জুলাই অভ্যুত্থান
ড. মঞ্জুরে খোদা

জুলাই অভ্যুত্থানের বছর পূর্তিতে আমাদের অর্জন কী, সে প্রশ্ন আজ সবার। জুলাই আন্দোলনের সময় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য না থাকলেও শেখ হাসিনার পতনের পর মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল—রাষ্ট্রের যে পদ্ধতি শাসককে কর্তৃত্বপরায়ণ, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্টে পরিণত করে, সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নতুন বন্দোবস্ত ও সংস্কার-মেরামত লাগবে।
সেই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন ও রাজনীতিতে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে ছয়টি কমিশন গঠন করে: নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন, জনপ্রশাসন ও সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই কমিশনগুলো ইতিমধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় সাত হাজার পৃষ্ঠা।
কিন্তু সেই সংস্কার কি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অগ্রসর হতে পারছে? এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি সংস্কারের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখছেন না। স্থানীয় সরকার কমিশনের প্রধান তোফায়েল আহমেদ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তার বাস্তবায়ন শুরু না হওয়া নিয়ে খেদ প্রকাশ করেছেন।
তার মানে যে সংস্কার ও নতুন বন্দোবস্তের কথা বলা হয়েছিল, এক বছরেও তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বরং সংস্কারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট ও বিভেদ-বিভক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সংস্কারের অনেক বিষয় দুরভিসন্ধিমুক্ত নয়, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই আছে মতভিন্নতা। বিএনপি ও বাম দলগুলোর অভিযোগ, সংবিধানের মূলনীতির পরিবর্তন ও একাত্তরকে ছাপিয়ে চব্বিশকে মহিমান্বিত করার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।
ছাত্রদের ক্ষমতালোভী তকমা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই সংগ্রাম হলেও তাদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে বক্তব্যটি ছিল নিছক প্রচারণা, আদর্শিক নয়। বাংলাদেশের সব আন্দোলনেরই প্রাণশক্তি ছিল ছাত্র-তরুণ, কিন্তু তারা কখনো ক্ষমতা, স্বার্থ ও সুবিধার অংশীদার হয়নি, দাবিও করেনি। সে ক্ষেত্রে চব্বিশের আন্দোলনের নেতৃত্বের চরিত্র ব্যতিক্রম। চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলেন, তাঁদের চাওয়া ছিল সরকারের অভিজাত কর্মচারী হওয়া। এই তাঁরাই যখন সরকারের শীর্ষ পদে চলে গেলেন, তখন তাঁদের মধ্যে ক্ষমতার স্বাদ তৈরি হলো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁরা দল গঠন ও প্রচলিত রাজনৈতিক ধারাকেই অনুসরণ করলেন। ইতিমধ্যে এই আন্দোলনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ক্ষমতাবাজির অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে এই আন্দোলনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা কয়েক মাসের মধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হলো।
জুলাই অভ্যুত্থান কি বেহাত হয়েছে? ৫ আগস্ট হাসিনা চলে যাওয়ার পরই তার শুরু হয়েছিল, যখন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান প্রথমেই জামায়াতের নাম উচ্চারণ করলেন। তারা তাদের আঘাতটা শুধু হাসিনা ও লীগের ওপর রাখেনি, তাকে উপলক্ষ করে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, মুক্তচিন্তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নারী, সংখ্যালঘু, ধর্মনিরপেক্ষতার ওপরও আঘাত এনেছে। এগুলোকে কি বলতে হবে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ ও মনের খেয়ালের বিষয়, পরিকল্পিত নয়?
বৈবিছাআ-এর সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা তাঁর এক আলোচিত ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মটা একটা বিশেষ গোষ্ঠী জোর করে দখল করে নিয়েছে। একে ব্যবহার করে একটি দলও গঠন করা হয়েছে। এরা ভাই-ব্রাদার মিলে শুধু যে কোরামবাজি-লুটপাট করে বেড়াচ্ছে; বিষয়টা শুধু এমনই না! এরা নিজেদের প্ল্যাটফর্মের লোকজনদের মাইনাস করতে হেয়ার রোড থেকে আদিষ্ট হয়ে একে-ওকে হুমকিও দিয়ে বেড়াচ্ছে, ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিপ্লব, জুলাই, শহীদ এইসব কিছু না; এইসব শব্দ ব্যবহার করে এরা আসলে নিজেদের ফায়দা লুটছে। আর কিছুই না।’ অভ্যুত্থানের নেতাদের মুখ থেকেই হতাশা ও ক্ষোভের কথা বেরিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য।
অতি দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ধারার উত্থান
এ বছর এপ্রিলে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে ইসলামি কট্টরপন্থীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নিজেদের ক্ষমতায়নের সুযোগ হিসেবে দেখছে’। বাংলাদেশে ইসলামি শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ‘মোটামুটি ঠিকভাবে তুলে ধরেছে’ নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, ‘আওয়ামী লীগের পতনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এত দিন দমন-পীড়নের শিকার হওয়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর—বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর শক্তি পুনঃসঞ্চয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।
আমরা কি আবার প্রতারিত হলাম
ড. ইউনূসের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক, তাঁর কাছে মানুষ সুশাসনসহ নতুন কিছু আশা করেছিল। কিন্তু তিনি তাঁর কিছুই দিতে পারেননি। বরং ক্ষমতায় থেকে তিনি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এনসিপি নামের কিংস পার্টি গঠন করিয়ে তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্ষমতায়িত করার অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে গণতান্ত্রিক মনোভাব ও সহনশীলতা চর্চার কথা ছিল, সেটা হয়নি; বরং বৈরিতা বাড়ছে। বিপুল রক্তক্ষয়ের জুলাই অভ্যুত্থানেও আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। শেখ হাসিনার শাসনামলকে বলা হতো ‘মগের মুল্লুক’। এখন ড. ইউনূসের শাসনামলকে বলা হচ্ছে ‘মবের মুল্লুক’।
অনেকেই বলছেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনের আরেকটি সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হলো। তাহলে কি আমরা আবার প্রতারিত হলাম? বিএনপির নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘এই ছেলেমেয়েরা যে গান-স্লোগান-বক্তৃতা দিয়ে এই আন্দোলন করেছিল, এখন তার উল্টো পথে হাঁটছে। এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করে এখন আমি নিজেকে প্রতারিত বোধ করছি।’ প্রতারিত হওয়ার কথা শুধু তিনি নন, অনেকেই বলছেন। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে জুলাই এতটা বিতর্কিত ও কলঙ্কিত হবে, সেটা ছিল অভাবনীয়। শুধু জুলাই নয়, মহান স্বাধীনতার সংগ্রাম, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের অভিজ্ঞতাও এমন বেদনাদায়ক। তার মানে কি এই মুক্তযুদ্ধ ও নব্বইয়ের আন্দোলন ভুল ছিল? বিষয়টি তেমন নয়। আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আত্মদান ছিল সৎ-মহৎ, কিন্তু নেতৃত্ব ছিল ভুল ও অসৎ উদ্দেশ্যের। সে কারণে আমরা রক্ত দিয়ে বঞ্চিত ও প্রতারিত হয়েছি।

জুলাই অভ্যুত্থানের বছর পূর্তিতে আমাদের অর্জন কী, সে প্রশ্ন আজ সবার। জুলাই আন্দোলনের সময় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য না থাকলেও শেখ হাসিনার পতনের পর মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল—রাষ্ট্রের যে পদ্ধতি শাসককে কর্তৃত্বপরায়ণ, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্টে পরিণত করে, সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নতুন বন্দোবস্ত ও সংস্কার-মেরামত লাগবে।
সেই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন ও রাজনীতিতে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে ছয়টি কমিশন গঠন করে: নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন, জনপ্রশাসন ও সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই কমিশনগুলো ইতিমধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় সাত হাজার পৃষ্ঠা।
কিন্তু সেই সংস্কার কি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অগ্রসর হতে পারছে? এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি সংস্কারের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখছেন না। স্থানীয় সরকার কমিশনের প্রধান তোফায়েল আহমেদ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তার বাস্তবায়ন শুরু না হওয়া নিয়ে খেদ প্রকাশ করেছেন।
তার মানে যে সংস্কার ও নতুন বন্দোবস্তের কথা বলা হয়েছিল, এক বছরেও তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বরং সংস্কারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট ও বিভেদ-বিভক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সংস্কারের অনেক বিষয় দুরভিসন্ধিমুক্ত নয়, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই আছে মতভিন্নতা। বিএনপি ও বাম দলগুলোর অভিযোগ, সংবিধানের মূলনীতির পরিবর্তন ও একাত্তরকে ছাপিয়ে চব্বিশকে মহিমান্বিত করার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।
ছাত্রদের ক্ষমতালোভী তকমা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই সংগ্রাম হলেও তাদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে বক্তব্যটি ছিল নিছক প্রচারণা, আদর্শিক নয়। বাংলাদেশের সব আন্দোলনেরই প্রাণশক্তি ছিল ছাত্র-তরুণ, কিন্তু তারা কখনো ক্ষমতা, স্বার্থ ও সুবিধার অংশীদার হয়নি, দাবিও করেনি। সে ক্ষেত্রে চব্বিশের আন্দোলনের নেতৃত্বের চরিত্র ব্যতিক্রম। চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলেন, তাঁদের চাওয়া ছিল সরকারের অভিজাত কর্মচারী হওয়া। এই তাঁরাই যখন সরকারের শীর্ষ পদে চলে গেলেন, তখন তাঁদের মধ্যে ক্ষমতার স্বাদ তৈরি হলো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁরা দল গঠন ও প্রচলিত রাজনৈতিক ধারাকেই অনুসরণ করলেন। ইতিমধ্যে এই আন্দোলনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ক্ষমতাবাজির অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে এই আন্দোলনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা কয়েক মাসের মধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হলো।
জুলাই অভ্যুত্থান কি বেহাত হয়েছে? ৫ আগস্ট হাসিনা চলে যাওয়ার পরই তার শুরু হয়েছিল, যখন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান প্রথমেই জামায়াতের নাম উচ্চারণ করলেন। তারা তাদের আঘাতটা শুধু হাসিনা ও লীগের ওপর রাখেনি, তাকে উপলক্ষ করে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, মুক্তচিন্তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নারী, সংখ্যালঘু, ধর্মনিরপেক্ষতার ওপরও আঘাত এনেছে। এগুলোকে কি বলতে হবে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ ও মনের খেয়ালের বিষয়, পরিকল্পিত নয়?
বৈবিছাআ-এর সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা তাঁর এক আলোচিত ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মটা একটা বিশেষ গোষ্ঠী জোর করে দখল করে নিয়েছে। একে ব্যবহার করে একটি দলও গঠন করা হয়েছে। এরা ভাই-ব্রাদার মিলে শুধু যে কোরামবাজি-লুটপাট করে বেড়াচ্ছে; বিষয়টা শুধু এমনই না! এরা নিজেদের প্ল্যাটফর্মের লোকজনদের মাইনাস করতে হেয়ার রোড থেকে আদিষ্ট হয়ে একে-ওকে হুমকিও দিয়ে বেড়াচ্ছে, ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিপ্লব, জুলাই, শহীদ এইসব কিছু না; এইসব শব্দ ব্যবহার করে এরা আসলে নিজেদের ফায়দা লুটছে। আর কিছুই না।’ অভ্যুত্থানের নেতাদের মুখ থেকেই হতাশা ও ক্ষোভের কথা বেরিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য।
অতি দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ধারার উত্থান
এ বছর এপ্রিলে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে ইসলামি কট্টরপন্থীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নিজেদের ক্ষমতায়নের সুযোগ হিসেবে দেখছে’। বাংলাদেশে ইসলামি শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ‘মোটামুটি ঠিকভাবে তুলে ধরেছে’ নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, ‘আওয়ামী লীগের পতনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এত দিন দমন-পীড়নের শিকার হওয়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর—বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর শক্তি পুনঃসঞ্চয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।
আমরা কি আবার প্রতারিত হলাম
ড. ইউনূসের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক, তাঁর কাছে মানুষ সুশাসনসহ নতুন কিছু আশা করেছিল। কিন্তু তিনি তাঁর কিছুই দিতে পারেননি। বরং ক্ষমতায় থেকে তিনি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এনসিপি নামের কিংস পার্টি গঠন করিয়ে তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্ষমতায়িত করার অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে গণতান্ত্রিক মনোভাব ও সহনশীলতা চর্চার কথা ছিল, সেটা হয়নি; বরং বৈরিতা বাড়ছে। বিপুল রক্তক্ষয়ের জুলাই অভ্যুত্থানেও আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। শেখ হাসিনার শাসনামলকে বলা হতো ‘মগের মুল্লুক’। এখন ড. ইউনূসের শাসনামলকে বলা হচ্ছে ‘মবের মুল্লুক’।
অনেকেই বলছেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনের আরেকটি সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হলো। তাহলে কি আমরা আবার প্রতারিত হলাম? বিএনপির নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘এই ছেলেমেয়েরা যে গান-স্লোগান-বক্তৃতা দিয়ে এই আন্দোলন করেছিল, এখন তার উল্টো পথে হাঁটছে। এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করে এখন আমি নিজেকে প্রতারিত বোধ করছি।’ প্রতারিত হওয়ার কথা শুধু তিনি নন, অনেকেই বলছেন। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে জুলাই এতটা বিতর্কিত ও কলঙ্কিত হবে, সেটা ছিল অভাবনীয়। শুধু জুলাই নয়, মহান স্বাধীনতার সংগ্রাম, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের অভিজ্ঞতাও এমন বেদনাদায়ক। তার মানে কি এই মুক্তযুদ্ধ ও নব্বইয়ের আন্দোলন ভুল ছিল? বিষয়টি তেমন নয়। আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আত্মদান ছিল সৎ-মহৎ, কিন্তু নেতৃত্ব ছিল ভুল ও অসৎ উদ্দেশ্যের। সে কারণে আমরা রক্ত দিয়ে বঞ্চিত ও প্রতারিত হয়েছি।

‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ প্রবাদটিই যেন সত্যে প্রমাণিত হতে চলেছে খুলনা নগরের উপকণ্ঠে রূপসা সেতুর নিকটবর্তী মাথাভাঙ্গা মৌজার ৩২টি দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের মানুষের কাছে। কারণ, এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। জায়গাটি একসময় বিরান ভূমি ছিল।
৮ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনের আমেজে ভাসছে দেশ। তারপরও কেমন যেন একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। কী হবে সামনে, তা নিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিন্তকও নির্দ্বিধায় কোনো মন্তব্য করতে পারবেন বলে মনে হয় না। নির্বাচন কি সেই হতাশাজনক পরিস্থিতিকে পেছনে ফেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে?
৮ ঘণ্টা আগে
জানুয়ারি মাস চলছে নতুন বছরের। আর ২৭ দিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, এই নির্বাচন হবে ইতিহাসের অন্যতম একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সুষ্ঠু তো বটেই। তাদের আরও দাবি হলো, বিগত ১৭ বছরে যা হয়নি এক বছর কয়েক মাসে সেটা করে দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
৮ ঘণ্টা আগে
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে—দেশের কোথায় আজ নারীরা নিরাপদ? শুধু কি নারী? কোন কারণে কোথায় কে কখন হবেন গণপিটুনির শিকার, কাকে রাস্তায় ধরে কারও দোসর নাম দিয়ে হত্যা করা হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত দেশের মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যখন কোথাও...
১ দিন আগে