অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ৮ মার্চ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে সাংবাদিকতার একাডেমিক শিক্ষাঙ্গনে আলোকবর্তিকারূপে অবদান রেখে গেছেন।
তিন যুগের বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন আমার শিক্ষাগুরু। অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু আমারই শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু সফল শিক্ষকের শিক্ষক। তাঁর সান্নিধ্যেই আমার একাডেমিক ও গবেষণাজীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৯ বছর তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণা করেছি; এমফিল অধ্যয়নকালেও তাঁর নির্দেশনায় অধ্যয়ন-গবেষণার গভীরে নিবিষ্ট হতে পেরেছি। একজন শিক্ষক কীভাবে ছাত্রকে চিন্তার স্বাধীনতা দেন, গবেষণায় ধৈর্য শেখান এবং নৈতিকতার ভিত গড়ে দেন—স্যারের কাছেই তার অফুরান বাস্তব শিক্ষা পেয়েছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (অনার্স) কোর্স প্রবর্তনের মাধ্যমে স্যার সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষায় নতুন এক যুগের সূচনা করেছিলেন। এ দেশের সাংবাদিকতা শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক সময় ধরে অবদান রেখে গেছেন, যা আজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়নে একটি ঐতিহ্যের ধারক হয়ে উঠেছে। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষায় দীক্ষিত করেছেন। বিশেষ করে সম্পাদনা কোর্সে তাঁর দক্ষতা ছিল অনন্য—সম্পাদনার আর্ট, ক্রাফট ও দর্শনের যে গভীরতা তিনি তুলে ধরতেন, তার বিকল্প দেখিনি এ দেশে।
স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গণ্ডি ছাড়িয়ে এক গভীর মানবিক গুরু-শিষ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। নিয়মিত তাঁর বাসায় যেতাম। গবেষণা, সাংবাদিকতা শিক্ষা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন—সবকিছু নিয়েই তাঁর সঙ্গে কথা হতো। করোনা মহামারির সময় সরাসরি দেখা কম হলেও ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। তাঁর সহধর্মিণী মালেকা খান ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান নওশের আলী খান স্যারকে যে নিবিড় যত্নে দেখাশোনা করতেন, তা সব সময় আমাকে গভীরভাবে আমার অন্তরতল স্পর্শ করত।
গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন’ বিভাগ চালুর সূচনা থেকেই তিনি আমাকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছিলেন তিনি। পাঠক্রম নির্মাণ, বিভাগীয় পরিকল্পনা, শিক্ষাদান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অমূল্য পরামর্শ ছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ইউল্যাব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও গ্রিন ইউনিভার্সিটিসহ তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন উদারমনস্ক, প্রগতিশীল ও গভীর মানবিকতার মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই শিক্ষাগুরু ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতেন, অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতেন এবং যুক্তির আলোয় আলোচনাকে প্রাণবন্ত করতেন। কর্মজীবনের নানা সংকটে তিনি আমাকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছেন। বলতেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে নেবে, তাড়াহুড়া কোরো না।’ তাঁর সেই মমতা ও প্রজ্ঞা আজও আমার পথচলার অপার প্রেরণা।
সাখাওয়াত আলী খান স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—এই সত্য মেনে নেওয়া কঠিন। তবু মনে হয়, তিনি হারিয়ে যাননি, তিনি ফিরে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে। তাঁর শিক্ষা, চিন্তা, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো আমাদের প্রজন্মের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে অনাগতকাল। আমার শিক্ষাগুরু, সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ ও দিশারি শিক্ষককে জানাই গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
ড. মো. অলিউর রহমান, চেয়ারম্যান, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

গত বছর নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। দুর্নীতি, অর্থনৈতিক চাপে জেরবার জনজীবন এই বিক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছিল। তা একপর্যায়ে এমন দাবানলের রূপ নেয় যে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকার। জনরোষের মুখে কয়েকজন মন্ত্রীর পালানোর চেষ্টার ভিডিও সে সময়...
২৮ মিনিট আগে
তিন দিকে নদীবেষ্টিত ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে লাগোয়া কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালজোড় এলাকা। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কালজানি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এলাকটি। শুধু একটি সেতুর অভাবে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যুগের পর যুগ। নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এই...
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন-ইসরায়েলের আগ্রাসনের মাধ্যমে সূচিত ইরান সংঘাত বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতেও তীব্র প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর মাধ্যমে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
১ ঘণ্টা আগে
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কথা নিশ্চয় কেউ ভোলেননি। শুধু ‘শিবির’ সন্দেহে তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছিল। আবরার শিবির করতেন কি না; কিংবা শিবির সমর্থন করতেন কি না, সে ব্যাপারে তাঁর নিহত হওয়ার পরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
১ দিন আগে