারণ, ঘুষই একমাত্র খাদ্য, যা মুখ না খুলেই খাওয়া যায়। আসল কথা হলো, নগদপ্রাপ্তিতে সবাই খুশি।
পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের বড় কর্তা—সবাই তৎপর এই ঘুষের কারণে। তুমি আমাকে ঘুষ দাও, আমি তোমাকে ফাইল দেব। সহজ গাণিতিক সমাধান।
ঘুষ না খেলে শুনেছি অনেক কর্মকর্তার হুঁশ থাকে না। ঘুষ পেলে তাঁরা খুশ থাকেন। মানুষের দেখাদেখি জীবজন্তুও এখন ঘুষ খেতে শিখেছে। চিড়িয়াখানায় বানরের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে যতই ভেংচি কাটেন, বানর কিছুতেই সাড়া দেবে না। ও ব্যাটা ঠিক ‘লিভ মি এলোন’ ভাব নিয়ে বসে থাকবে। একটা কলা ছুড়ে দিন। এবার দেখুন তার বাঁদরামো। আবার টিউবওয়েলের কথাই ধরুন। সকাল থেকে চাপাচাপি করছেন, পানি বের হচ্ছে না। অথচ যন্ত্রপাতি সব ঠিক আছে। টিউবওয়েলের মধ্যে একটু পানি ঢালুন। এবার চাপতে থাকুন। দেখবেন জোয়ারের মতো পানি বেরিয়ে আসছে। এ আসলে ঘুষের ব্যারাম। মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মতো ঘুষ নিয়ে ঘুষাঘুষিও এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। পার্থক্য শুধু নামে। কেউ একে বলেন উপহার, কেউ বলেন ডোনেশন, আবার কেউ বলেন পারসেন্টেজ। এ চলছে, চলবে!
লেখক: গবেষক, রম্য লেখক

৪ সেপ্টেম্বর এলজিইডি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের ধর্মে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ঘুষ খেলে নামাজ হবে না, হারাম খেলে নামাজ হবে না। শুধু তা-ই নয়, হারাম টাকায় কেনা কোনো পোশাক যদি অন্য পোশাক স্পর্শ করে, তবে নাপাক হয়ে যাবে। প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়ান। সারা দিন কী কাজ করলেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন।’
সচিব হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘সরকার আমাদের বেতন অনেক বাড়িয়েছে। তার পরও কেউ চুরি করে ধরা পড়লে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকস্মিক কেন ঘুষের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় নেতা’র স্টাইলে বয়ান দিলেন, তা বোধগম্য নয়। মাছ জল খাবে, সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ খাবে, গরু ঘাস-বিচালি খাবে, ছাগল কাঁঠালপাতা খাবে, মাতাল মদ খাবে—এতে বাগড়া দেওয়ার কী আছে? যার যেটা ভালো লাগে, যে যেটা খেয়ে অভ্যস্ত, যা খেয়ে আরেকজন উপকার পায়, সে সেটা খাবেই। বাধা দিলে বরং বিপত্তি দেখা দেবে।
সচিব মহোদয় বলেছেন, ‘হারাম খেলে নামাজ হয় না।’ কিন্তু ‘হারাম’ না খেলে যাঁদের ঘুম হয় না, ফুটানি হয় না, পরিবারের সদস্যদের আরাম-আয়েশ, বিলাস-ব্যসন হয় না, ছটফটানি বাড়ে, তাদের কষ্টটা বুঝতে চাইলেন না?
খামোখা ‘হারাম’ খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কিছু মানুষের হৃদয়ে আঘাত করার কোনো মানে আছে বলে মনে হয় না। সচিব মহোদয় কি জানেন না যে কারও হৃদয়ে আঘাত করা, মন ভাঙা অনেক বড়
গর্হিত কাজ?
আর ঘুষখোরদের অ্যাকশনের ভয় দেখিয়ে কী লাভ? যাঁরা ঘুষ খান, তাঁরা জেনে-বুঝে, নিয়ম মেনেই খান। সাক্ষী-প্রমাণ রেখে ঘুষ খান নবিশরা। যিনি যত পাকা, তিনি ততই কুশলী। তাঁরা রাখঢাক করেই খান। ঘুষ খাওয়া কিছু মানুষের কাছে এক আশ্চর্য আর্টে পরিণত হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত ঘুষ খাচ্ছেন, অথচ ব্যাংকে কোনো টাকা পাবেন না। নিয়মিত ধর্মকর্ম করছেন। যেখানে যতটুকু নীতিনৈতিকতার কথা বলা দরকার, তা ঝেড়ে দিচ্ছেন। এমন নিখুঁত ‘অভিনেতা’দের কে সামলাবেন, কীভাবে সামলাবেন?
তা ছাড়া, ঘুষ এখন সিস্টেমের মধ্যেই ঢুকে গেছে। যত বড় কর্মকর্তা, তাঁর জন্য পারসেন্টেজ তত বেশি। এমনভাবে প্রকল্প তৈরি করা হয়, সেটা এমনভাবে অনুমোদন হয়, এমন কায়দায় বাস্তবায়িত হয়, কোনো একজন ঝানু গোয়েন্দার পক্ষেও সেটাতে কোনো অনিয়ম খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। অথচ শিকড় থেকে ডালপালা পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতির উপাদান নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকে।
এ কথা ঠিক যে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন এখন অনেক বাড়ানো হয়েছে। এই বেতনে ‘নিয়মের মধ্যে থেকে’ও জীবনযাপন সম্ভব। কিন্তু তা দিয়ে কতটা ‘উন্নত’ জীবনযাপন করা সম্ভব, সে প্রশ্ন থাকেই। তা ছাড়া, মানুষের চাহিদার কি কোনো শেষ আছে? ব্রিটিশ বিলিয়নিয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন ও আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস যখন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মহাশূন্যে বেড়াতে যান, তখন কি আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা আটার রুটি আর আলুভাজি চিবোতে চিবোতে সেই খবর পত্রিকায় পড়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারেন? তাঁদেরও কি ইচ্ছে করে না কোটিপতি হওয়ার? মহাশূন্যে না হোক, ইউরোপ-আমেরিকা ঘুরে বেড়ানোর? সীমিত আয়, সীমাবদ্ধ জীবন কি কারও আরাধ্য হতে পারে?
যত কথাই বলি না কেন, ঘুষ-দুর্নীতি আসলে আমাদের সমাজে অপরিহার্য একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর অনেক উপকারিতাও আছে। উপকারিতা আছে বলেই আমাদের সমাজে ওই জিনিস বীরবিক্রমে টিকে আছে। ভয় দেখিয়ে, দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে, বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেও ঘুষ-দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না। বরং এর সামাজিক উপযোগিতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। দুর্নীতি নিয়ে মানুষের অসীম উৎসাহ। কে খেলো, কত খেলো, কীভাবে খেলো—এসব জানতে মানুষের মন আঁকুপাঁকু করে। ঘুষ-দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে মানুষ রসিয়ে রসিয়ে পড়ে। অনেকে গোপনে দীর্ঘশ্বাসও ফেলে। ইশ, এমন একটা সুযোগ আমি কেন পেলাম না! সরকারি কোনো প্রকল্পের কেনাকাটায় দুর্নীতির খবর যখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, মানুষের মধ্যে তখন বিপুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। এই যেমন রূপপুর প্রকল্পে বালিশ কেনা, মেডিকেল কলেজের বই কেনা, পর্দা কেনা, সরঞ্জাম কেনা। এসব নিয়ে লোকজন ক্ষোভও প্রকাশ করেন। কারণ যে পেরেছে আর যে পারেনি, দুইয়ের একটা দ্বন্দ্ব-ক্ষোভ থাকবেই!
যা হোক, ঘুষকে আমরা ‘খাদ্য’ বানিয়ে ফেলেছি। এ দেশে এখন মানুষ আমিষ-নিরামিষ, ভাত-নাশতা-পানীয়র পাশাপাশি ঘুষও ‘খায়’। এ যুগে ঘুষ নিয়ে ঘুষাঘুষি করে কোনো লাভ আছে বলে মনে হয় না। কান পাতলে এখন বরং এমন কথা শোনা যায়— পাত্র কী করে?
: সরকারি চাকুরে।
: তা উপরি কত?
: এ আবার কেমন কথা! সবাই কি ঘুষ খায়?
: কেন খাবে না? আরে ভাই,
যা দিনকাল পড়ছে। সংসারটা তো
চালাতে হবে। মাসের বেতনের টাকা তো মোবাইল বিল দিতেই চলে যায়। তারপর বাসাভাড়া, ছেলেমেয়ের পড়ার খরচ, বউয়ের বায়না—এসবও তো মেটাতে হবে, নাকি?
এবার পাত্রপক্ষ ভাবতে বসে, কিন্তু মুখ খোলে না। কারণ, ঘুষই একমাত্র খাদ্য, যা মুখ না খুলেই খাওয়া যায়। আসল কথা হলো, নগদপ্রাপ্তিতে সবাই খুশি।
পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের বড় কর্তা—সবাই তৎপর এই ঘুষের কারণে। তুমি আমাকে ঘুষ দাও, আমি তোমাকে ফাইল দেব। সহজ গাণিতিক সমাধান।
ঘুষ না খেলে শুনেছি অনেক কর্মকর্তার হুঁশ থাকে না। ঘুষ পেলে তাঁরা খুশ থাকেন। মানুষের দেখাদেখি জীবজন্তুও এখন ঘুষ খেতে শিখেছে। চিড়িয়াখানায় বানরের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে যতই ভেংচি কাটেন, বানর কিছুতেই সাড়া দেবে না। ও ব্যাটা ঠিক ‘লিভ মি এলোন’ ভাব নিয়ে বসে থাকবে। একটা কলা ছুড়ে দিন। এবার দেখুন তার বাঁদরামো। আবার টিউবওয়েলের কথাই ধরুন। সকাল থেকে চাপাচাপি করছেন, পানি বের হচ্ছে না। অথচ যন্ত্রপাতি সব ঠিক আছে। টিউবওয়েলের মধ্যে একটু পানি ঢালুন। এবার চাপতে থাকুন। দেখবেন জোয়ারের মতো পানি বেরিয়ে আসছে। এ আসলে ঘুষের ব্যারাম। মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মতো ঘুষ নিয়ে ঘুষাঘুষিও এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। পার্থক্য শুধু নামে। কেউ একে বলেন উপহার, কেউ বলেন ডোনেশন, আবার কেউ বলেন পারসেন্টেজ। এ চলছে, চলবে!
লেখক: গবেষক, রম্য লেখক

সভ্যতার ইতিহাস তো আসলে অসন্তোষেরই ইতিহাস। সন্তোষ দেখা দিলে সভ্যতা এগোত না। কিন্তু ওই অসন্তোষটা শুধু ব্যক্তিগত তো নয়ই, প্রধানতও ব্যক্তিগত নয়; হয়ে পড়েছে সমষ্টিগত এবং যখন সে সমষ্টিগত হয়েছে, তখনই ঘটেছে উত্তরণ, তার আগে নয়। সমষ্টির আঘাতে এবং সমষ্টির স্বার্থেই পুরোনো ব্যবস্থাটা ভেঙে পড়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা এখন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সে জন্য মানবসম্পদের মান, গবেষণা-সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনের গতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ডিগ্রি প্রদান কিংবা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে এই চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়; দরকার এমন একটি ইকোসিস্টেম, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও রাষ্ট্র একসঙ্গে
৭ ঘণ্টা আগে
মানুষ কেন আত্মহত্যা করে, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা একক কোনো কারণ আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে আত্মহত্যার জন্য বহুমাত্রিক কারণ জড়িত। একজন ব্যক্তি যখন নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন না, তখন তিনি নিজেকে শেষ করার পথ বেছে নেন।
৭ ঘণ্টা আগে
দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে ২০০১-০৬ মেয়াদকালে সরকারের অন্যতম প্রচারণা ছিল, ‘বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে’। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী পর্যন্ত অনেকে সেই প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।
১ দিন আগে