বিজন সাহা

কয়েক দিন আগে যখন সাঁতার কাটতে গেলাম, দেখি এক বিশাল ইয়াখত (ইয়ট) দাঁড়িয়ে আছে নদীর ওপারে।
-আব্রামোভিচ এসেছে মনে হয়!
ঠাট্টা করে আমি জিজ্ঞেস করলাম। কে শোনে কার কথা। ওরা এক মহিলাকে বলছে, সবে কেনা গাউন পরতে। এত সুন্দর ইয়াখতের সঙ্গে ছবি তোলা কি মিস করা যায়?
-ইয়াখত গেছে তাতে কী, আমাদের বিদেশি আছে না?
-বিদেশি আছে, তবে সে পয়সা ছাড়া পোজ দেয় না, বিশেষ করে মেয়েদের সঙ্গে। বউ সাবোটাজ করতে শুরু করলে তার মান ভাঙাতে হবে না?
কিছুক্ষণ পরে দেখি সবাই কী একটা কাগজে সই করছে। আমাকেও বলছে সই করতে। কী ব্যাপার? কী ব্যাপার?
ব্যাপার কিছুই নয়। আমরা যেখানে সাঁতার কাটি, সেটা আসলে শহরের অনুমোদিত ঘাট নয়। তবে বাড়ির পাশে বিধায় এখানে অনেকেই সাঁতার কাটে। নদীর তীর ধরে যে রাস্তা চলে গেছে, সেটা ওদিকটায় সাজানো-গোছানো হলেও এদিকটায় তেমন নয়। আসলে এ এলাকার নামই নিষিদ্ধ এলাকা। বেশ কিছু টেকনিক্যাল বিল্ডিং থাকায় এখানে বেশি লোকজন চলাফেরা করুক, সেটা কাম্য নয়। তবে সেটা ছিল সোভিয়েত আমলে। যা হোক, এবার কর্তৃপক্ষ রাস্তাটা ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুবনার বয়স মাত্র ৬৫ বছর। ১৯৯৮ থেকে এরা শহরের জন্মদিন পালন করা শুরু করেছে। সেটা হয় জুলাইয়ের শেষ শনিবার। আর সেটাকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন অংশ নতুন করে সাজানো হয়, রাস্তাঘাট তৈরি হয়। বর্তমানের রাস্তা নির্মাণ সেই ঘটনার অংশ। কিন্তু এ নিয়ে ভাবার কী আছে? আসল ব্যাপার হলো ওরা এখানে তরুণদের জন্য স্কেটিং করার পার্ক করতে চায়। তরুণদের এসব দরকার, এ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু কথা হলো, ওরা আসা মানেই আমাদের শান্তি নষ্ট হওয়া। ওরা তো শুধু স্কেটিং করে না, মিউজিক, হই-হুল্লোড় সবই করে। আর এটা করতে গিয়ে নদীর ধারে বেশ কিছু গাছ কাটার প্ল্যান আছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাই আমাদের প্রতিবাদলিপি যাবে আমাদের ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর, শহরের মেয়র, মস্কোর জেলার গভর্নর আর প্রসিকিউটরের হাতে।
বছর ১৮-১৯ আগে, আমাদের বাড়ির সামনে একটা পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কত যে গাছগাছালি লাগানো হয়েছিল! কয়েক বছর ওখানে কেটেছে বাচ্চাদের সঙ্গে ঘুরেফিরে। তারপর একদিন দুবনার জন্মদিনের আগে ঠিক হলো এখানে নয়, অন্য একটা লেকের পাশে পার্ক হবে। এই পার্কের কাজ ওভাবে অসম্পূর্ণ পড়ে রইল। অযত্নে গাছগুলো বাড়তে লাগল। তারপর একসময় কারা যেন সেখানে আবাসিক বিল্ডিং তোলার সিদ্ধান্ত নিল। বেড়া দিয়ে পার্কের একটা অংশ ঘিরে ফেলা হলো। আমরা প্রতিবাদ করলাম। চিঠি লিখলাম। এখন পর্যন্ত সেখানে সেই বেড়া রয়ে গেছে। যতদূর জানি, বিল্ডিং করার ওপর আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু বেড়া সরানোর অধিকার তাঁর নেই। ফলে এটা ‘না ঘরকা না ঘাটকা’। তাই শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেই প্রতিবাদলিপিতে সই করলাম।
কথাটা মনে পড়ল দেশের এক প্রসঙ্গে। আমাদের দেশে ঘর আর ঘর আর তার মাঝে দু-একটা গাছ। দুবনায় তার উল্টো। বন আর বন, মাঝেমধ্যে দু-একটা বিল্ডিং। তবু গাছের জন্য মানুষের এ লড়াই।
ফেসবুকে চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এই এলাকাকে চট্টগ্রামের ফুসফুস বলা হয়। এ থেকে বুঝতে পারি এখানে পার্ক বা উদ্যান, নিদেনপক্ষে অনেক গাছপালার উপস্থিতি। এই গাছপালা কাটা মানে সেই ফুসফুসকে নষ্ট করা। করোনা যেমন মানুষের ফুসফুস আক্রমণ করে, প্রশাসন তেমনি শহরের ফুসফুস ধ্বংস করতে উদ্যত। হাসপাতাল রোগ সারায়। বন-প্রকৃতি রোগ হতে দেয় না। তাই যেকোনো দেশেই উদ্যানের প্রয়োজন হাসপাতালের চেয়ে কম তো নয়ই; বরং ক্ষেত্রবিশেষে অনেক বেশি। উদ্যান কেটে হাসপাতাল নির্মাণ করলে সমস্যার সমাধান হবে না, সমস্যা বরং বাড়বে। তাই হাসপাতাল দরকার, তবে তা পার্কের পরিবর্তে নয়, পরিপূরক হিসেবে। যত তাড়াতাড়ি দেশের মানুষ, প্রশাসন, এ সহজ সত্যটা অনুধাবন করতে পারবে, ততই মঙ্গল।
লেখক: গবেষক ও শিক্ষক

কয়েক দিন আগে যখন সাঁতার কাটতে গেলাম, দেখি এক বিশাল ইয়াখত (ইয়ট) দাঁড়িয়ে আছে নদীর ওপারে।
-আব্রামোভিচ এসেছে মনে হয়!
ঠাট্টা করে আমি জিজ্ঞেস করলাম। কে শোনে কার কথা। ওরা এক মহিলাকে বলছে, সবে কেনা গাউন পরতে। এত সুন্দর ইয়াখতের সঙ্গে ছবি তোলা কি মিস করা যায়?
-ইয়াখত গেছে তাতে কী, আমাদের বিদেশি আছে না?
-বিদেশি আছে, তবে সে পয়সা ছাড়া পোজ দেয় না, বিশেষ করে মেয়েদের সঙ্গে। বউ সাবোটাজ করতে শুরু করলে তার মান ভাঙাতে হবে না?
কিছুক্ষণ পরে দেখি সবাই কী একটা কাগজে সই করছে। আমাকেও বলছে সই করতে। কী ব্যাপার? কী ব্যাপার?
ব্যাপার কিছুই নয়। আমরা যেখানে সাঁতার কাটি, সেটা আসলে শহরের অনুমোদিত ঘাট নয়। তবে বাড়ির পাশে বিধায় এখানে অনেকেই সাঁতার কাটে। নদীর তীর ধরে যে রাস্তা চলে গেছে, সেটা ওদিকটায় সাজানো-গোছানো হলেও এদিকটায় তেমন নয়। আসলে এ এলাকার নামই নিষিদ্ধ এলাকা। বেশ কিছু টেকনিক্যাল বিল্ডিং থাকায় এখানে বেশি লোকজন চলাফেরা করুক, সেটা কাম্য নয়। তবে সেটা ছিল সোভিয়েত আমলে। যা হোক, এবার কর্তৃপক্ষ রাস্তাটা ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুবনার বয়স মাত্র ৬৫ বছর। ১৯৯৮ থেকে এরা শহরের জন্মদিন পালন করা শুরু করেছে। সেটা হয় জুলাইয়ের শেষ শনিবার। আর সেটাকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন অংশ নতুন করে সাজানো হয়, রাস্তাঘাট তৈরি হয়। বর্তমানের রাস্তা নির্মাণ সেই ঘটনার অংশ। কিন্তু এ নিয়ে ভাবার কী আছে? আসল ব্যাপার হলো ওরা এখানে তরুণদের জন্য স্কেটিং করার পার্ক করতে চায়। তরুণদের এসব দরকার, এ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু কথা হলো, ওরা আসা মানেই আমাদের শান্তি নষ্ট হওয়া। ওরা তো শুধু স্কেটিং করে না, মিউজিক, হই-হুল্লোড় সবই করে। আর এটা করতে গিয়ে নদীর ধারে বেশ কিছু গাছ কাটার প্ল্যান আছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাই আমাদের প্রতিবাদলিপি যাবে আমাদের ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর, শহরের মেয়র, মস্কোর জেলার গভর্নর আর প্রসিকিউটরের হাতে।
বছর ১৮-১৯ আগে, আমাদের বাড়ির সামনে একটা পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কত যে গাছগাছালি লাগানো হয়েছিল! কয়েক বছর ওখানে কেটেছে বাচ্চাদের সঙ্গে ঘুরেফিরে। তারপর একদিন দুবনার জন্মদিনের আগে ঠিক হলো এখানে নয়, অন্য একটা লেকের পাশে পার্ক হবে। এই পার্কের কাজ ওভাবে অসম্পূর্ণ পড়ে রইল। অযত্নে গাছগুলো বাড়তে লাগল। তারপর একসময় কারা যেন সেখানে আবাসিক বিল্ডিং তোলার সিদ্ধান্ত নিল। বেড়া দিয়ে পার্কের একটা অংশ ঘিরে ফেলা হলো। আমরা প্রতিবাদ করলাম। চিঠি লিখলাম। এখন পর্যন্ত সেখানে সেই বেড়া রয়ে গেছে। যতদূর জানি, বিল্ডিং করার ওপর আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু বেড়া সরানোর অধিকার তাঁর নেই। ফলে এটা ‘না ঘরকা না ঘাটকা’। তাই শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেই প্রতিবাদলিপিতে সই করলাম।
কথাটা মনে পড়ল দেশের এক প্রসঙ্গে। আমাদের দেশে ঘর আর ঘর আর তার মাঝে দু-একটা গাছ। দুবনায় তার উল্টো। বন আর বন, মাঝেমধ্যে দু-একটা বিল্ডিং। তবু গাছের জন্য মানুষের এ লড়াই।
ফেসবুকে চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এই এলাকাকে চট্টগ্রামের ফুসফুস বলা হয়। এ থেকে বুঝতে পারি এখানে পার্ক বা উদ্যান, নিদেনপক্ষে অনেক গাছপালার উপস্থিতি। এই গাছপালা কাটা মানে সেই ফুসফুসকে নষ্ট করা। করোনা যেমন মানুষের ফুসফুস আক্রমণ করে, প্রশাসন তেমনি শহরের ফুসফুস ধ্বংস করতে উদ্যত। হাসপাতাল রোগ সারায়। বন-প্রকৃতি রোগ হতে দেয় না। তাই যেকোনো দেশেই উদ্যানের প্রয়োজন হাসপাতালের চেয়ে কম তো নয়ই; বরং ক্ষেত্রবিশেষে অনেক বেশি। উদ্যান কেটে হাসপাতাল নির্মাণ করলে সমস্যার সমাধান হবে না, সমস্যা বরং বাড়বে। তাই হাসপাতাল দরকার, তবে তা পার্কের পরিবর্তে নয়, পরিপূরক হিসেবে। যত তাড়াতাড়ি দেশের মানুষ, প্রশাসন, এ সহজ সত্যটা অনুধাবন করতে পারবে, ততই মঙ্গল।
লেখক: গবেষক ও শিক্ষক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের পালে হাওয়া লাগা যাকে বোঝায়, সে রকম কোনো কিছু এখনো সাধারণ জনপরিসরে দেখা যাচ্ছে না। এবারই একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে একই দিনে। কিন্তু মানুষকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে দেখা যাচ্ছে না।
১৯ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সময়ে চাকরি হলো সোনার হরিণ। যে হরিণের পেছনে ছুটছে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। যেকোনো ধরনের চাকরি পেতে কারও প্রচেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশে সরকারি চাকরির বাজারে এখন প্রতিযোগিতার অভাব নেই।
২০ ঘণ্টা আগে
সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রপ্রত্যাশী জনগণের কাছে এই নির্বাচনটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। কারণ, এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশে যে নির্বাচনী বাস্তবতা গড়ে উঠেছিল, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অংশগ্রহণহীন এবং বিতর্কে ভরপুর।
২০ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। দেশের নাগরিকেরা যেমন অধীর আগ্রহে দিনটির অপেক্ষা করছেন, তেমনি করছেন প্রবাসীরাও। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে