রাজনৈতিক সহনশীলতার গ্রাফটি এতটাই নিম্নগামী হয়ে উঠেছে যে আদতে ভবিষ্যতে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একে অন্যকে শুধু ঘৃণার চোখেই দেখবে কি না, সে রকম প্রশ্নওজেগে উঠছে মনে। রাজনৈতিক আদর্শ একেক দলের একেক রকম। নিজ দলের আদর্শের প্রতি বিশ্বাস রেখেই রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা রাজনীতি করে থাকেন।
কিন্তু জনগণকে সেই আদর্শের দিকে টেনে আনতে হয় কাজের মাধ্যমে। নিজ আদর্শ এবং তা বাস্তবায়নের কোন পথ অবলম্বন করা হচ্ছে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দলের আদর্শের চেয়ে নিজ দলের আদর্শ কেন উন্নততর, তার প্রমাণ হয় কাজে। এ জন্য যেতে হয় জনগণের কাছে। জনগণই বিভিন্ন দলের আদর্শ বিবেচনা করে, তাদের কাজ দেখে কার হাতে দেশের ভার দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। আরও জরুরি কথা হলো, যুক্তি-তর্ক-আলোচনা করেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মোকাবিলা করতে হয়। বলপ্রয়োগে তা করা হলে দেশ আর এগিয়ে যেতে পারে না। আর সেই সঙ্গে যা অনিবার্যভাবে থাকতে হয়, তা হলো সহনশীলতা।
আমাদের দেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব বহুদিনের ‘চর্চিত ঐতিহ্য’ হয়ে উঠেছে। কিন্তু বছর বছর একে অন্যের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ, হামলা, শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা বেড়েই চলেছে। মানুষ হিসেবে মানুষকে সম্মান করার যে ঐতিহ্য ছিল, সেটা আর বজায় থাকছে না। একেবারে ‘আমরা’ আর ‘তোমরা’ নামে বিভাজিত হয়ে গেছে সমাজ। আদর্শিক জায়গা থেকে বিভাজন থাকতেই পারে। সেই বিভাজন থাকে বলেই বহুমাত্রিক সমাজ গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই বিভাজন মোকাবিলা করার জন্য অন্য ভাষ্যকে দলন করতে হবে, অন্য ভাষ্য যেন সমাজে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর গলা টিপে ধরতে হবে—এ রকম অমানবিকতা মানব সমাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সে রকম এক ভয়াবহতার মধ্য দিয়েই আমরা চলেছি। সামাজিক জীবনযাপনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে এর পরিণাম ভয়াবহ হতে বাধ্য।
এমন এক বাস্তবতার সামনে আমরা এখন দাঁড়িয়ে, যখন খোলামনে কিছু বললেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর মবকে একরকম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে সিন্দাবাদের ভূতে পরিণত করা হয়েছে। নানা রূপে মবতন্ত্র সেই যে ঘাড়ে চড়ে বসেছে, আর নামতে চাইছে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অতীত থেকে চলে আসা অন্যকে শায়েস্তা করার নানা কৌশলের সঙ্গে যখন মব কালচার যোগ হয়েছে, তখন ভাষাতাত্ত্বিক একটা পরিবর্তনও লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গালাগালে আমোদ পাচ্ছে রাজনীতি। স্থূল কথামালা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আচ্ছন্ন করতে চাইছে। ফলে আলোচনার টেবিলের চেয়ে বলপ্রয়োগের রাজনীতি বলীয়ান হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা যদি এখনো এই কঠিন বাস্তবতা উপলব্ধি না করে থাকেন, তাহলে দেশ আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সহনশীলতা না থাকলে প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তন বিভীষিকার জন্ম দেবে, এ কথা যেন স্মরণে থাকে রাজনীতিকদের।

প্রতিটি ঈদেই পথে নানা ধরনের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়, ব্যাপক যানজট হয়—এ যেন আমাদের অমোঘ নিয়তি। এবারের ঈদযাত্রায় আমি নিজেই শুধু সাক্ষী নই, একজন ভুক্তভোগীও। ২৬ মে সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। মাত্র দুই ঘণ্টার পথ। টঙ্গী, গাজীপুর পার হতে তেমন একটা সময় লাগল না।
১৫ ঘণ্টা আগে
সংস্কৃতি বলতে আমরা অনেকেই কেবল গান, নাটক, নৃত্য কিংবা বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমকে বুঝে থাকি। অথচ সংস্কৃতির পরিধি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, গভীর ও সুদূরপ্রসারী। একটি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ভাষা, বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, সামাজিক আচরণ, রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—
১৭ ঘণ্টা আগে
পরিবেশ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে স্টকহোমে। এ সময়ই শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার আর প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয় বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিল। সেই ভাবনা থেকে মানব পরিবেশ সম্মেলন পরিবেশ সুরক্ষার বৈশ্বিক ভিত্তি নির্মাণ করে। পরের বছরই ১৯৭৩ সালের ৫ জুন ‘একমাত্র পৃথিবী...
২ দিন আগে
ভর্তুকি সমন্বয়, লোকসান কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৫ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
২ দিন আগে