অজয় দাশগুপ্ত

-গল্পটা এমন—লেনিনকে ঈশ্বরের মুখোমুখি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য, তিনি স্বর্গে যাবেন না নরকে যাবেন, তা নির্ধারণ করা। ঈশ্বরের দূত খুব জোর গলায় বলছিলেন, লেনিন একজন পাপী। তাঁর মতে, লেনিন সারা জীবন ঈশ্বরের বদনাম করেছেন। তাঁর অস্তিত্বের বিষয়ে নিজের সংশয় প্রকাশ করেছেন। সব সময় তাঁকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলেছেন। অতএব, নরকই তার প্রকৃত স্থান। সব শুনে দয়ালু ঈশ্বর বললেন, ‘লেনিনকে তার আত্মজবানীর সুযোগ দেওয়া হোক। শোনা যাক সে কী বলে।’
উত্তরে লেনিন বিনীতভাবে নাকি বলেছিলেন, ‘আমি শুধু আপনার অস্তিত্ব নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছি। কারণ আমি কিছুতেই মানতে পারিনি বা বুঝতে পারিনি আপনার হাতে এত কিছু থাকার পরও গরিব মানুষগুলো কেন গরিব থেকে গেল; বুঝিনি, কেন অসাধু আর অসৎ মানুষেরা জীবন উপভোগ করতে পারল; কেন অত্যাচারী শাসক বা শোষকেরা শাস্তি পেল না। আমি বলেছি, গরিব শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণের নাম ধর্ম। আমি চেয়েছিলাম সাম্য আর সবার জন্য ন্যায্য বিচার।’ সব শুনে দয়ালু ঈশ্বর চোখ বন্ধ করে বললেন, ‘লেনিন তো একটি বাক্যও বৃথা বলেনি। তার ভেতরে আমার জন্য যে আকুতি বা আমার অবর্তমানে যে অন্যায়-অবিচার, সে তো তার প্রতিবাদ করেছে। লেনিনের জন্য স্বর্গের দুয়ার খুলে দেওয়া হোক।’
গল্পটা গল্পই। কিন্তু আমি ভাবি, বাঙালির মধ্যে নেতাজি সুভাষ বোসকেও হয়তো এভাবে ঈশ্বরের সামনাসামনি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘কেন তুমি বলেছিলে, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব? এটা কি খুন চাওয়া নয়?’ সুভাষ বোস কী বলেছিলেন জানি না। তবে ধারণা করি তিনিও বলেছিলেন, ‘যে দেশে মানুষকে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে হয়, যে সমাজে মানুষকে শোষণ আর শাসনে বন্দী রাখা হয়, যে দেশে ভিনদেশের শাসকেরা আমাদের দেশের মানুষকে কথায় কথায় অত্যাচার আর নিপীড়ন করত, সেখানে এর বিকল্প কোথায়? আপনি ন্যায় আর ভালোবাসার প্রতীক। অথচ আমাদের মানুষ সেটা পায়নি বলেই আমি এমন বলতাম।’ সংগত কারণেই ঈশ্বর তাঁকেও নিশ্চয়ই দেবালোকে পাঠাবেন।
আমরা বাঙালিরা ইতিহাস পড়ি, কিন্তু ইতিহাস মানি না। যুগে যুগে পিছিয়ে থাকা বাঙালির জীবনে যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হতে পারে কিংবা মানুষ জান দিয়ে মুক্তির জন্য লড়াই করতে পারে, এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমাদের স্বপ্নেও এমন কেউ আসতেন না, যিনি আসলে সব মানুষ কাজকর্ম ছেড়ে, নিজের জীবনের মায়া ছেড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যেমনটি আল মাহমুদের কবিতায় পাই:
‘তার আহ্বান ছিলো নিশিডাকের শিসতোলা তীব্র বাঁশীর মত।/ প্রতিটি মানুষের রক্তবাহী শিরায় কাঁপন তা বাজত/ নদীগুলো হিসহিস শব্দে অতিকায় সাপের মত ফণা তুলে দাঁড়াতো/ অরণ্যের পাখিরা ডাকাডাকি করে পথ ভুলে উড়ে যেত সমুদ্রের দিকে।...’
তেমন একজন মানুষ পল্লি বাংলার নিভৃত এলাকায় জন্মেছিলেন। বয়স যত বাড়ে, তত তাঁর দীপ্তি বাড়তে থাকে। তাঁর আলোয় বাংলার মাঠ, ঘাট, নদী, নালা এমনকি পাখিও দেখতে শুরু করেছিল নতুন এক ভোর। সেই ভোরের নাম স্বাধীনতা।
উপমহাদেশের দার্শনিক ও ধর্মগুরু স্বামী বিবেকানন্দ। এই তরুণ মানুষটি বলতেন, পৃথিবীর ইতিহাস মানুষের ইতিহাস। কথাটা সহজ মনে হলেও কঠিন। আসলে আমরা ইতিহাসে পড়ি ইতিহাস মানে সম্রাট-রাজা-বাদশাহদের ইতিহাস। যেমন ধরুন, তাজমহল। এটি না বানালেই বা কী লোকসান হতো? কিন্তু আমরা জেনে ধন্য হলাম, এটি দুনিয়ার সপ্তাশ্চর্যের এক আশ্চর্য। এর কারণে উপমহাদেশের নাম জানে মানুষ। আমরা রাজাদের কাহিনি পড়ে বড় হতে হতে বুঝেছিলাম তাঁরা না থাকলে আসলে কোনো ইতিহাস নেই। অথচ যেসব শ্রমিক মাটি খুঁড়ে হরপ্পা বা মহেনজোদারোর অস্তিত্ব বের করে এনেছে, তাদের কেউ চেনে না। ইতিহাস গৌতম বুদ্ধ বা মহাভারতকে বলছে ধর্ম। অথচ একজন শান্তি শান্তি করে বিশ্বকে পরিত্রাণ দিতে চেয়েছিলেন। আর মহাভারতের যুদ্ধ মানেই ভাতৃঘাতী যুদ্ধে না জড়ানোর উপদেশ। যে যুদ্ধ একটি দেশের আশি ভাগ পুরুষকে মেরে ফেলে, যে লড়াইয়ে ভাই ভাইকে খুন করে, যে যুদ্ধে স্বয়ং ভগবানও জড়িয়ে যান, সারথি হয়ে ন্যায়ের জয় নিশ্চিত করতে হয় তাঁকে।
তবু আমরা মানুষের ইতিহাসকে মানি না। বাঙালি তো জানেই না। এত সব কথা বলার কারণ বহুকাল পর পরাধীন বাংলা একজন সাধারণ মানুষের আবির্ভাব দেখেছিল। তারপর যেমন হয়, তাঁর আলো, তাঁর দ্যুতি নিভিয়ে দিতে দেরি করিনি আমরা। কারণ সূর্য থাকলে প্যাঁচার রাজত্ব কায়েম কর যায় না। বাঙালির আরেক ধর্ম আত্ম অপমান। সে অপমানে দগ্ধ হতে হলো তাঁকে। তিনি দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্ব—এ কথা কেউ বলে না। কিন্তু লঘু পাপে গুরু সাজা বা সাজার নামে মুছে দেওয়ার আরেক নাম কি অপমান নয়? এই অপমান সহ্য করেই তিনি কীভাবে কীভাবে যেন টিকে যান। সম্পূর্ণ ভিন্নধারার লেখক আহমদ ছফা লিখেছেন:
‘আজ থেকে অনেক দিন পরে হয়তো কোনো পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, ‘জানো, খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিলেন, যার দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু মানুষটির হৃদয় ছিল, ভালোবাসতে জানতেন। দিবসের উজ্জ্বল সূর্যালোকে যে বস্তু চিক চিক করে জ্বলে, তা হলো মানুষটির সাহস। আর জ্যোৎস্নারাতে রুপালি কিরণধারায় মায়ের স্নেহের মতো যে বস্তু আমাদের অন্তরে শান্তি ও নিশ্চয়তার বোধ জাগিয়ে তোলে, তা হলো তাঁর ভালোবাসা। জানো খোকা তাঁর নাম? শেখ মুজিবুর রহমান।’
সময় যখন অনুকূলে থাকে না, তখন তরি বাওয়া কঠিন। কিন্তু তাতে কি ইতিহাসের কোনো লাভ-লোকসান থাকে? সে একবারই রচিত হয়, তারপর নদীর মতো বয়ে যাওয়াই তার ধর্ম। সে নদীর তীরে তীরে কত আবর্জনা, কত পাপ! একদিন হয়তো সব ধুয়ে-মুছে আবার কোনো নবজাতকের জন্ম হবে। যার চলনে-বলনে, কাজ-কর্মে, আদর্শে মনে হবে, ‘আরে, আমাদের তো এমনই একজন মানুষ ছিলেন। যাঁকে নীরবে বিদায় দিয়েছি আমরা।’
রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই প্রাসঙ্গিক। তাঁর গানে আছে:
তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না
করে শুধু মিছে কোলাহল...
আজ কোলাহলের বাইরে নীরবে নির্জনে তাঁর জন্মদিনে তাঁকে যাঁরা স্মরণ করছেন, তাঁরাই বাঙালি।
লেখক: অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কলামিস্ট

-গল্পটা এমন—লেনিনকে ঈশ্বরের মুখোমুখি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য, তিনি স্বর্গে যাবেন না নরকে যাবেন, তা নির্ধারণ করা। ঈশ্বরের দূত খুব জোর গলায় বলছিলেন, লেনিন একজন পাপী। তাঁর মতে, লেনিন সারা জীবন ঈশ্বরের বদনাম করেছেন। তাঁর অস্তিত্বের বিষয়ে নিজের সংশয় প্রকাশ করেছেন। সব সময় তাঁকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলেছেন। অতএব, নরকই তার প্রকৃত স্থান। সব শুনে দয়ালু ঈশ্বর বললেন, ‘লেনিনকে তার আত্মজবানীর সুযোগ দেওয়া হোক। শোনা যাক সে কী বলে।’
উত্তরে লেনিন বিনীতভাবে নাকি বলেছিলেন, ‘আমি শুধু আপনার অস্তিত্ব নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছি। কারণ আমি কিছুতেই মানতে পারিনি বা বুঝতে পারিনি আপনার হাতে এত কিছু থাকার পরও গরিব মানুষগুলো কেন গরিব থেকে গেল; বুঝিনি, কেন অসাধু আর অসৎ মানুষেরা জীবন উপভোগ করতে পারল; কেন অত্যাচারী শাসক বা শোষকেরা শাস্তি পেল না। আমি বলেছি, গরিব শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণের নাম ধর্ম। আমি চেয়েছিলাম সাম্য আর সবার জন্য ন্যায্য বিচার।’ সব শুনে দয়ালু ঈশ্বর চোখ বন্ধ করে বললেন, ‘লেনিন তো একটি বাক্যও বৃথা বলেনি। তার ভেতরে আমার জন্য যে আকুতি বা আমার অবর্তমানে যে অন্যায়-অবিচার, সে তো তার প্রতিবাদ করেছে। লেনিনের জন্য স্বর্গের দুয়ার খুলে দেওয়া হোক।’
গল্পটা গল্পই। কিন্তু আমি ভাবি, বাঙালির মধ্যে নেতাজি সুভাষ বোসকেও হয়তো এভাবে ঈশ্বরের সামনাসামনি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘কেন তুমি বলেছিলে, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব? এটা কি খুন চাওয়া নয়?’ সুভাষ বোস কী বলেছিলেন জানি না। তবে ধারণা করি তিনিও বলেছিলেন, ‘যে দেশে মানুষকে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে হয়, যে সমাজে মানুষকে শোষণ আর শাসনে বন্দী রাখা হয়, যে দেশে ভিনদেশের শাসকেরা আমাদের দেশের মানুষকে কথায় কথায় অত্যাচার আর নিপীড়ন করত, সেখানে এর বিকল্প কোথায়? আপনি ন্যায় আর ভালোবাসার প্রতীক। অথচ আমাদের মানুষ সেটা পায়নি বলেই আমি এমন বলতাম।’ সংগত কারণেই ঈশ্বর তাঁকেও নিশ্চয়ই দেবালোকে পাঠাবেন।
আমরা বাঙালিরা ইতিহাস পড়ি, কিন্তু ইতিহাস মানি না। যুগে যুগে পিছিয়ে থাকা বাঙালির জীবনে যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হতে পারে কিংবা মানুষ জান দিয়ে মুক্তির জন্য লড়াই করতে পারে, এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমাদের স্বপ্নেও এমন কেউ আসতেন না, যিনি আসলে সব মানুষ কাজকর্ম ছেড়ে, নিজের জীবনের মায়া ছেড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যেমনটি আল মাহমুদের কবিতায় পাই:
‘তার আহ্বান ছিলো নিশিডাকের শিসতোলা তীব্র বাঁশীর মত।/ প্রতিটি মানুষের রক্তবাহী শিরায় কাঁপন তা বাজত/ নদীগুলো হিসহিস শব্দে অতিকায় সাপের মত ফণা তুলে দাঁড়াতো/ অরণ্যের পাখিরা ডাকাডাকি করে পথ ভুলে উড়ে যেত সমুদ্রের দিকে।...’
তেমন একজন মানুষ পল্লি বাংলার নিভৃত এলাকায় জন্মেছিলেন। বয়স যত বাড়ে, তত তাঁর দীপ্তি বাড়তে থাকে। তাঁর আলোয় বাংলার মাঠ, ঘাট, নদী, নালা এমনকি পাখিও দেখতে শুরু করেছিল নতুন এক ভোর। সেই ভোরের নাম স্বাধীনতা।
উপমহাদেশের দার্শনিক ও ধর্মগুরু স্বামী বিবেকানন্দ। এই তরুণ মানুষটি বলতেন, পৃথিবীর ইতিহাস মানুষের ইতিহাস। কথাটা সহজ মনে হলেও কঠিন। আসলে আমরা ইতিহাসে পড়ি ইতিহাস মানে সম্রাট-রাজা-বাদশাহদের ইতিহাস। যেমন ধরুন, তাজমহল। এটি না বানালেই বা কী লোকসান হতো? কিন্তু আমরা জেনে ধন্য হলাম, এটি দুনিয়ার সপ্তাশ্চর্যের এক আশ্চর্য। এর কারণে উপমহাদেশের নাম জানে মানুষ। আমরা রাজাদের কাহিনি পড়ে বড় হতে হতে বুঝেছিলাম তাঁরা না থাকলে আসলে কোনো ইতিহাস নেই। অথচ যেসব শ্রমিক মাটি খুঁড়ে হরপ্পা বা মহেনজোদারোর অস্তিত্ব বের করে এনেছে, তাদের কেউ চেনে না। ইতিহাস গৌতম বুদ্ধ বা মহাভারতকে বলছে ধর্ম। অথচ একজন শান্তি শান্তি করে বিশ্বকে পরিত্রাণ দিতে চেয়েছিলেন। আর মহাভারতের যুদ্ধ মানেই ভাতৃঘাতী যুদ্ধে না জড়ানোর উপদেশ। যে যুদ্ধ একটি দেশের আশি ভাগ পুরুষকে মেরে ফেলে, যে লড়াইয়ে ভাই ভাইকে খুন করে, যে যুদ্ধে স্বয়ং ভগবানও জড়িয়ে যান, সারথি হয়ে ন্যায়ের জয় নিশ্চিত করতে হয় তাঁকে।
তবু আমরা মানুষের ইতিহাসকে মানি না। বাঙালি তো জানেই না। এত সব কথা বলার কারণ বহুকাল পর পরাধীন বাংলা একজন সাধারণ মানুষের আবির্ভাব দেখেছিল। তারপর যেমন হয়, তাঁর আলো, তাঁর দ্যুতি নিভিয়ে দিতে দেরি করিনি আমরা। কারণ সূর্য থাকলে প্যাঁচার রাজত্ব কায়েম কর যায় না। বাঙালির আরেক ধর্ম আত্ম অপমান। সে অপমানে দগ্ধ হতে হলো তাঁকে। তিনি দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্ব—এ কথা কেউ বলে না। কিন্তু লঘু পাপে গুরু সাজা বা সাজার নামে মুছে দেওয়ার আরেক নাম কি অপমান নয়? এই অপমান সহ্য করেই তিনি কীভাবে কীভাবে যেন টিকে যান। সম্পূর্ণ ভিন্নধারার লেখক আহমদ ছফা লিখেছেন:
‘আজ থেকে অনেক দিন পরে হয়তো কোনো পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, ‘জানো, খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিলেন, যার দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু মানুষটির হৃদয় ছিল, ভালোবাসতে জানতেন। দিবসের উজ্জ্বল সূর্যালোকে যে বস্তু চিক চিক করে জ্বলে, তা হলো মানুষটির সাহস। আর জ্যোৎস্নারাতে রুপালি কিরণধারায় মায়ের স্নেহের মতো যে বস্তু আমাদের অন্তরে শান্তি ও নিশ্চয়তার বোধ জাগিয়ে তোলে, তা হলো তাঁর ভালোবাসা। জানো খোকা তাঁর নাম? শেখ মুজিবুর রহমান।’
সময় যখন অনুকূলে থাকে না, তখন তরি বাওয়া কঠিন। কিন্তু তাতে কি ইতিহাসের কোনো লাভ-লোকসান থাকে? সে একবারই রচিত হয়, তারপর নদীর মতো বয়ে যাওয়াই তার ধর্ম। সে নদীর তীরে তীরে কত আবর্জনা, কত পাপ! একদিন হয়তো সব ধুয়ে-মুছে আবার কোনো নবজাতকের জন্ম হবে। যার চলনে-বলনে, কাজ-কর্মে, আদর্শে মনে হবে, ‘আরে, আমাদের তো এমনই একজন মানুষ ছিলেন। যাঁকে নীরবে বিদায় দিয়েছি আমরা।’
রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই প্রাসঙ্গিক। তাঁর গানে আছে:
তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না
করে শুধু মিছে কোলাহল...
আজ কোলাহলের বাইরে নীরবে নির্জনে তাঁর জন্মদিনে তাঁকে যাঁরা স্মরণ করছেন, তাঁরাই বাঙালি।
লেখক: অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কলামিস্ট

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে—দেশের কোথায় আজ নারীরা নিরাপদ? শুধু কি নারী? কোন কারণে কোথায় কে কখন হবেন গণপিটুনির শিকার, কাকে রাস্তায় ধরে কারও দোসর নাম দিয়ে হত্যা করা হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত দেশের মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যখন কোথাও...
১১ ঘণ্টা আগে
বছর ঘুরতেই প্রতিবার আলোচনায় আসেন দুজন ভবিষ্যদ্বক্তা। তাঁদের একজন বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা, যাঁর প্রকৃত নাম ভ্যানগেলিয়া প্যানদেভা দিমিত্রোভা। অপরজন ফরাসি ভবিষ্যদ্বক্তা নস্ত্রাদামুস ওরফে মিশেল দ্য নোস্ত্রদাম। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।
১১ ঘণ্টা আগে
প্রায় ২৭ বছর ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ও নিকোলা মাদুরো পশ্চিমা উদার গণতন্ত্রের স্থানীয় বিকল্প খোঁজার চেষ্টা বাদ দিয়ে পদ্ধতিগতভাবেই কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছিলেন। আর এ পুরো সময়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করে এসেছে দেশটির সামরিক বাহিনী, যার আনুষ্ঠানিক নাম বলিভারিয়ান...
১১ ঘণ্টা আগে
আমাদের ছোটবেলার জগৎটি ছিল বিশ্বাসের আর আস্থার। বিশ্বাস ছিল মা-বাবা, ভাই-বোন আর আত্মীয়স্বজনের ওপর—তা সেই আত্মীয়তা যত দূরেরই হোক না কেন। বিশ্বাস ছিল পাড়াপড়শির ওপরে, মহল্লার বয়োজ্যেষ্ঠ, বয়োকনিষ্ঠদের ওপরে। বিশ্বাস ছিল শিক্ষকদের ওপরে, সংবাদপত্রের ওপরে, চেনা মানুষদের ওপরে। আজ বললে হয়তো বিশ্বাস হবে না যে
১ দিন আগে