Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

ডাইরেক্ট কানেকটিভিটির প্রস্তাবটুকুই এ সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক

ডাইরেক্ট কানেকটিভিটির প্রস্তাবটুকুই এ সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক

আলতাফ পারভেজ লেখক ও গবেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর। ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ‘মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী: ইতিহাসের পুনঃপাঠ’, ‘শ্রীলঙ্কার তামিল ইলম’, ‘গ্রামসি ও তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা’ প্রভৃতি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বই। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮: ২৩

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার এসেছে বাংলাদেশে। তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়া ও চীনে। বাংলাদেশের প্রাপ্তি কী?

বাংলাদেশে যখনই নতুন কোনো সরকার আসে, তখন দেশ-বিদেশে সবাই খেয়াল রাখে নির্বাহী বিভাগের প্রধান প্রথম কোন দেশে যাচ্ছেন। এবারও সেই কৌতূহল, গুঞ্জন ছিল।

তারেক রহমান আসলে চীনেই গেলেন প্রথমে। মালয়েশিয়া গেলেন ‘প্রথমে চীন যাচ্ছেন’—এই প্রচার বন্ধ করতে। ভারতে যাওয়া তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতো। আবার প্রথমে চীন যাওয়া যেসব বার্তা দেয়, সেসবও তাঁর সরকার চাইছে না হয়তো। সে জন্যই মালয়েশিয়া যাওয়া। সব দিক থেকে বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা আরকি।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য পাওয়ার মতো একটা বিষয় হতে পারত, সেখানকার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া। সেটা এখন বন্ধ আছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে উন্মুক্ত হয়ে যায়নি—যেমনটি আশাবাদ ছড়িয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে স্বচ্ছ একটা প্রক্রিয়া তৈরিতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। আসলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে মানবসম্পদ পাঠাতে হলে বাংলাদেশকে এই খাতে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। অতীতেও বহুবার মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্টদের দুর্নীতি সেসব সুযোগ নষ্ট করেছে। প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অসাধু সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সংস্কার না করে সুফল পাওয়া যাবে না। মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের কারও কারও সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়েও বাংলাদেশকে আরও প্রতিরোধমূলক ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

এই সফরের মূল আকর্ষণ আসলে ছিল চীন। বিনিয়োগ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসেনি তা থেকে। চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীন দুটি ইপিজেড করবে বলে জানা গেল।

তিস্তা অববাহিকায় বাংলাদেশ যে অবকাঠামো করতে চায়, তাতেও চীন সহায়তা দিতে রাজি আছে বলেছে। কিন্তু কোনো চুক্তি হয়নি এবারও। উভয় দেশ নিজেদের ‘কৌশলগত মিত্র’ বলছে, সেটা ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকের নজর কাড়ছে। চীন বাংলাদেশকে ডাইরেক্ট কানেকটিভিটির যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটাই হলো এবারের সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং একমাত্র বড় দিক।

অনেকে লিখেছে এবং বলছে চীন করিডর করতে চায়...

করিডর শব্দটা কোথা থেকে এল বুঝতে পারছি না। যৌথ ঘোষণায় আছে ‘ডাইরেক্ট কানেকটিভিটি’র কথা। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সরাসরি সংযোগ হতে হলে সেটা মিয়ানমারের ওপর দিয়ে আসবে। করিডর হবে মিয়ানমারের অংশটুকু। যাঁরা এ রকম বলেন, তাঁদের যৌথ ঘোষণা দেখা উচিত। তা ছাড়া করিডর বলা হয় দুই লক্ষ্যবস্তুর মধ্যবর্তী জায়গাকে বা বিশেষ কোনো সীমাবদ্ধ জায়গাকে। তবে এ বিষয়ের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কোন দিক দিয়ে হবে, সেসব এখন কোনো দেশই বিস্তারিত বলেনি। হয়তো বিষয়টা খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

প্রথম বিদেশ সফরের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার পরাশক্তিগুলোর টানাপোড়েনের বাইরে গিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কোনো বার্তা দিতে পারল কি?

বাংলাদেশের মতো ছোট, দরিদ্র এবং রাজনৈতিকভাবে অস্থির দেশের পক্ষে খুব বেশি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির সুযোগ কম। যেটা এ রকম দেশ করতে পারে তা হলো পরাশক্তিগুলোর মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা।

চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র—সবাই চায় বাংলাদেশ কেবল তার সঙ্গেই থাকুক। বিএনপি সরকারের সামনেও এটা একটা চ্যালেঞ্জ। ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করে গেছে, সেখানে অর্থনৈতিক বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অনেক কমে গেছে। কিন্তু বিএনপি সরকার সেই চুক্তি এখনো বাতিল করেনি, সংশোধনও করেনি। ফলে চাইলেও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা প্রযুক্তিগত বিষয়ে ইচ্ছামতো কিছু করা যাবে না। রাশিয়ার সঙ্গে করতে গেলেও একই বাধা আসবে।

আবার, ভারতের কারণে তিস্তা প্রকল্পসহ নানা বিষয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সময়ও সরকারকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়। আপাতত যা মনে হচ্ছে, তারেক রহমান সফরগুলোর মাধ্যমে সবার মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। পরাশক্তিগুলোও বাংলাদেশের নতুন সরকারকে বোঝার চেষ্টা করছে। এই সফরগুলো আসলে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়ার সফর।

আওয়ামী লীগের শাসনামল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ, কর্মসংস্থান নেই। এই সফরে চীনের কাছ থেকে নতুন কোনো বিনিয়োগ চুক্তিও হলো না। তাহলে এই সফরকে আমরা কি অসফল বলব?

বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রধানমন্ত্রী চীন গেলে সবাই অর্থনৈতিক প্রাপ্তি নিয়েই কৌতূহলী থাকে। সেই দিক থেকে আপনার প্রশ্ন অস্বাভাবিক না। এই সফরে বিনিয়োগ বিষয়ে বা অর্থনৈতিক সহায়তার প্রশ্নে বড় আয়তনে কোনো অফার নেই। ইপিজেডগুলো হলে কিছু মানুষের চাকরি হবে। সেটাও সময়সাপেক্ষ। আসলে সফরটা ছিল পারস্পরিক বোঝাপড়ার লক্ষ্যে। আস্থা তৈরিমূলক।

কোনো দেশে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীরা যেসব শর্ত দেখে তার কিছু এ দেশে আছে, আবার অনেক কিছুতে আমরা পিছিয়ে। আমাদের সস্তা শ্রমশক্তি আছে। সেই শ্রমশক্তি খুবই অদক্ষ। বাকি কিছুতেও আমরা অনেক পিছিয়ে। অবকাঠামোতে আমরা বেশ দুর্বল। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা অপ্রতুল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ—এসব তো বিদেশিরা জানে। গ্যাস-সংযোগের অভাবে অনেক কারখানা চালু করা যাচ্ছে না বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিদেশি বিনিয়োগ এলেই যে স্থানীয় সমাজ লাভবান হয় সে রকম না-ও হতে পারে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তানকে দেখুন। চীনের বিশাল বিনিয়োগ সেখানে। কিন্তু পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা হয়ে আছে বেলুচ জনপদ।

আসলে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আমাদের নিজেদের অর্থনীতি নিজেদের বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে প্রথমে। আমাদের সম্ভাবনা হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে, কৃষি খাতের উন্নয়নে, মানবসম্পদকে প্রশিক্ষিত করায়। সেসব কি হচ্ছে? ভালো হাসপাতাল, উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় এসবও কি আমরা বিদেশিদের দিয়ে করাব?

আসলে চীনের দিক থেকে আমরা যেটা নিতে পারি বা তাদের রাজি করাতে পারি তা হলো আরও কিছু বড় অবকাঠামো করা। বড় সেতু যদি আরও করতে চাই, এক্সপ্রেসওয়ে করতে চাই—এসব নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা হলে ভালো এগোবে। কিন্তু আমাদের অগ্রাধিকার দেখা যাচ্ছে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে। কিন্তু এ নিয়ে যদি ভারতের বড় আপত্তি থাকে, তাহলে বিএনপি সরকার তাতে চীনকে যুক্ত করবে কি না, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। তারেক রহমান সরকার বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে এগোতে চায় বলেই মনে হচ্ছে। তাদের তাড়াহুড়ো নেই বলেই মনে হচ্ছে।

ডাইরেক্ট কানেকটিভিটির প্রস্তাব অর্থনৈতিকভাবে কতটা লাভজনক হবে?

এ রকম যোগাযোগ তৈরি হলে বহুভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। এটা ঠিক যে আমাদের চীনে পাঠানোর মতো পণ্য কম। বরং চীনের পণ্যই সুনামির মতো আসবে। কিন্তু সব দিকেই আমাদের কানেকটিভিটি বাড়ানো দরকার। ভারতের সঙ্গে, নেপালের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ বাড়ানো দরকার।

নিজেদের কোণঠাসা করে রাখার চেয়ে যোগাযোগ বাড়িয়ে সম্ভাবনাগুলো দেখা দরকার। সংস্কারহীন, দক্ষতাহীন ৫৫ বছরে বাংলাদেশ একটা বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়ে আছে।

চীনের সঙ্গে সরাসরি ভূ-যোগাযোগ হলে, সেটা মিয়ানমারের ভেতর দিয়েই হবে। তাতে করে মিয়ানমারের সমাজে বাংলাদেশের প্রবেশ বাড়বে। মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ সহজ হবে। ওদিকে লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে এখন যে বহির্মুখী মনোভাব তৈরি হয়েছে, তাতে এই যোগাযোগগুলো তারা অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারবে।

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময়। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের পর্যটনের সম্ভাবনা আছে। চীন থেকে এখন প্রতিবছর বিপুল পর্যটক বের হয় চারদিকে। যোগাযোগ সহজ হলে এবং বাড়লে চীনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কিছু সুফল এদিকেও আসবে। আর এ রকম কানেকটিভিটির শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করে দিতে চীনের বাড়তি সহায়তা চাইতে পারে। এই সমস্যার সমাধান হলে আরাকান অঞ্চলে বাংলাদেশের অনেক ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আরাকান বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনাময়।

শেখ হাসিনার সরকার দেড় যুগ চেষ্টা করে তিস্তার পানির হিস্যা পায়নি। বর্তমান সরকার চীনের সহায়তায় ভিন্নভাবে তিস্তার পানির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে বলছে। ভারতের আপত্তির মুখে সেটা কি বাস্তবসম্মত?

আগেই এ বিষয়ে বলেছি। বিএনপি তিস্তায় অবকাঠামোগত প্রকল্প করতে চায়। আসলে আওয়ামী লীগও শেষ দিকে এটা চেয়েছিল। ভারত চায় না চীন এই প্রকল্প করুক। তারা বাংলাদেশকে পানিও দিচ্ছে না। এ এক জটিল অবস্থা। প্রতিবেশী ছোট দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতকে চটিয়ে কিছু করতে চাইছে না। পুশ ইনের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে নানা বিষয়ে বার্তা দিচ্ছে আসলে।

প্রশ্ন হলো এ রকম অবস্থায় পানির সমস্যা কীভাবে তাহলে সমাধান হতে পারে? আমার মতে, পানির বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের জাতিসংঘে যাওয়া উচিত। আন্তনদীগুলোতে পানির দাবি কোনোভাবেই ছাড়া উচিত না। তারেক রহমান হয়তো শিগগির ভারতেও যাবেন। সেখানে এই বার্তাটা দেওয়া দরকার, পানির হিস্যা না পেলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন আটকে থাকবে।

পানিসংকটে সরকারের দিক থেকে দ্বিতীয় করণীয় হলো দেশের ভেতরে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। চীন থেকে এই সাহায্য-সহযোগিতা আমরা নিতে পারি। তারা পানি ব্যবস্থাপনায়, বন্যা ব্যবস্থাপনায় অনেক উন্নত। এসব বিষয়ে তাদের দিক থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া বাংলাদেশের দিক থেকে লাভজনক হবে। এবারের সফরের যৌথ ঘোষণায় চীনের দিক থেকে সে রকম সহযোগিতার আহ্বান আছে। প্রশ্ন হলো, আমাদের পানি মন্ত্রণালয় এসব বিষয় এগিয়ে নিতে কতটা দক্ষ? পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত না করলে শিগগির আমরা গুরুতর পরিবেশ সংকটে পড়ব। দূষণে সর্বনাশ করে ফেলেছি আমরা।

বহুপক্ষীয় কূটনীতির একটা ঝুঁকি হলো সফল হতে না পারলে কোনো দেশই বিশেষ আস্থায় নেয় না। আবার পরাশক্তিগুলোর টানাটানিও থামে না। কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে থাকলে বরং একটা ভরসা থাকে বলে অনেকে বলেন। আমাদের উত্তম পথ কী?

আমাদের আগের দুই সরকার তো একেকটা দিকে হেলে ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের দিকে এত হেলে পড়েছিল যে নির্বাচন এলে তাদের বিদেশ সচিব এসে ঠিক করে দিতেন কীভাবে নির্বাচন হবে? আবার ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এমন জায়গায় নিয়েছে যে এমন এক বাণিজ্য চুক্তি দিয়ে গেছে দেশকে, জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অনুমতি লাগে। বিএনপি বা আগামী সব সরকারের জন্য এসব থেকে শিক্ষামূলক বিষয় আছে।

বাংলাদেশের জন্য করণীয় দুটি। সব বিষয়ে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো। অর্থনীতির প্রতিটি খাতে আমাদের স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ঘাটতি। দুর্নীতি সম্ভাবনাগুলো খেয়ে ফেলছে। সরকারগুলো যখন দেশের ভেতরকার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলতে পারে না, তখনই বিশেষ কোনো পরাশক্তির দিকে হেলে পড়ে। এটা করে তারা টিকে থাকার প্রয়োজনে। জনগণের স্বার্থ নেই তাতে।

আওয়ামী লীগ ১৫ বছর দিল্লির দিকে হেলে পড়েছিল বলেই এখন তাদের নেতারা সেখানে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারছেন। ইউনূস সরকারের উপদেষ্টারাও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দিয়ে এ রকম একটা চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের রহস্যময় গোপন সম্পর্কের কারণে। বিএনপির উচিত এবং দেশের প্রয়োজন হলো এ রকম বৈদেশিক সম্পর্ককে না বলা।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আজকের পত্রিকা এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত