আমাদের দেশে গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু প্রতিবছর গরম এলেই যদি মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়, তাহলে প্রশ্ন হলো, সমস্যাটি কি শুধু বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া, নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি?
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। বিদ্যুৎ-সংকটের এই চিত্র শুধু অন্ধকার থাকার গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শিল্প-কলকারখানার উৎপাদনের সম্পর্ক। ফলে গ্রামাঞ্চলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
লোডশেডিংয়ের ক্ষতি সব সময় হিসাব করা যায় না। যশোরের অভয়নগরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমের কারণে একটি পোলট্রি খামারে চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জেলেদের মাছ সংরক্ষণেও সমস্যা হচ্ছে। আবার এই বিদ্যুতের সংকটে দেশের অনেকগুলো মিল, কারখানায় পণ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
তাহলে এই সংকটের কারণ কী? বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া সংকটের অন্যতম কারণ। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এর সঙ্গে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এসব কারণ বাস্তব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা কি এমন হওয়া উচিত, যেখানে গ্যাস সরবরাহ কমলেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হবে? এখানে সমস্যাটিকে শুধু ‘লোডশেডিং’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়।
বিদ্যুৎ খাতে শুধু ‘কত মেগাওয়াট উৎপাদন করা যায়’, এই প্রশ্ন যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ‘কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে সেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়?’
তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অবশ্যই আরও গভীরে যাওয়া জরুরি। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিকল বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত মেরামত করা, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনা করে এমন পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে প্রতিবছর গরম এলেই বিদ্যুৎ-সংকট নতুন করে জাতীয় দুর্ভোগে পরিণত না হয়।
কারণ, বিদ্যুৎ এখন আর শুধু আলো, ফ্যান বা টেলিভিশন চালানোর বিষয় নয়। একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, একজন রোগীর চিকিৎসা, একজন কৃষকের সেচ, একজন জেলের মাছ সংরক্ষণ, একজন ব্যবসায়ীর উৎপাদন—সবকিছুর সঙ্গেই বিদ্যুৎ জরুরি পণ্য। তাই প্রশ্নটা শুধু ‘বিদ্যুৎ কখন আসবে?’—এখানে থামিয়ে রাখলে চলবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, প্রতিবছর গরম এলেই কেন আমাদের আবার একই সংকটের মুখোমুখি হতে হয়?
ফারহানা মীম, শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকার অভিজাত এলাকার এক আধুনিক বাড়িতে একটি হারিকেন দেখতে পাই। হারিকেনটি দেখতে বেশ সুন্দর ছিল। হারিকেন তো দুটি কাজে লাগে। একটি হচ্ছে লোডশেডিংয়ের সময় আলো দেয়, আরেকটি হচ্ছে মশা থেকে রক্ষা করে। দুটি জলজ্যান্ত সমস্যা এ সময়ের। একটি বিদ্যুৎ, অন্যটি মশা। দুটি সমস্যারই একটা উপসংহার হয়ে গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমরা যখনই মানোন্নয়নের কথা বলি, তখন পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। কিন্তু একটি মৌলিক সত্য প্রায়ই আড়ালে থেকে যায় যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান শেষ পর্যন্ত অনেকটাই নির্ভর করে সেখানে কারা শিক্ষক হচ্ছেন এবং কার হাতে প্রতিষ্ঠানের
২ ঘণ্টা আগে
শিরোনামের বাক্যটি একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের বার্তা। একজন চিকিৎসকের কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা চেয়ে যারা হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েছিল, তারাই রাতে চেম্বার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেই চিকিৎসককে প্রহার করেছে এবং পরে বার্তা পাঠিয়েছে, ‘এখন কেমন লাগে?’
৩ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল ইসলামকে ‘বর্ষসেরা শিক্ষক’ হিসেবে একটা পুরস্কার দেওয়া যায় না? কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অনিয়মের কিছু গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কাগজে-কলমে পাকা হিসাব দিয়ে দক্ষ অর্থনীতিবিদের পরিচয় দিয়েছেন!
১ দিন আগে